ঘুর্ণিঝড়ে চাঁদপুরে ৬ শতাধিক কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্থ

আনোয়ারুল হক:

ঘুর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে বাতাসের গতি বৃদ্ধি পেয়ে চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় প্রায় দুই হাজার গাছ ভেঙে উপড়ে পড়েছে। গাছ পড়ে এবং ঝড়ো হাওয়ায় হাইমচরের চরাঞ্চলে ৫শতাধিক ও চাঁদপুর সদর রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। চরাঞ্চলের ঘরগুলোর টিন ও বেড়া বাতাসে উড়ে নদীতে গিয়ে পড়ে। হাইমচর ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের আঃ ছোবহান (৫৫) নামে এক ব্যাক্তি গাছের ডালের নিচে পড়ে আহত হয়েছেন।

রোববার (১০ নভেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পযন্ত ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এই তান্ডব চালায়। বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরসহ জেলার ৮উপজেলার অনেকাংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

হাইমচর উপজেলা প্রশাসন জানায়, উপজেলার প্রায় সকল গ্রামেই প্রচুর পরিমাণে গাছ ভেঙে রাস্তায় ও ঘরবাড়িতে পড়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় বহু পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসি বেগম বলেন, প্রচন্ড বাতাসে হাইমচর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে হাওলাদার কান্দিতে ৩৮টিসহ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ঈশানবালা, মনিরপুরচর, গাজীপুর, নীলকমল, মাঝির বাজার, সাহেবগঞ্জ, চরকোড়ালিয়া, মাঝেরচর ও নতুন চরে প্রায় ৫শতাধিক কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া সড়কে বহুগাছ ভেঙে পড়ে। এসব গাছ তাৎক্ষনিক চাঁদপুর ও হাইমচর ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীয়দের সহায়তায় কেটে অপসারণ করা হয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানান, চাঁদপুর সিআইপি বেড়িবাঁধের সড়কে, বিদ্যালয়ে ও ঘরবাড়িতে প্রায় শতাধিক গাছ ভেঙে উপড়ে পড়েছে। স্থানীয় লোকজন এসব গাছ কেটে সড়ক থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

এদিকে শহরের পুরাণ বাজারে প্রায় ৮ থেকে ১০টি বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে। শহরের গুয়াখোলা রোডে গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুৎ তারের উপরে পড়ে । তার ছিড়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী বলেন, সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়া থাকলেও বিকেল ৩টার পরে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে গোয়ালনগর ও বলিয়ার চরে বহু কাঁচা ও অস্থায়ীভাবে উঠানে ঘর ভেঙে পড়েছে। ঐ সব ঘরের টিনের চাল ও বেড়া বাতাসে উড়ে নদীতে গিয়ে পড়ে।

চাঁদপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম.ইকবাল বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে বহু গাছপালা বিদ্যুতের তারের উপর পড়ে। গাছপালা কেটে অপসারণ করার জন্য বিদ্যু সংযোগ বন্ধ রাখা হয়।

জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে সরেজমিন দেখে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করার জন্য।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *