চাঁদপুরে টিকা নিতে মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

করোনা টিকার প্রথম ডোজ বন্ধের আশঙ্কায় চাঁদপুরের টিকা কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। ঠেলাঠেলি আর হুড়োহুড়িতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। টিকা প্রত্যাশীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা স্বাস্থ্যকর্মী ও ভলেন্টিয়ার দায়িত্বে থাকা যুব রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের ।

শনিবার সকাল থেকেই করোনার গণটিকা কর্মসূচিতে চাঁদপুর সিভিল সার্জন টিকা ভবনে এবং ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রে মানুষের ঢল নেমেছে। শহরের এ দুটি কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা মানুষের মধ্যে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে হুড়োহুড়ি ও মারামারির ঘটনাও হচ্ছে। মানুষের ঢল নামায় প্রচন্ড রোদ ও গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

চাঁদপুর জেলায় ৯১ হাজার ৮০০ মানুষকে করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে ২৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল থেকে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। টিকা পেতে আগে থেকে কোনো ধরনের নিবন্ধন বা কাগজপত্র লাগছে না। জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, এমন ব্যক্তিরাও এদিন টিকা কেন্দ্রে এসে টিকা নিতে পারছেন। এ সময় তাদেরকে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে টিকা কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, সন্ধ্যার পর হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকা দেওয়া বন্ধ রাখায় অতিরিক্ত চাপ পড়ে সিভিল সার্জন কার্যালয় টিকা ভবনের সামনে। এ সময় অতিরিক্ত মানুষের চাপ সামাল দিতে সিভিল সার্জন পুলিশ সুপার কে ফোন করে ফোর্স মোতায়েন করে। এসময় মানুষের ভিড় সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইছাহুরুল্লাহ জানান, সরকার গণটিকা কর্মসূচির প্রথম ডোজের সময় আরো দুইদিন বাড়িয়েছে। আজ ২৭ ও আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি এই দুইদিন প্রথম ডোজও দেয়া হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ টিকাও চলমান থাকবে।
তিনি আরো জানান, গণটিকা কর্মসূচির আওতায় এদিনে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৯১ হাজার ৮০০ জন। আশা করছি আরও বেশি দিতে পারব। এদিন চাঁদপুর জেলার ৯২টি ইউনিয়নের প্রত্যেক ইউনিয়নে তিনটা করে কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী কেন্দ্রে এবং সিভিল সার্জন অফিস ও হাসপাতাল এ দুটি কেন্দ্রের ৮টি বুথে এবং পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি বুথে দেওয়া হচ্ছে করোনার টিকা।

শেয়ার করুন: