আমাদের জেনারেশন পড়াশোনার অনেকখানিই শিখেছি পত্রিকা পড়ে:শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পাঠকপ্রিয় দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিনের এক যুগ পদার্পণ উপলক্ষে গতকাল ৩০ নভেম্বর মঙ্গলবার পত্রিকার লেখক সুহৃদ সম্মাননা, কোভিড-১৯ এ বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননাসহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির হাত থেকে সম্মাননাপ্রাপ্তরা সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন।

চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের উন্নয়নের রূপকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চার চারবারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।

চাঁদপুর পেসক্লাবের সভাপতি এবং পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ইকবাল হোসেন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীসহ নানা কারণে আমরা একটি মাহেন্দ্রক্ষণ পার করছি। এই সময়ে চাদপুর প্রতিদিনের এক যুগ পদার্পণ উপলক্ষে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাই।

পত্রিকা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, পত্রিকা বস্তুনিষ্ট হবে। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য দিবে। নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে- সবই চাই। আবার একই সঙ্গে পত্রিকার লেখার ভালো মানও চাই। শুদ্ধ বানান এবং বাক্য গঠন সঠিক হোক। কারণ, আমাদের জেনারেশন পড়াশোনার অনেকখানিই শিখেছি পত্রিকা পড়ে। ভাষার অনেক কিছু রপ্ত করেছি পত্রিকা পড়ে।

তিনি বলেন, চাঁদপুরে অনেকগুলো পত্রিকা। তবে সব পত্রিকা এক মানের নয়। কোন কোন পত্রিকা আছে যার চেহারা দেখার মতো না। বানান, বাক্য গঠনেও ভুল থাকে। এমন যেন না হয়। চাঁদপুর প্রতিদিন সেই ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রমী। চাঁদপুর প্রতিদিন পড়লে সেরকম আশংকা জন্মে না। পত্রিকার মান ও চেহারা ভালো। পত্রিকাটির বস্তুনিষ্ঠতাও আছে। এরকম একটি ভালো পত্রিকা বের করতে হলে একটু পাগল লোকের দরকার হয়। সেই লোকটি আমার ছোট ভাই ইকবাল। সে খুব ভালো করছে। আগামীতে আরও ভালো করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। চাঁদপুর প্রতিদিনের সকল সাংবাদিক ভাই-বোনের প্রতি শুভকামনা রইলো।

তিনি বলেন, সারাবিশ্ব একটি দুর্যোগময় সময় পার করছে। এখন করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন আতংক ছড়াচ্ছে। কারণ এটি একটি বিধ্বংসি ভাইরাস। এ ভাইরাস মানুষকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করার এমনকি মেরে ফেলার ক্ষমতাও রয়েছে। অতএব আমাদের খুব সাবধান হতে হবে।

তিনি বলেন, এখন অধিকাংশের মুখেই মাস্ক দেখা যায় না। অনেকেই ঠিকমতো মাস্ক পড়ছেন না। তাই আমাদের সবার আবাই ঢিলেমি ঝেটিয়ে বিদায় করে স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে যেতে হবে। আমি আপনাদের কাছে আবেদন করি, ২ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা। এই পরীক্ষা আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসএসসি পরীক্ষা হলো প্রথম গুরুত্বপূর্ণ এবং এইচএসসি পরীক্ষা হলো তার পরের বিরাট গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই পরীক্ষার পরই তারা জীবনে উচ্চ শিক্ষায় কোথায় যাবে সেগুলো সব ঠিক করে। কাজেই এই পরীক্ষাটি সবার জন্য একটি বড় মাইলফলক। সেই পরীক্ষাটি যেন এই সংক্রমণের জন্য কোনভাবে বাধাগ্রস্ত না হয় সবাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবো। যেন আমাদের সংক্রমণ না বাড়ে। যেন এমন অবস্থা না হয় যে পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে হয়।

তিনি বলেন, অবশ্যই শেখ হাসিনা নেতৃত্বধীন সরকার কখনোই মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেবে না এটি হতেই পারে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষাই অগ্রাধিকার পাবে। সঙ্গে জীবন-জীবিকা, পড়ালেখা সবকিছু চলবে। কিন্তু স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জীবনরক্ষা সেটি নিশ্চই এক নম্বর অগ্রাধিকার। তাই আমাদের গাফিলতির কারণে, মাস্ক না পড়ার কারণে সংক্রমণ যেন বেড়ে না না যায়। জেনে শুনে স্বাস্থ্য বিধি না মানার মতো অবহেলা অপরাধ। কারণ, স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে অবহেলার কারণে আপনার নিজেকে, আপনার আপনজনকে, আপনার পরিবার, প্রতিবেশিকে, দেশকে আপনি বিপদের মুখে ফেলছেন। দয়া করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। যথা সম্ভব নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।

তিনি আরও বলেন, সভা-সমাবেশ আবারও হয়তো কমিয়ে দিতে হবে। অনেক বেশি লোক সমাগম করে সভা-সমাবেশ মনে হয় না এখন আর চালু রাখা যাবে। কাজেই আমরা সুস্থ থাকি, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখি। করোনার মধ্যেও আমরা খুব ভালো করছি। সারাবিশ্বের করোনার মধ্যে আমরা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি সেই জায়গা থেকে আমরা যেন পিছিয়ে না যাই। এটি আমাদের দায়িত্ব।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জন্য অসাধ্যকে সাধন করেছেন। আমাদের অবহেলার কারণে সেটি হারিয়ে যেতে না দেই।
তিনি আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি মানুষের কথা ভাবেন। হোক সে চরের কিংবা হাওড়ের বা পাহাড়ের।
সন্ধ্যাকালীন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, পৌরমেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটোয়ারী, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের বিশিষ্টজনরা।
এর আগে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত, গীতাপাঠ, জাতীয় সঙ্গীত ও দেশাত্মবোধক গানের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পত্রিকার বার্তা সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস ও হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফারজানা ইয়াসমিন কুমকুমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুহম্মদ ইব্রাহিম রনি। পরে সম্মননা প্রাপ্তদের ফুল ও উত্তরিয় দিয়ে বরণ করে নেন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকসহ সংবাদকর্মীরা। পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির হাত থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন পত্রিকার লেখক, সুহৃদ হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্ত ৮ বিশিষ্টজন এবং করোনা সংক্রমণরোধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ৭ জন।
করোনা সংক্রমণরোধে বিশেষ অবদানে সম্মাননা দেয়া হয় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক জে. আর. ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুর পৌরপৌর মেয়র, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্যাহ, চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদা বেগম পলিনকে।
লেখক সুহৃদ হিসেবে যাঁদের সম্মাননা দেয়া হয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃতী সন্তান মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ও মতলবের কৃতী সন্তান জেসমিন সুলতানা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জনপ্রিয় প্রকল্প “গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রচার কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ” শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক চাঁদপুর সদর উপজেলার কৃতী সন্তান ওমর ফারুক দেওয়ান, চাঁদপুরের কৃতী সন্তান দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিনের সম্পাদক সাংবাদিক রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ, উদয়ন শিশু বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সাইদা আক্তার, শিল্পচুড়া সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান সেলিম, লেখক ও শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ নাদিম ভুইয়া, প্রকৌশলী আলী হায়দার।
এ অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নায়েমের সাবেক মহাপরিচালক ড. লোকমান হোসেন, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, চাদপুর সরকারি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর মো. আবুল খায়ের সরকার প্রমুখ।
সবশেষ অনুষ্ঠানের সভাপতি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ইকবাল হোসেন পাটোয়ারীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হবে।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *