চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কিংবদন্তী সাংবাদিক শংকর চন্দ্র দে আর নেই

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কিংবদন্তী প্রবীণ সাংবাদিক শংকর চন্দ্র দে (৭৮) আর নেই। গতকাল ৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় চাঁদপুর শহরের মেথা রোডস্থ ভাড়া বাসায় শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন।

সাংবাদিক শংকর চন্দ্র দে ১৯৬২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ডব্লিউ রহমান জুটমিলের লেবার অফিসার এবং এরপরে চাঁদপুর পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাকিস্তান শাসন আমলে তিনি বেশ ক’টি দৈনিক পত্রিকায় কাজ করার সুবাদে পরবর্তী সময়ে দৈনিক বাংলা পত্রিকায় তৎকালীন চাঁদপুর মহকুমার প্রতিনিধি হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও তিনি স্থানীয়ভাবে সাপ্তাহিক রূপসী চাঁদপুর-এর উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে প্রায় ১০ বছর কাজ করেন। পাকিস্তান শাসন আমলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।

এছাড়া চাঁদপুর প্রেসক্লাব পরিচালিত উদয়ন শিশু বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম সদস্য ছিলেন। মৃত্যুকালে শংকর চন্দ্র দে স্ত্রী, ২ পুত্র, পুত্রবধূ, নাতী-নাতনীসহ অসংখ্য শুভাকাক্সক্ষী রেখে যান।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় তার মরদেহ শ্রী শ্রী কালীবাড়ি মন্দিরে আনার পর গঙ্গাজল ছিটিয়ে মন্ত্র পাঠ করা হয়। পরে তার মরদেহ চাঁদপুর প্রেসক্লাবে নিয়ে আসা হলে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ তার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলনের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, গোলাম কিবরিয়া জীবন, জালাল চৌধুরী, শহীদ পাটোয়ারী, শরীফ চৌধুরী ও ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সিনিয়র সহ-সভাপতি রহিম বাদশা, সহ-সভাপতি সোহেল রুশদী, লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর ও এএইচএম আহসান উল্লাহ্, সদস্য ফারুক আহমেদ, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আল ইমরান শোভন প্রমুখ।
এরপর মরদেহ নতুনবাজার গোপাল জিউর আখড়ায় নেয়ার পর সেখানে গঙ্গাজল ছিটিয়ে মন্ত্রপাঠ করা হয়। রাত সাড়ে ৭টায় চাঁদপুর মহাশশ্মানে তার অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সংক্ষিপ্তভাবে বক্তারা বলেন, শংকর চন্দ্র দে সত্যি একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন। তিনি স্বচ্ছতার সাথে সাংবাদিকতা করে গেছেন। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের মাধ্যমে শোকসভা’র আয়োজন করা হবে। শংকর চন্দ্র দে পরিবারের পাশে থাকবো। ২০২০ সালে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের রজতজয়ন্তী করেছি, তখন তিনি উদ্ধোধক হিসেবে তাকে আনতে পেরেছি। তিনি কখনো অন্যায়ের প্রতি আপোষ করেননি। সাংবাদিকদের মাঝে নিরিবিলি থাকতেন। তিনি বলতেন, এমন সংবাদ দেয়া ঠিক নয়, যে সংবাদের কারনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। তা বুঝে শুনে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। তিনি ছিলেন কিংবদন্তি সাংবাদিক। তার প্রকাশিত সংবাদের কোনো প্রতিবাদ ছাপা হয়নি। রূপসী চাঁদপুর পত্রিকায় তিনি সম্পাদকীয় লিখতেন। আজকে শংকর চন্দ্র দে আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন।

প্রয়াত সাংবাদিক শংকর চন্দ্র দে তার জীবদ্দশায় বেশ ক’টি সম্মাননা পেয়েছেন। তন্মধ্যে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পক্ষে আজীবন সম্মাননা, অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী’র পক্ষ থেকে অনন্যা সম্মাননা। তার মৃত্যুতে চাঁদপুরের সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published.