চাঁদপুরে লক ডাউনে কঠোরতা

আনোয়ারুল হক॥

চাঁদপুরে লকডাউনে প্রশাসন ছিল কঠোর অবস্থানে। অনেকেই নানাহ ছলছুতায় বাইরে বের হন।পড়েন প্রশাসনের জেরার মুখে। জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের নেতৃত্বে চাঁদপুরে স্থানীয় প্রশাসন লকডাউনে মানতে ছিলেন কঠোর অবস্থানে। এসময়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়ন ছিল সক্রিয় ।

করোনার সংক্রমণরোধে সকাল থেকে সারাদেশে সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী হার্ডলাইনে ছিলেন। একই সাথে মোবাইল কোর্টও মাঠে সক্রিয় রয়েছে।

বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনী ও বিজিবি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল দিতে দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট সক্রিয় রয়েছে। কোথাও বিধিনিষেধ অমান্য করলেই সেখানে মোবাইল কোর্ট আইন প্রয়োগ করবেন।

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, বিপিএম (বার) বলেন, সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তা’ শতভাগ বাস্তবায়নে পুলিশ বদ্ধপরিকর। কোথাও ব্যত্যয় ঘটলেই প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। আর অনুকম্পা নয়, এবার হার্ডলাইনে।
এদিকে পুলিশ প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল বা রিক্সা দেখলেই তা থামিয়ে বের হওয়ার কারণ জানছেন। কিন্তু সবার ক্ষেত্রেই কোনো না কোনো অজুহাত দেখাচ্ছেন। তবে বাইরে বের হওয়ার কারণ একেবারে অযৌক্তিক হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় ছাড়া দেয়া হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, সারাদেশে করোনা পরিস্থিতি উর্ধগতির দিকে। সরকার এটি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। তারই অংশ হিসেবে সিভিল প্রশাসনকে সহায়তার জন্যে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সেখানে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেটি যাতে সবাই পালন করে সে অনুরোধ রাখছি।

চাঁদপুর শহরের শপথ চত্ত্বর এলাকায় দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, ‘সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যারা চলাচল করতে পারবেন, আমরা শুধু তাদেরই অ্যালাও করছি। বাকিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় (বৃহস্পতিবার) সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ থাকবে আগামী ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত।

এ সময়ে জরুরি সেবা দেয়া দফতর-সংস্থা ছাড়া সরকারি-বেসররকারি অফিস,যন্ত্রচালিত যানবাহন,শপিংমল দোকানপাট বন্ধ থাকবে। খোলা থাকবে শিল্প-কারখানা। জনসমাবেশ হয় এমন কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না।

কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে বুধবার (৩০ জুন) মন্ত্রিপরিষদি বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে ২১টি শর্ত দেয়া হয়েছে।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *