চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন স্থগিত, পুনঃতফসিল আগামী সপ্তাহে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে জটিলতা। আগামী ২৫ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ত্রুটি এবং অনিয়মের কারণে নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচনী প্রার্থী নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। সমস্যা সমাধানে আপাতত নির্বাচন স্থগিত করেছেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। এছাড়া অন্যান্য অনিয়ম থাকলেও সে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম চলছিল। নির্বাচন প্রক্রিয়া হলেও কখনই ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিতরাই জিম্মি করে রেখেছে চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং এর কার্যক্রম। সবশেষ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।

৫ এপ্রিল ৫৭ সদস্যের ভাটার তালিকাও প্রকাশ করা হয়। ১২ এপ্রিল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষদিন পর্যন্ত ৩১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু এর মধ্যে নির্বাচনী রিটার্নি কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি পত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

যাতে দেখা যায় ৩১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও ঘোষিত উত্তোলনের নামের তালিকায় নেই ২ জন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীসহ ৩জন। এছাড়াও ওই পত্রে নির্বাচনী রিটার্নি কর্মকর্তা ও জেলা ক্রীড়া অফিসার তারিকুল ইসলামও সদস্য পদের একজন প্রার্থী। যা নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।

এছাড়াও চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার আওতায় একটি মার্কেটের ৫০টি দোকানসহ মোট ১১৭টি দোকান রয়েছে। যার আয়-ব্যয় কিছু জানেন না বলে জানান সংস্থার সভাপতি। যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।

অপরদিকে কমিশনের তালিকা থেকে বাদ পড়া দুইজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও একজন সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহাদাত হোসেন শান্ত বলেন, তারা প্রকাশিত তালিকাটিকে একটি প্যানেল বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু কালকে মনোনয়ন বিতরণের যে তালিকা প্রকাশ করা হয় সেখানে কোথাও প্যানেলের নাম উল্লেখ নাই। ওখানে উল্লেখ করা হয়েছে মনোনয়ন বিতরণের তালিকা। এখন ওই তালিকাটিকে জায়েজ করার জন্যে তারা বলছেন প্যানেল। আর আরো একটি বিষয় একটি প্যানেলের প্রার্থীদের তালিকায় নির্বাচন রিটার্নি কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকবে কেন? বিষয়টি সম্পূর্ণ একটি ষড়যন্ত্র। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আসলে কখনো নির্বাচন হবে না। এটি একটি ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছু না।

যদিও প্রকাশিত প্রার্থী তালিকাটি বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নিজের প্যানেল বলে দাবি করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবু।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি সিলি মিসটেক হয়েছে। এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। তিনি বলেন, রিটার্নি কর্মকর্তা পদাধিকার বলে জেলা ক্রীড়ার সংস্থার সদস্য। গত বছরের কিছু ভুলবশত কারণে এই নামটি এখানে রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, আপাতত নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা ক্রীড়া অফিসার ও নির্বাচনী রিটার্নি কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হবে। যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।

তিনি আরো বলেন, এছাড়াও তারা আমার কাছে এ পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব দেয়নি। যেহেতু এ পর্যন্ত পুর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটির কোনো মিটিং হয়নি কোভিডের কারণে তাই এ সংক্রান্ত বিষয়ে যে স্বচ্ছতার বিষয়টি আছে তার মনে হয় অভাব রয়েছে। তাই আমরা নতুন কমিটি গঠন করে প্রতিটি কাজ যাতে স্বচ্ছতার সাথে হয় সে বিষয়টি দেখবো।

শেয়ার করুন: