চাঁদপুরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অবহিতকরণ সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

চাঁদপুরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এর আওতায় জেলা পর্যায়ে অবহিতকরণ সেমিনার জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস দপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ হল রুমে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইলিশের গুরুত্ব বিবেচনায় জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। আমরা চাইছি ইলিশের উৎপাদন কোনভাবেই বাঁধাগ্রস্থ না হউক।জেলে ও জনগণ সচেতন না হলে প্রশাসনের পক্ষে ইলিশ রক্ষা সম্ভব নয়।সেজন্য নিজ দায়িত্ববোধ থেকে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে ইলিশ সম্পদের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা চাই।

তিনি আরো বলেন,ইলিশরক্ষায় সরকারের নির্দেশনা মেনে চললে দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। জেলেদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। ৫১ হাজারের পরিবর্তে ৪০ হাজার জেলেরক চাল দেয়া হচ্ছে । আমি এ ব্যপারে মন্ত্রনালয়ে জানিয়েছি। মৃত ও পেশা পরিবর্তন কারী জেলেদের তালিকা হালনাগাদ চলছে। কে নদীতে জেলে নামান তাদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি করছি। যারা পেছনে থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, জনগনকে সচেতন হতে হবে। ৭০ কিলোমিটার এলাকা প্রশাসনের একার পক্ষে পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়।ইলিশ রক্ষায় তথ্য দিয়েছে সাংবাদিকরা।তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক মোঃ জিয়া হায়দার চৌধুরী,বিভাগীয় উপ পরিচালক কুমিল্লা আব্দুস সাত্তার,চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন সিকদার, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশান কমান্ডার লে. মাশহাদ উদ্দিন নাহিয়ান, প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের সহকারী পরিচালক মোঃ শামসুল আলম পাটওয়ারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মেহেদী হাসান।

সেমিনারের শুরুতে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ নামে স্বরচিত কবিতাটি পাঠ করেন লেখক ও ছড়াকার ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া। চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী মৎস কর্মকর্তা মাহবুব রশীদের সঞ্চালনায় উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন জেলে প্রতিনিধি মালেক দেওয়ান, মানিক দেওয়ান, মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ওমর আলী প্রধান প্রমুখ।
সেমিনারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ ও প্রশাসন সুদীপ্ত রায়, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বারী জমাদার মানিক,রাজরাজেশ্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারীসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের দপ্তর প্রধান, জনপ্রতিনিধি,ডিবি পুলিশ,জেলে প্রতিনিধি, মৎস্যজীবী, জেলে নৌকার মালিক ও প্রকল্পের সুফলভোগী সদস্যবৃন্দ। কর্মশালায় বক্তারা ইলিশ সম্পদের গুরুত্ব এবং ব্যবস্থাপনা কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

সেমিনারে জানানো হয়, দেশের জিডিপিতে ইলিশের আবদান এক শতাংশের বেশি। বিশ্বে মোট আহরিত ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশে পাওয়া যায়, যার পরিমাণ বছরে সাড়ে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন। ইলিশ আহরণের সাথে দেশের পাঁচ লাখ মানুষ সরাসরি এবং ২০ লাখের বেশি মানুষ পরোক্ষভাবে জড়িত। ইলিশের উৎপাদন ২০২৫ সাল নাগাদ ১৬ শতাংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে সরকার দুইশত ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ২৯ জেলার একশত ৩৪টি উপকূলীয় উপজেলায় ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর আওতায় চাঁদপুরসহ দেশের ২৯টি জেলার ১৩৪টি উপজেলায় ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে সরকার ঘোষিত ২২ দিন মা ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে ৩২১৬ টি মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন হবে।

শেয়ার করুন: