অবৈধ ইটভাটা বন্ধে সহসাই অভিযান : জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সমন্বয় সভা রোববার (১৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে বিগত মাসের সিদ্ধান্ত সমূহ এবং অগ্রগতিসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক তথ্য তুলে ধরা হয়।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ তাঁর বক্তব্যে বলেন, শীতের মৌসুমে ইটভাটা চালু হচ্ছে।এ জেলায় প্রায় শতাধিক ইটভাটা অবৈধভাবে আছে। এই অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রতিটি ইটভাটায় যেন অভিযান চালানো হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর না পারলে জেলা প্রশাসনের সাপোর্ট নিয়ে সেগুলো বন্ধ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, যেসব ইটভাটা অবৈধ ভাবে চলছে তাতে আমাদের পরিবেশ যে পরিমাণ দূষণ হচ্ছে এবং মাটির যে ক্ষতি হচ্ছে। এত ইটভাটা আমাদের প্রয়োজন আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, শহরের যানজটের মাত্রা বেড়ে গেছে। রাত ৮ টার পর থেকে পরের দিন সকাল আটটা পর্যন্ত শহরে ট্রাক ঢুকবে। দিনের বেলায় কোন ট্রাক ঢুকতে পারবে না। আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে। রেজিস্ট্রেশন বিহীন অবৈধ সিএনজি’র বিরুদ্ধে বিআরটিএ’র মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে। যাত্রীবাহী নৌযান ও যানবাহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে কিনা তা দেখা হবে এবং মোবাইল কোর্ট চলবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী সহনীয় পর্যায় রাখার জন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে।

করোনা টিকার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ফাইজারের টিকা এসেছে। ১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স শিক্ষার্থীদের আমরা টিকা দেওয়া শুরু করব। এর জন্য আমরা একটি টিকা কেন্দ্র সিলেক্ট করেছি। এক্ষেত্রে আমরা আলামিন স্কুল এন্ড কলেজকে ঠিক করা হয়েছে। এর জন্য এখানে এসির ব্যবস্থা করা হয়েছে।স্কুল সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডাঃ জেআর ওয়াদুদ টিপু তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি ৬টি টিকা বুথের জন্য ৬টি এসির ব্যবস্থা করে দেয়ায় জেলা প্রশাসক তাকে ধন্যবাদ জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের মন্ত্রী মহোদয় যদি সময় পান তাহলে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দ্বারা করোনা টিকা দেয়া শুরু করা হবে। প্রথম দিন ২ শ’ জনকে দেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন মেলা ও ওয়াজ মাহফিল সম্পর্কে কেবিনেটকে জানানো হয়েছে। আরো কিছুদিন অপেক্ষা করার জন্য বলেছে। কোভিড পরিস্থিতি দেখে তারা সিদ্ধান্ত জানাবে বলেছে।

ইউপি নির্বাচন বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন,অন্যান্য জেলার তুলনায় চাঁদপুর সদরে সুষ্ঠু সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে। এখানে জনগণ ভোট দিতে পেরেছে, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়েছে।

তিনি বলেন,ছোটখাটো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে এই নির্বাচন নিয়ে। আমরা নির্বাচনের আগেই সমন্বয় সভা করি এবং তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় আমরা তৈরি করেছিলাম। অনেক জায়গায় চেষ্টা হয়েছে নির্বাচনের ফলাফল যাতে কেন্দ্রে না আসতে পারে, ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার যাতে রেখে যেতে হয়। সেই চেষ্টা সফল হয়নি।অনেকটা সফলভাবে এ নির্বাচনকে তুলে আনতে পেরেছি।
এজন্য তিনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সহ অন্যান্যদের ধন্যবাদ জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, আগামীতে যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আছে, সেগুলো যাতে সুস্থ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে করা যায় সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, জহিরাবাদ,ফতেহপুর ও এখলাশপুর ইউনিয়নের সীমানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে এখানে নির্বাচন করার উপযোগী পরিবেশ আছে কিনা।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ, নৌ- পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর পৌর মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, শাহরাস্তি পৌর সভার মেয়র আব্দুল লতিফ, কচুয়া পৌরসভার মেয়র নাজমুল আলম স্বপন,জেলা নির্বাচন অফিসার তোফায়েল হোসেন, পাসপোর্ট অফিসে সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারী, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইছাহুরুল্লাহ, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক গোপাল চন্দ্র সাহা প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কমিটির সদস্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেয়ার করুন: