কচুয়ার ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দী গলাকাটা লাশ উদ্ধার

কচুয়া প্রতিবেদক:

কচুয়ায় আবুল বাশার (৩৮) নামের এক ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি গলাকাঁটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার নিখোঁজ সে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পর পুলিশ তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে দাউদকান্দি থানা এলাকা থেকে।

নিহতের শ্যালক রবিউল জানায়, নিহত আবুল বাশার পৌর বাজারে ইকরা ভ্যারাইটিজ স্টোরের স্বত্বাধীকারী। প্রতিদিনের ন্যায় আবুল বাশার শনিবার (২ এপ্রিল) সকাল তাঁর ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে আসে। দুপুরে বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে তার নিজ বাড়ি কোয়া চাঁদপুরের হাজী বাড়িতে দুপুরের খাবার খাওয়ার উদ্দেশে দোকান থেকে বেড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানে ফিরে না আসায় দোকানের কর্মচারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে তার মোবাইলে ফোন দেয়। কর্মচারীরা তাকে না পাওয়ার বিষয়টি তার স্ত্রীকে জানায়।

এতে আত্মীয় স্বজনরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি শুরু করে। খোঁজ না পাওয়ায় শনিবার রাত ১০টা এ ব্যাপারে আবুল বাশারের পরিবারের পক্ষ থেকে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

পুলিশ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে খুঁজতে থাকে। পুলিশ অনুসন্ধ্যানে জানতে পারে বিকেল বেলা কচুয়া বাইপাস সড়কে কড়ইয়া গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে মৎস্য আড়তদার মুসা (২০) নামের এক মাছের আড়ৎ ব্যবসায়ীর সাথে তাকে দেখা যায়। কচুয়া থানা পুলিশ সেই সূত্র ধরেই শনিবার রাত ৩টায় কচুয়া বিশ^রোডে অবস্থিত মুসার মাছের আড়তে অনুসন্ধ্যান চালিয়ে আবুল বাশারের রক্তভেজা লুঙ্গি, গামছা ও বিছানার চাদরসহ দেওয়ালের বিভিন্ন স্থানে রক্তের চিহ্ন দেখতে পায়।

পুলিশ একাধিকবার আবুল বাশারকে কচুয়া থানায় নিয়ে আসার জন্য মুসার মুঠোফোনে অনুরোধ করে। রাত ১২টার পর মুসার ফোনে আর সংযোগ পাওয়া যায়নি। সেই সূত্র ধরেই কচুয়া থানা পুলিশ আশেপাশের সকল থানায় ব্যবসায়ীর নিখোঁজ সংবাদ ও ছবি পাঠিয়ে দেয়। কচুয়া থানা পুলিশ রবিবার বিকেল ৩টায় সংবাদ পায় দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর গ্রামে একটি বস্তাবন্দী গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে। সেই সংবাদের ভিত্তিতে কচুয়া ও দাউদকান্দি থানা পুলিশ ফিংগারফ্রিন্টের মাধ্যমে নিখোঁজ বাশারের মরদেহ শনাক্ত করে।

এদিকে নিহত বাশারের গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। আবুল বাশার কোয়া চাঁদপুর হাজীবাড়ির মৃত আঃ মান্নানের ছেলে। তার স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের দাবীতে স্থানীয় অধিবাসীরা বিক্ষোভ মিছিল করে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন জানায়, নিখোঁজ বাশারের লাশ উদ্ধার করে দাউদকান্দি থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লার মর্গে প্রেরণ করেছে। গোয়েন্দা পুলিশের একটি উর্ধ্বতন টিম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। তিনি আরো জানান, এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুসার আড়তের ম্যানেজার ও এক কর্মচারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published.