আরও উন্নত বাংলাদেশের জন্য আবার শেখ হাসিনাকে ভোট দিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

মাসুদ রানা ॥

চাঁদপুর স্টেডিয়ামে সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা:দীপু মনি এমপি বলেছেন, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, যার নেতৃত্বে আমাদের গড় আয় বেড়েছে, সে হলেন বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে আমাদের সকলের জীবনমান উন্নত হয়েছে। আজকে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। প্রত্যেকটি শিশু বছরের প্রথমদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পায়। প্রতিটি অঞ্চলে অঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিক বসানো হয়েছে। আজ কারও খালিগায়ে থাকতে হয়না। আজ কারো কুড়ে ঘর নেই, অন্তত পক্ষে একটি টিনের ঘর আছে। যেকজন ভুমিহীন, জমিহীন ছিলো। মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের ঘর দেয়া হচ্ছে। এখনো বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংগে তুলনা করলে আল্লাহর রহমতে আমরা ভালো আছি। তিনি সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে আয়োজিতসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী সকলের কষ্ট বুঝেন। তাই আমাদের একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। গত ১৪ বছরে আমাদের নেত্রী দেশকে যে উন্নয়নের জায়গায় নিয়ে গেছেন, আরও উন্নত বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য আবার শেখ হাসিনা সরকারকে ভোট দিতে হবে। যারা অগ্নি সন্ত্রাস করেছে, যারা স্বাধীনতার বিরোধী, তাদের প্রশ্রয় দেয়া যাবেনা। তারা মানুষকে কোন কিছু দেয়নি । শুধু মানুষের কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। আর শেখ হাসিনা প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের জন্য প্রতিদিন কাজ করছেন।

তিনি বলেন, আগামী দিনে যদি আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে আওয়ামী লীগকে কোনভাবে পরাজিত করার শক্তি থাকবেনা। কারণ জনগণ আমাদের শক্তি। আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। জনগণের জন্যই আওয়ামী লীগ। আর জনগণের শক্তির উপরে আস্থা বিশ্বাস রেখেই শেখ হাসিনা কাজ করে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম দেওয়ান নাজিমের সভাপতিত্বে ও উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী এরশাদ মিয়াজী এবং পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রহমান বাবুলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

সম্মেলন উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রব ভুঁইয়া,ডাঃ জেআর ওয়াদুদ টিপু, শিক্ষা ও মানবকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েল প্রমুখ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ গাজী, কেন্দ্রীয় যুব লীগ নেতা এডভোকেট জাফর ইকবাল মুন্না, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী,জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড:জহিরুল ইসলাম, সাংগনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী,উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আজিজ খান বাদল, সাংগনিক সম্পাদক আইব আলী বেপারীসহ সদর উপজেলা , পৌর আওয়ামী লীগ এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মোঃ হাফিজুর রহমান। গীতা পাঠ করেন জগদানন্দ পন্ডিত দাস।

এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেছেন, যদি আপনারা মনে করেন পুরো চাঁদপুরই আমাদের দখলে আছে তাহলে আগামী নির্বাচনে জয় লাভ করা যাবে না। নির্বাচনের জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যেতে হবে। একটা কথা মনে রাখতে হবে করোনা মহামারিতে দুর্যোগ -দুর্বিপাকে পড়েছে। তার উপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সব মিলিয়ে বর্তমানে অর্থনৈতিক মন্দা যাচ্ছে এই অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বসে নেই । তিনি দেশবাসির কথা ভাবছেন। গরিব -দু:খীর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সফল রাস্ট্র নায়ক হিসেবে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন । বিশ্ব বাস্তবায়তার কারণে আজ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।আমি মানুষের কাছে বিনয়ের সাথে অনুরোধ একটু কষ্ট করুন, ধের্য্য ধরুন। এবং বিশ্বাস রাখুন। বঙ্গবন্ধুর কণ্যা রাজনীতি করেন মানুষের মুখে হাসি ফুটাবার জন্যে । তিনি মির্জা ফখরুল, রিজভীদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যেও রাজনীতি করেন । বিএনপি’র নেতা রিজভীকে কখনো কেউ হাসতে দেখে নেই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তার মুখেও হাসি ফুটাবার চেষ্টা করছেন। সেই আমাদের স্বপ্ন ও লক্ষ্য, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। আমাদের কাজ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করা । দ্বিধা-দ্বন্ধ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে সুসংগঠিত করা।

তিনি আরও বলেন, দেশের অন্য জেলার তুলানায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে চাঁদপুরের মানুষ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে রয়েছে। তার মানে চাঁদপুর জেলায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব অনেক শক্তিশালী। এছাড়াও চাঁদপুর বঙ্গবন্ধুর শাসন আমল থেকে চাঁদপুরের কৃতি সন্তানরা বিভিন্ন মন্ত্রালয়ে মন্ত্রীত্ব করছেন।আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে চাঁদপুর থেকে একজন হলেও মন্ত্রী হয়। আপনারা জননেত্রী শেখ হাসিনা ভালবাসেন । তিনিও আপনাদেরকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালবাসেন। শুধুই নয়, যদি আপনাদের সন্তানরা যোগ্য না হতো তাহলে চাঁদপুরের একের পর এক নেতা-মন্ত্রী বানানো হতো না। সারাদেশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর টান যতটুকো আছে । তার চেয়ে আপনাদের চাঁদপুরের প্রতি একটু বেশিই রয়েছে। সেই চাঁদপুরের মানুষের কাছে আমার একটা আবেদন রয়েছে। একাধিক কেন্দ্রীয় এবং মন্ত্রী যে জেলায় রয়েছে সে জেলায় ২০০৮ সাল পর্যন্ত যে উন্নয়ন হয়েছে। তার চেয়ে বহুগুণ বেশি উন্নয়ন হয়েছে ২০০৯-২০২২ সাল পর্যন্ত। আপনারা কি? আগামী নির্বাচনে জননেত্রীর প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন না ? আজকের আয়োজন অনেক বড় হয়েছে। অনেক জেলা সম্মেলনও এত বড় হয় না। কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের চেয়েও চাঁদপুরে আজ এই সম্মেলনে মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। তাই বলে অহংকার করা যাবে না। তাই ভেবে নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো যাবে না। আল্লাহ পাক কোরআনে বলেছেন অহংকার করা যাবে না । যে ব্যক্তি অহংকার করে তাকে কেয়ামতের দিন আল্লাহ পাক তাকে ধূলিকণার মতো মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে। অতএব অহংকার করা যাবে না।

শেয়ার করুন: