চাঁদপুরের কৃতি সন্তান ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (১৪ মে) ত্রিপুরার গভর্নর এসএন আরিয়ার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। বিধানসভা ভোটের এক বছর আগে হঠাৎ বিপ্লব দেবের ইস্তফা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা।

জানা গেছে, রাজভবনে বৈঠকের পর বিপ্লব দেব পদত্যাগের এ ঘোষণা দেন।

বিজেপির রাজ্যের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ‘গুজব’ উঠেছে। এর মাঝে তার পদত্যাগের ঘোষণা এলো। যদিও সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বিপ্লব দেব জানিয়েছেন, তাকে দলীয় সংগঠন আরও মজবুত করার দায়িত্ব দিচ্ছে দল।

২০১৮ সালের ৯ মার্চ প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন বিপ্লব দেব। প্রথমবার ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। মেয়াদ শেষের ১০ মাস আগেই হঠাৎ ইস্তফা দিলেন বিপ্লব দেব।

উল্লেখ্য : বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন চাঁদপুরের কচুয়ার কৃতি সন্তান বিপ্লব কুমার দেব। ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বিজেপি অভাবনীয় জয় পেয়েছে। তিনি রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দুই বছরের মধ্যেই দলটিকে ঐতিহাসিক বিজয় এনে দেন। তিনি নিজেও একটি আসন থেকে নির্বাচিত হন।

বিপ্লব কুমার দেব চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর পূর্ব ইউনিয়নের মেঘদাইর গ্রামের সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা-মা ত্রিপুরা চলে যায়। এরপর সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান তারা। তবে তার আত্মীয়-স্বজন অনেকেই এখনও কচুয়ায় বসবাস করেন। তার চাচা প্রানধন দেব কচুয়া উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি।

নির্বাচনে বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে বিজেপি ৬০টি আসনের মধ্যে ৪৩টি আসন পায়। বিপ্লব কুমার দেব নিজেও একটি আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি।

বিপ্লব দেব ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির দায়িত্ব পান ২০১৬ সালে ৭ জানুয়ারি। বিপ্লব দেব আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে বিপ্লব দেব ১৫ বছর দিল্লিতে ছিলেন। সেখানে তিনি একটি ব্যায়ামাগারের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। এবার ত্রিপুরার বনমালিপুর আসন থেকে লড়েছেন বিপ্লব।

ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির সভাপতি বিপ্লব দেব ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা দলটির সবচেয়ে কম বয়সী রাজ্য সভাপতি। এই যুব নেতা মাত্র দুই বছরের মাথায় ২৫ বছরের বাম শাসনের পতন ঘটিয়ে লাল থেকে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দিলেন ত্রিপুরাকে। অন্য অনেকের নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলোচনা থাকলেও সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বিপ্লব দেব। তার হাতেই ত্রিপুরার ভার সঁপে দেয়া হতে পারে।

বিপ্লব আরএসএসে থাকায় কখনও অন্য কোনো দলের প্রতি আকৃষ্ট হননি। সেটা মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিপ্লবের ওপর আস্থা রাখেন। সেই আস্থার প্রতিদানে দলকে রাজ্যের ক্ষমতায় আনার পেছনে কাজ করেছেন তিনি। এর আগে বিপ্লব দিল্লি ও মধ্যপ্রদেশের বিজেপির হয়ে কাজ করেছেন।

বিপ্লবের আগে ত্রিপুরায় দলের নেতৃত্বে ছিলেন সুধীন্দ্র দাশগুপ্ত। অনেক বছর বিজেপির রাজ্য সভাপতি ছিলেন তিনি। তবে বিপ্লবের সভাপতি হওয়ার পর বিজেপির বিজয়ের দিকে গেরুয়া দৌঁড় শুরু হয়। এবারের ভোটে ত্রিপুরার বনমালিপুর আসন থেকে লড়েছেন বিপ্লব। এ আসনটি ছিল কংগ্রেসের। বিপ্লবের স্ত্রী নীতি দেব পাঞ্জাবের মেয়ে। দিল্লিতে দুজনের বিয়ে হয়।

শেয়ার করুন: