চাঁদপুরে কিডনি ডায়ালিসিস সেন্টার চালু হচ্ছে

আনোয়ারুল হক:

চাঁদপুরের মানুষের জন্য আরো একটি আনন্দের সংবাদ যোগ হচ্ছে। আর তা হচ্ছে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি কিডনি ডায়ালিসিস সেন্টার চালু হতে যাচ্ছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে চতুর্থ তলায় এর প্রাথমিক স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সভাপতিত্বে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভা তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

এই কমিটির সহসভাপতিও জেলা প্রশাসক। সকাল সাড়ে ১০ টায় সভা শুরু হওয়ার প্রথমেই জেলা প্রশাসক বিষয়টি উপস্থিত সদস্যের সামনে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, সারা দেশে ৪৪ টি জেলায় এই কিডনি সেন্টার করা হবে। তার মধ্যে চাঁদপুরও রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি হাসপাতালের তত্তাবধায়কের কাছে পাঠালে আমরা কমিটির লোকজন জানতে পারিনি। তিনি সেখানে ৩ জনের মতামত নিয়েই ওই চিঠির উত্তর অধিদপ্তরের কাছে পাঠিয়ে দিলে সে উত্তরটি অধিদপ্তর সন্তোষজনক মনে করেনি। পরবর্তীতে অধিদপ্তর হাসপাতাল তত্তাবধায়ককে জানিয়ে দেন যে, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি নামে যে কমিটি আছে ২১ সদস্য বিশিষ্ট, সে কমিটিকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে জানিয়ে সভা করে একটি সিদ্ধান্ত নিন। আর ওই কমিটির সভাপতি হলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।

জেলা প্রশাসক বলেন, তত্তাবধাক বিষয়টি আমাকে জানানোর পর আমি বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীকে জানালে তিনি, তড়িৎ সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন। জেলা প্রশাসক সভায় বিষয়টি ওপেন আলোচনা করতে দিলে কমিটির উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভার মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, শিক্ষামন্ত্রীর চাঁদপুরস্থ বিশেষ প্রতিনিধি এড. সাইফুদ্দিন বাবু, গণপূর্ত নির্বাহীসহ প্রায় সকল সদস্যই কিডনি ডায়ালিসিস সেন্টারটি ২৫০ সয্যা হাসপাতালের তৃতীয় তলায় স্থাপনে একমত পোষণ করেন। সে ক্ষেত্রে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ক্লাসরুম কক্ষে এটি স্থাপন করার সম্মতি প্রকাশ করেন।

সভায় সদস্যরা বলেন, মেডিকেল কলেজের ক্লাসগুলো উপরে ৫ তলায় সিফট করে সেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাসগুলো সম্পন্ন করবে। এতে প্রথমতঃ উপস্থিত চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ একটু বেঁকে বসলেও পরে তিনি একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, কমিটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার সাথে আমি একমত। তবে ডায়ালিসিস সেন্টার করতে গিয়ে যেন মেডিকেল কলেজের ক্ষতি না হয়, সেদিকে সবাই খেয়াল রাখবে।

মেয়র জিল্লার রহমান জুয়েল, বিষয়ট আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল এই কিডনি ডায়ালাসিস আমাদের নতুন একটা সম্পদ। এটিকে আমাদের যেকোন মূল্যেই করতে হবে।

উপস্থিত এই কমিটির সদস্য সচিব হাসপাতালের তত্বাবধানক মোঃ হাবিব উল করিম বলেন, গণপূর্ত বিভাগ এটি দেখে ঠিক করে দিলে আশা করি কোন সমস্যা হবে না। সভায় বিএমএর সভাপতি ডা. নুরুল হুদা, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ইলিয়াছ, কমিশনার ফরিদা ইলিয়াস, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মনিরসহ অন্যান্য এ বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

সভায় সবার কথা শুনে জেলা প্রশাসক সবার সম্মতিক্রমে এই কিডনি ডায়ালিসিস সেন্টার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চতুর্থ তলায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজুলেশন করে তা অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য কমিটির সদস্য সচিব হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী তথা কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি এমপি মহোদয়ের সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে অনেক আগ্রহী এবং আন্তরিক। নিজ থেকেই খোঁজ নেন। চাঁদপুরের জন্য এটি চরম সৌভাগ্যের।

এদিকে এই প্রকল্পের পরিচালক ডা. ইউনুসের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আপনাদের ডিসি সাহেবের সাথে আমার আলাপ হয়েছে। আশা করি, রেজুলেশন তথা সিদ্ধান্ত এলেই আমাদের কাজটি করতে একেবারই সুবিধা হবে। তিনি আরও বলেন, এই ডায়ালাইসিস সেন্টারটি ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অভ্যন্তরেই হতে হবে। এটিই নিয়ম।

উল্লেখ্য, এর আগে ডাঃ দীপু মনির প্রচেষ্টায় হাসপাতালে হাইফ্লো সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট, করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনসহ স্বাস্থ্যসেবায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হয়। এর ফলে জেলাবাসী ও এর আশপাশের মানুষজন উপকৃত হন।

Recommended For You

About the Author: News Room

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *