চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব ও নতুন কমিটির অভিষেক আজ

আনোয়ারুল হক:

ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে কলমযোদ্ধাদের একক প¬াটফর্ম চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ৫০ বছরপূর্তির আনন্দে মাতোয়ারা চাঁদপুরের সাংবাদিক সমাজ। ১৯৭০ সালের এমন এক হেমন্তদিনে চাঁদপুরের ক’জন প্রথিতযশা সাংবাদিকের হাত ধরে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পথচলা শুরু। ১৯৭০ থেকে ২০২০ অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যকে ধারণ করা চাঁদপুর প্রেসক্লাব আজ অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণমানুষের কাছে সমাদৃত। ৫০ বছর পূর্ণ হওয়া এ প্রতিষ্ঠানটির সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব আয়োজনে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য নানা কর্মসূচি। এ আয়োজনের মধ্যেই রয়েছে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ২০২১ সালের জন্য নবগঠিত কার্যকরি পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান।

আজ ৪ জানুয়ারি ২০২১ খ্রিঃ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় সংক্ষিপ্ত উদ্বোধন শেষে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হবে। সোয়া ৯টায় শুভ উদ্বোধন, এরপর সকাল ১০টায় শুরু হবে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিবছরের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ ফ্যামিলি ডে, দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে সাংবাদিক সমাবেশে উপস্থিত সাংবাদিকদের রেজিস্ট্রেশন, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে চাঁদপুর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সুবর্ণজয়ন্তীর আলোচনা পর্ব। সুবর্ণজয়ন্তীর উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন চাঁদপুরের মাটি ও মানুষের নেত্রী, উন্নয়নের রূপকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, পিআইবি মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মু. মফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থাকবেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান পিপিএম, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুসহ দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।

বিকেল ৪টায় একই মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সংবর্ধনা ও সম্মাননা পর্ব। বিকেল ৫টায় একই মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ২০২১ সালের নবগঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান। এ পর্বেও প্রধান অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সুবর্ণজয়ন্তী (৫০ বছরপূর্তি) অনুষ্ঠানের জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেবেন আমন্ত্রিত শিল্পীসহ স্থানীয় শিল্পীরা। রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে র‌্যাফেল ড্র। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হবে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ধারাবাহিক বার্ষিক কর্মসূচি ফ্যামিলি নাইট। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।

বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সকল পর্যায়ের সদস্যগণকে তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যথা সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন ও সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ।

উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালে তৎকালীন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কাজী আজহার আলীর চেষ্টায় চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ পরিত্যক্ত ‘মাধব ভবন’ (বর্তমান জেলা শিল্পকলা একাডেমি)-এর একটি কক্ষে মরহুম আঃ খালেক চৌধুরী ও মরহুম কামরুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে চাঁদপুর প্রেসক্লাব নামক সাংবাদিকদের একটি প্লাটফর্ম গঠন করা হয়। পরবর্তীতে এর সাথে সম্পৃক্ত হন অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন খান, শংকর চন্দ্র দে, প্রফেসর জালাল ইউ আহমেদ, আহসানুজ্জামান ও চাঁদপুর কলেজের তৎকালীন অধ্যাপক এসএম ওবায়েদ উল্লাহসহ আরো কজন।

১৯৭৪ সালের শেষ ভাগে চাঁদপুর পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সর্বজনশ্রদ্ধেয় আঃ করিম পাটোয়ারী চাঁদপুর প্রেসক্লাব ভবনের জন্য পৌরসভার (ডোবা সম্বলিত) একটি জমি (বর্তমান ভবনের স্থান) বরাদ্দ প্রদান করেন। ওই ডোবা বা জমিটি তখনকার সময় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা ভরাট করেন। ১৯৭৫ সালে চাঁদপুরের তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক এএইচএম ফজলুল হক ভবন নির্মাণে সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন চাঁদপুর কলেজ মাঠে একটি বিশাল মেলার আয়োজন করে তার থেকে উপার্জিত অর্থের সিংহভাগ চাঁদপুর প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের জন্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। ১৯৭৬ সালের ২২ ডিসেম্বর বর্তমান চাঁদপুর প্রেসক্লাব ভবনের স্থানে সুদৃশ্য টিনসেড ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা পরিষদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োজিত উপদেষ্টা আকবর কবির। সে থেকে চাঁদপুর প্রেসক্লাব ভবনটি চাঁদপুরের সাংবাদিকদের জন্য একটি নিজস্ব প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে। চাঁদপুর মহকুমা থেকে জেলায় রূপান্তরের পর এ পর্যন্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও জনপ্রতিনিধিরা চাঁদপুর প্রেসক্লাব ভবন পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন এবং হচ্ছেন।
ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর প্রেসক্লাবে বর্তমানে শতাধিক পেশাদার সাংবাদিক সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া আজীবন সদস্য হিসেবে চাঁদপুরের বরেণ্য রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন পেশার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বগণ জড়িয়ে আছেন। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের অনেকেই এখনো প্রেসক্লাবের বিভিন্ন কর্মকা-ে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ২০০৩ সালে গঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম চৌধুরীর নেতৃত্বে পূর্বের টিনসেড ভবনটি ভেঙ্গে ৪র্থ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যদিও সে সময় স্বল্প অর্থ ব্যয় করে ভবন ফাউন্ডেশনের কাজ শুরু হয়ে থমকে যায়। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদপুর সফরে এসে আউটার স্টেডিয়ামে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেয়ার সময় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের প্রসঙ্গক্রমে উন্নয়নের কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে অবস্থান করা চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি ভবন নির্মাণের বিষয়টি তাৎক্ষণিক বলামাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণ করে দিবেন বলে ওই জনসভায় ঘোষণা দেন। এরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত চাঁদপুর প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের জন্যে চাঁদপুর জেলা পরিষদের মাধ্যমে (দুই কিস্তিতে) ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান আসে। সেই অর্থের মাধ্যমেই চাঁদপুর জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে বর্তমান চাঁদপুর প্রেসক্লাবের তৃতীয়তলা ভবন নির্মিত হয়েছে। চাঁদপুর প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ তথা চাঁদপুরের সাংবাদিক সমাজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির কাছে আজন্ম কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকবে। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে চাঁদপুর জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ৪র্থ তলা সম্প্রসারণ কাজটি চলমান রয়েছে।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *