২০২৩ সালে বইগুলো পরীক্ষামূলক সংস্করণ হিসেবে চালু করেছি : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বলেছেন, বই নিয়ে সমস্যা আছে,সমস্যা থাকবে। সেই সমস্য দূর করবার চেষ্টা আছে কিনা সেটিই হলো বড় কথা। অনেক সময় আমাদের পাঠ্য পুস্তক ছাপার সময় নানা রকম ভুল-ভ্রান্তি হয় ।অনেক সম্পাদনা করা হয় । তারপরেও কিছু ভুল থেকে যায়। ভুল সমাধান করে তারপরে সেই সংশোধনীয় বইগুলো তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক সমাবেশে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন , আমরা ২০২৩ সালের জন্য যে বইগুলো তৈরি করেছি সেই বই দিয়ে প্রাথমিকের প্রথম ও ২য় শ্রেণী এবং মাধ্যমিকে ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে। এই বইগুলো নতুন বই।সেই বইগুলো আমরা ২০২২ সালে পাইলটিং করেছি। তারপরেও আমরা শিক্ষা ব্যবস্থায় যে রূপান্তর ঘটাচ্ছি তাতে শিক্ষাক্রমগুলোতে আগের তুলানায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। আমরা কিভাবে পড়াচ্ছি, কিভাবে মূল্যায়ন হবে।এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এখন। সে জন্য ২০২৩ সালেও উল্লেখিত শ্রেণীতে বইগুলো পরীক্ষামূলক সংস্করণ হিসেবে যাবে। তাই সারা বছর আমরা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে আবারও প্রতিক্রিয়া নেব । ২০২৪ সালে যে বইগুলো যাবে সেখানে পরিমার্জন, সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন যা দরকার তা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে বইয়ে অনেক ভুল ছিল আমরা সেগুলো অতিমারির সময় অনেক কাজ করে সংশোধ করেছি। যে কারণে ২০২২ সালে তেমন ভুল ছিল না। এ বছর আশা করছি তেমন ভুল হবে না। যদি হয় তাহলে ,আমরা সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করার চেষ্টা করব।

দীপু মনি বলেন,আমি আবারো বলছি ২০২৩ সালে বইগুলো পরীক্ষামূলক সংস্করণ হিসেবে যাচ্ছে। আমরা নতুন শিক্ষক্রম নিয়ে দেশব্যাপী শিক্ষকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আবার যারা প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করবেন, সেই প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এখনো চলছে। আর এই প্রশিক্ষণ চলছে অনলাইনে। যারা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন তারা যখন নতুন বই পেয়ে পাঠদান করবেন প্রথম ৫দিন তাতে ভুল ত্রুটি সমস্যাগুলো দেখবেন। বন্ধের দুইদিন সেগুলো আবার শিখে নিবেন। এই ভাবে তারা এগিয়ে যাবেন। শিক্ষাকরা কিভাবে ক্লাশ নিবেন সে বিষয়ে আমরা একটি গাইড লাইন দিয়েছি। শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন হওয়ার কারণে শিক্ষকদের ভূমিকায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এ কারণে তারা ৫ দিন ক্লাশের পর দুইদিন প্রশিক্ষণ পাবেন। অনেকের ধারণা ছিল অনলাইনে ভাল প্রশিক্ষণ হয়না, কিন্তু এখন সেই ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। আমরা সরাসরিও প্রশিক্ষণ দিব, তবে বেশি দূরে যেতে হবে না। সর্বোচ্চ উপজেলা পর্যায়ে এসে তাদের প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সাংবাদিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটোয়ারী চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি রহিম বাদশা প্রমুখ।

শেয়ার করুন: