চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা সোববার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। সভার শুরুতেই বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ, সিদ্ধান্ত এবং অগ্রগতি তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেন। পরে পাঠিত কার্যবিবরণীর উপর উন্মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত সকলের বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করার আহ্বান জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন দপ্তরের আওতাধীন উন্নয়ন কর্মকান্ডের পর্যালোচনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার তাগিদ দেয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে বাইপাস রাস্তা তৈরী করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে । এর জন্য একটি উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে সহসাই মিটিং করার জন্য আহবান করছি । এ ছাড়া বাস ষ্ট্যেন্ড থেকে শহরের ভেতর দিয়ে লঞ্চঘাট যাওয় রাস্তাটিও প্রসস্ত করতে মেয়রকে অনুরোধ জানান।

এছাড়া চাঁদপুরে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবৈধ স্থাপনা ,দখলমুক্ত স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান করবেন। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আবেদন করতে হবে । এসংক্রান্ত বিষয়ে কোন মামলা না থাকলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জেলা প্রশাসনে খাস ভূমির মালিক তাই আমরা খাস ভূমি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তিনি বলেন, ভোটার তালিকা আমাদের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামীতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেলক্ষ্যে এ ভোটার তালিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কাজেই এখানে যেমন নির্বাচন অফিসকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে একই সাথে আমাদের জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। যারা ভোটার আছেন এবং ভোটার হওয়ার উপযুক্ত তারা যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পরে সেজন্যে আমি অনুরোধ জানাবো।
বাজার মনিটরিং প্রসঙ্গে বলেন এটা এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেলের ব্যাপার নিয়ে যে তেলেসমাতি চলছিলো তাও আমরা ধরে ফেলেছি। এখন তেমন কোন সমস্যা নেই। তবে বাজার মনিটরিং আরো জোরদার করতে হবে। কেউ যেন সিন্ডিকেট না করতে পারে।
জেলা প্রশাসক বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব কমাতে সারাদেশো প্রায় ১২ কোটি মানুষকে ১ম ও ২য় ডোজ টিকা দেয়া সম্পন্ন হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে এটা আমাদের একটি বড় সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। যারা এখনো বুস্টার ডোজ দেয়া হয়নি, তাদেরকেও বুস্টার ডোজ তাড়াতাড়ি নেয়ার জন্যেও আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, গভীর নলকূপ যেসকল এলাকায় চাহিদা কম সেসকল এলাকায় বরাদ্দ কমিয়ে যেসকল এলাকায় চাহিদা বেশি সেসকল এলাকায় বরাদ্দ বেড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা করতে পারেন। গভীর নলকূপ প্রকল্পে কোন অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক মডেল মসজিদের নির্মান সামগ্রীর অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, মডেল মসিজদের কাজ মডেলের মতই হতে হবে। মডেল মসজিদের নির্মান সামগ্রীর ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। নির্মান সামগ্রীর ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। ভবিষ্যৎ এ যেন এধরণের অভিযোগ না আসে সে ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এটা একটা বড় উদ্যোগ। প্রত্যেকটি উপজেলার জন্যে মডেল মসজিদ একটি বড় ঐতিহ্য ও স্থাপনা। মডেল মসজিদ সুন্দরভাবে যেন হয় সেটা আসাদের সকলের দায়িত্ব। জেলা পর্যায়ে মডেল মসজিদের জায়গা যেহেতু এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। যদি কোন দানশীল ব্যক্তি থাকেন যে মসজিদের জন্যে দান করতে চান তাহলে আমাদের বলতে পারেন। মসজিদের জন্যে জায়গা দান করা অনেক বড় মহৎ কাজ। এছাড়াও যদি অন্য কোন জায়গা বা প্রাতিষ্ঠানিক জায়গা থাকে তাও আমাদের জানাতে পারবেন।

কৃষি বিষয়ক প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষকের একটি ধানও যেন নষ্ট না হয়। স্বেচ্ছাসেবক হোক বা যেভাবেই হোক তলিয়ে যাওয়ার আগে কৃষকদের সমস্ত ধান যেন কেটে ঘরে তুলে দেয়া হয়।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান , চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন,সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আ:স:ম: মাহবুব-উল আলম, এলডিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস হোসেন বিশ্বাস,সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সামসুজ্জোহা,সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক এমদাদুল ইসলাম মিঠুন,আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক শরিফুল ইসলাম,পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: হান্নান, জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা মোহাম্মদ ফয়সাল, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী প্রাইম ইকবাল ,ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন রুবেল,পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেলারেল ম্যানেজার আতিকুজ্জামান চৌধুরী, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা শাহ্নাজ,হাইমচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চাই থোয়াইহলা চৌধুরী, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমুন নেছা, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: হুমায়ন রশিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেয়ার করুন: