খোলা টয়লেট, দুর্গন্ধে দরজা জানালা খুলতে পারছেনা একটি পরিবার

২০২২ সালের জনশুমারি রিপোর্টে জানা যায় খোলা টয়লেট ব্যবহারে দেশে শীর্ষে রংপুর জেলা আর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দেখা যায় এর বাস্তব একটি চিত্র।

শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৫ নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের মানুরী রাস্তার পাশে পাটোয়ারি বাড়ীর সামনে পুরান বাড়ীতে দীর্ঘদিন ধরে খোলা টয়লেট ব্যবহার করে আসছে ৭ টি পরিবার।

রমজান আলীর ৭ ছেলের সাতটি বসতঘরে একাধিক টয়লেট থাকলেও বাড়ীর সামনে পুরাতন খোলা টয়লেটটি আজও বন্ধ হয়নি। সেখানে বাড়ীর আত্মীয় স্বজনরা মাঝেমধ্যে আসলে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করেন রমজান আলীর ছোট ছেলে ফরিদ হোসেন।

এদিকে টয়লেটটির পাশে প্রবাসী মানিক খন্দকারের বসতঘর। যে ঘরের ভিতরে বসবাস করছেন তার স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে। গত প্রায় এক যুগ ধরে ময়লা দুর্গন্ধের কারনে বিল্ডিং এর দক্ষিণ পাশের দরজা জানালা খুলতে পারছেনা এ ভুক্তভোগী পরিবারটি।

যে কারনে পরিবারের তিন শিশু এক রকম প্রতিবন্ধী অবস্থায় আলাভোলা জীবন পার করছে।

প্রবাসী মানিকের স্ত্রী রুনু বেগম বলেন, তাদের খোলা টয়লেটের কারনে আমার বিল্ডিং এর দক্ষিণ পাশের জানালা খুলতে পারছিনা। যে কারনে রুমে আলো বাতাস প্রবেশ করতে না পারায় আমার ছোট তিন সন্তান এক প্রকার আলাভোলা অবস্থা হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে প্রচন্ড গরম সেইসাথে বিদ্যুৎ চলে গেলে আমরা যেন নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ইতিপূর্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ জানালেও কোন পদক্ষেপ দেখিনি।

প্রবাসী মানিকের বোন রহিমা বেগম বলেন, আমার ভাই ১৪ বছর ধরে এখানে বসবাস করে থাকতেছে। রমজান আলীর ৭ ছেলে যে কারনে আমার ভাই ও ভাবি প্রতিবাদ করতে পারছেনা।

প্রতিপক্ষ রমজান আলীর ছোট ছেলে ফরিদ ও শাহআলম এর স্ত্রী কুলসুম বেগম বলেন, মানুষের ঘরের ভিতরে টয়লেট থাকে সেখানে এ টয়লেট বাহিরে বহুবছর ধরে। তেমন কোন ব্যবহার হয় না। তাদের এক পরিবারের যত অযুক্তি কথা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলআমিন বলেন, আমাকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছে। উভয় পরিবারের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো।

ফরিদগঞ্জের ৫নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাজান পাটওয়ারী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তার পরেও উপজেলা স্যানেটারিং কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করবো।

শেয়ার করুন: