আমাকে বহিষ্কারের অগঠনতান্ত্রি ও অসাংগঠনিক ঘোষণা প্রত্যাহার করুন:মো:সেলিম খান

॥ বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম খান। রোববার (৫ জুন) দুপুরে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় লিখিত বক্তব্যে সেলিম খান বলেন, অতীব দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আজ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন গণমাধ্যমের সংবাদে দেখতে পাই আমাকে চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে আজীবনের জন্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল মহোদয়ের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমগুলোতে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে কি কারণে আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো তার কোন কারণ উল্লেখ নেই। সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক ও অসাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় আমাকে আজীবন বহিষ্কার করার যে কথা প্রচার করা হয়েছে এতে আমি চরমভাবে মর্মাহত এবং হতাশ। পাশাপাশি জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এমন বৈরীতা ও ব্যক্তি আক্রোশের কারণে আমার হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। কারণ, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউকে দল থেকে বহিষ্কার/অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের রয়েছে। এমনকি কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়া কাউকেউ দল থেকে বহিষ্কার কিংবা অব্যাহতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি দাবি করে বলেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ব্যক্তি স্বার্থে ঈর্ষান্বিত ও রাগের বশীভূত হয়ে যে ঘোষণা দিয়েছেন তা হাস্যকার ও অগ্রহণযোগ্য। তাছাড়া গতকাল ৪ জুন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় আমার বহিষ্কার নিয়ে কোনো ধরণের আলোচনা হয়নি, ছিলো না কোন এজেন্ডা। সভা সমাপ্ত হওয়ার পর কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সামনে ঘোষণা করা হলো আমাকে দল থেকে আজীবনের জন্যে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সেলিম খান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেগড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্যে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাওয়া এই আমাকে কি কারণে বহিষ্কার করা হলো? আমার অপরাধ’ই বা কি? আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আমি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করছি, অবিলম্বে আমাকে আজীবন বহিষ্কারের অগঠনতান্ত্রি ও অসাংগঠনিক ঘোষণা প্রত্যাহার করুন। আসুন, আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রেখে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিন্তকল্পে আমরা নিজেদের মধ্যকার ব্যক্তিস্বার্থ ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ভুলে সবাই একযোগে সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি। আমার এই আহ্বানের পরও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যদি তাদের অসাংগঠনিক ও অগঠনতান্ত্রিক ঘোষণা প্রত্যাহার না করেন তবে এ ব্যাপারে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌসসহ স্থানীয় ও জাতীয় গনমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকবৃন্দ।

বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরশাদ মিজি, সহ-সভাপতি ইউনুছ শেখ, ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক জহির হাওলাদার প্রমূখ।

এরআগে শনিবার চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট এবং গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপ, দলের দুর্নামকরাসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বহিস্কারের ঘোষণা দেন দলীয় সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ।

শেয়ার করুন: