কচুয়ায় প্রথম দিন অফিস করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শিশির

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকার ঢাকার ধানমন্ডি থানায় দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক একটি আইসিটি মামলায় টানা ২ মাস ২৬ দিন কারাবরণ শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জামিনে বের হন দু’বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান শিশির।

পরে শনিবার সন্ধ্যায় অনেকটা নীরবেই তিনি ঢাকা থেকে নিজ গ্রামের বাড়ি কচুয়া উপজেলার জগৎপুর গ্রামে আসেন এবং সেখানে রাত্রি যাপনের পর রবিবার সকালে (২৮ নভেম্বর) তাঁর প্রয়াত বাবা মো. ছায়েদ আলী মিয়ার কবর জিযারত শেষে বেলা ১১টার দিকে কচুয়া উপজেলাস্থ সরকারি বাস ভবনে আসেন।

এ সংবাদ স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানতে পেরে বাস ভবনে দলীয় নেতাকর্মীরা ভিড় জমান। একে একে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীরা তাঁর সাথে কৌশল বিনিময়, শেলফি তুলেন এবং আনন্দে মিষ্টি মুখ করেন। দুপুরের জোহরের নামাজের পর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাজান শিশিরের সেই পুরনো ভাই-ভাই হোটেলে খাবার খেতে দেখা যায় অনেক নেতাকর্মীকে। পরে শাহজাহান শিশির দুপুর ২টার পর তাঁর কার্য়ালয়ে বসেন।

এর আগে চলতি বছরের গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় কর্তৃক শাহজাহান শিশিরের চেয়ারম্যান পদে সাময়িক বহিস্কারাদেশ অবৈধ ও বাতিল মর্মে রায় দিয়েছে বিজ্ঞ হাইকোর্ট।

জানা গেছে, কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কোটি টাকা ব্যয়ে ৬তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মানের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী নুরে আলম গত বছরের ১৯ জুলাই শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগে সহকারী প্রকৌশলী নুরে আলম বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি মামলা করেন। যার নং- ১০,তারিখ: ১৯.০৭.২০২০ খ্রি:।

পরবর্তীতে গত বছরের ২৩ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে মো. শাহজাহান শিশিরকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়। ওই মামলায় শাহজাহান শিশির একই বছরের ২৫ আগষ্ট চাঁদপুরের নিম্ন আদালতে জামিন চাইতে গেলে বিজ্ঞ আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। পরবর্তীতে তিনি টানা ৩ মাস ১২ দিন কারাবরনের পর কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পান।

এদিকে গত চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ মহানগর দায়রা জজ ঢাকা আদালতে হাজির হয়ে ধানমন্ডি থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা (আইসিটি) মামলায় স্থায়ী জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ বিচারক ইমরুল কায়েস জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরন করেন।

সব মিলিয়ে ঢাকা ও কুমিল্লায় পৃথক ভাবে শাহজাহান শিশির ৬ মাস ৮দিন কারাবরণ করেন।

কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির অবশেষে জামিনে মুক্তি পাওয়ায় কচুয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসব ও আনন্দ বিরাজ করছে।

কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো.শাহজাহান শিশির চাঁদপুর টাইমসকে বলেন,আমি কচুয়াবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। সাধারন মানুষ আমাকে এতো ভালোবাসেন, আমি জেলে না গেলে বুঝতে পারতাম না। আমি কচুয়াবাসীর প্রতি ঋনী।

তিনি আরো বলেন, জামিনের পর অনেকেই আমাকে বরন করার জন্য বলেছেন, কিন্তু আমি তা চাইনি। কেননা নেতাকর্মীরা শোডাউন করে আমাকে কচুয়ায় নিয়ে আসলে অনেকে মনে করবেন আমি এমপি কিংবা অন্য কিছু হতে চাই। যেখানে আছি ভালো আছি, আলহামদুলিল্লাহ। সবাইকে নিয়ে, সেখানে ভালো থাকতে চাই।

শেয়ার করুন: