দুটি কিডনিই নষ্ট, বাঁচার আকুতি বশিরের 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পরিবারের সুখের কথা চিন্তা করে ৭ বছর আগে সুদূর বাহরাইনে পাড়ি জমান মো. বশির আহম্মেদ। কিন্তু সেই সুখ বেশি দিন টিকেনি। প্রবাসে থাকাকালে তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে যায়। তাই তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়।

বশির আহম্মেদ চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৫নং উপাদী উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ উপাদী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিজির ছেলে। দুটি কিডনি নষ্ট হওয়ার কারণে বিদেশে থাকাকালে অর্জিত আয়ের সকল অর্থ চিকিৎসার পেছনে খরচ করেছেন। এরই মধ্যে বিক্রি করেছেন নিজের শেষ সম্বল ফসলি জমি। এখন শুধু বাড়িতে তিন ভাই মিলে তৈরি করা ঘরটির দুই রুমে কোনো রকম বসবাস করছেন।

এ অবস্থায় তার পরিবার ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার আশায় সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তাকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা হিসাব নং- ১৫১১১০০০১৭৩১৯ সোনালী ব্যাংক, মতলব শাখা, চাঁদপুর।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৫ সালে বশির আহম্মেদ বাহরাইনে কাজের সন্ধানে যান। কিন্তু তিনি তেমন আয় করার সুযোগ পাননি। ২০২২ সালের শেষের দিকে তার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে জানতে পেরে সহকর্মীরা তাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

কবির হোসেন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বশির বিদেশে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারেন তার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা এলাকাবাসী তাকে সহযোগিতা করার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছি। এছাড়াও তার যে ১২ শতাংশ জমি ছিল সেটি বিক্রিয় করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাকে আর্থিক সহায়তা করার জন্য আমি সবার কাছে অনুরোধ করছি।

বশির আহম্মেদের প্রতিবেশী মনির হোসেন মিয়াজী বলেন, আমাদের ভাতিজা বশির বিদেশে থাকত। বিদেশে থাকাকালীন তার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। যার কারণে সে দেশে চলে আসে। বর্তমানে তার চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। তাকে বাঁচাতে হলে ২৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষে এত টাকা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। সকলে মিলে যদি তাকে কিছু সহযোগিতা করেন তাহলে হয়তো সে বেঁচে থাকতে পারবে। তা ছাড়া আমরা তাকে সহযোগিতা করছি।

বশিরের মেয়ে সাইমা ইসলাম বলেন, আমি নবম শ্রেণিতে পড়ি। আমার বাবা বিদেশ ছিল। সেখানে বাবার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। পরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। তাকে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করতে হয়। এটি একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।

বশির আহম্মেদের স্ত্রী পুতুল বেগম বলেন, আমার স্বামী বিদেশে থাকাকালে তার দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। সেখানে ১ মাস চিকিৎসা নেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এছাড়া সেখানে চিকিৎসা নিতে অনেক টাকার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু টাকা না থাকায় তিনি দেশে ফেরত আসেন। বর্তমানে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহে তার দুইটি ডায়ালাইসিস করতে হয়। নতুন কিডনি স্থাপনের জন্য ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন। আমাদের পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। আমার স্বামীকে বাঁচাতে চাই। তাকে নিয়ে বাঁচতে চাই। তাই সকলের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চাচ্ছি।

মো. বশির আহম্মেদ বলেন, আমি প্রবাসে থাকাকালে অসুস্থ হয়ে পড়ি। দিন দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দেশে ফেরত আসি। দেশে আসার পর চিকিৎসক জানান আমার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে ঢাকার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমার একটি জমি ছিল সেটি বিক্রয় করে দিয়েছি। জমি বিক্রয়ের ১০ লাখ টাকা আছে। আরও ১৪-১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। আমি বাঁচতে চাই। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীর কাছে আর্থিক সহযোগিতা চাই। আমাকে সহযোগিতা করলে স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান মেয়েটাকে নিয়ে বেঁচে থাকতে পাবর। আমার মেয়েটার ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আমাকে সহযোগিতা করুন।

৫নং উপাদী উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, বশির আহমেদ বাহরাইন থাকাকালে তার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি দেশে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে তার অর্জিত অর্থ ও সম্পদ খরচ হয়েছে। আমি সাধ্যমতো তাকে সহযোগিতা করেছি। তার কিডনি স্থাপন করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই তাকে সবাই সহযোগিতা করলে হয়তো তিনি সুস্থ হয়ে আবারো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

মতলব দক্ষিণ উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা মো.রুহুল আমিন বলেন, বশির আহম্মেদ ৫০ হাজার টাকা সহযোগিতার জন্য আমাদের কাছে একটি আবেদন করেছেন। আমরা জেলা অফিসে পাঠাব। জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তার কাগজপত্রসহ সবকিছু দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শুভ্র সরকার বলেন, তিনি যদি আমাদের উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে থাকেন তাহলে তার কাগজপত্র দেখে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।

শেয়ার করুন: