নিরুত্তাপ জেলা পরিষদ নির্বাচন আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥

আজ ১৭ অক্টোবর নিরুত্তাপ চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনকে নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল প্রকাশ্য ও জমজমাট। কিন্তু সেই উত্তাপে ভাটা পড়ে সরকারদলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কারণে ।

আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা তাদের প্রার্থীকে ভোটের মাঠে রাখতে না পারায় অনেকটা হতাশা প্রকাশ করছেন। এমন উত্তাপহীন পরিস্থিতিতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দুইজন স্বতন্ত্র প্রাথী আজ ভোটের মাঠে লড়াই করছেন ।

জানা গেছে, নির্বাচনের মাঠে টিকে থাকা দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রশাসক ওসমান গণি পাটওয়ারী আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে সমর্থনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন। এতে তিনি দলীয় সমর্থন না পেলেও থেমে যাননি । তিনি অবিরাম ছুটে চলেছেন ভোটারদের পেছনে । আজ নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তিনি সর্বোচ্চ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে ভোটারা জনিয়েছেন । এদিকে অন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রবাসী ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন প্রধানীয়াও শেষ পর্যন্ত মাঠে দিকে আছেন ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক নেতা বলছেন, প্রবাসী ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন প্রধানীয়াকেও স্থানীয় এমপিরা সমর্থন দিয়েছে। এমন গুঞ্জনের সত্যতা পাওয়া না গেলেও ওসমান গণি পাটওয়ারী কচুয়ার বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরী বীরবিক্রমের মাধ্যমে মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলায় আওয়ামী লীগের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। যা ইতোমধ্যে গণম্যাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

অপরদিকে সরকার সমর্থিত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. ইউসুফ গাজীর মনোনয়নপত্র বাতিলে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে দলীয় প্রার্থীকে খুলনার আদালতে আত্মসমর্পণ করান এবং উচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রার্থিতা বহাল রাখার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সাজা মওকুফ করাতে সক্ষম হলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন নি।

বর্তমানে ভোটের সমীকরণ ও রাজনৈতিক মেরুকরণে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রশাসক আলহাজ ওসমান গণি পাটওয়ারী সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে ভোটাররা বলছে। ভোটারদের দাবি, এই প্রার্থী দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করায় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থন নিয়ে গত নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্রভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন যথাযথভাবে।

অপরদিকে প্রবাসী ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন প্রধানীয়া ভোটের মাঠে জানান দিতে সরকার সমর্থিত জনপ্রতিনিধিদের লিয়াজোঁ করার শেষ চেষ্টা করেন । তবে চাউর আছে এই প্রার্থীর আর্থিক সামর্থ্য ভোটের ফলাফলে কম-বেশি প্রভাব ফেলতে পারবে না।

তবে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ নির্বাচন বর্জন করলেও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনকে পর্যবেক্ষণে রাখছে দলটি। এক্ষেত্রে বিএনপির পদবিধারী কেউ কেউ সদস্য পদে মাঠে সক্রিয় থেকে নির্বাচন করছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনে অযোগ্য হওয়ায় দলটির সমর্থকদের মাঝে এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির পরিবেশ তৈরি হয়। পরিস্থিতি হতে দ্রুত উত্তরণের জন্য জেলা আওয়ামী লীগ নির্বাচন নিয়ে কোনো মন্তব্য করছে না। এখন দর্শক হিসেবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে।

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনটি ইভিএম (ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিন) পদ্ধতিতে হবে। নির্বাচনে মোট ভোটার ১ হাজার ২৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯৭৪ জন ও নারী ২৯৯ জন। রিটারিং কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইতোপূর্বে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ৮ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৩ জনসহ মোট ১২ জন প্রার্থী নির্বাচিত হবেন।

শেয়ার করুন: