চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির আয়োজনে জাতীয় শোকদিবস পালিত

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে শিল্প-সাহিত্যে বঙ্গবন্ধুর অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বশির আহমেদ। তিনি বলেন, কিছু কিছু রক্তের দাগ মুছে যায় না। বাঙ্গালী জাতি যতদিন থাকবে এই ১৫ই আগস্টের রক্তের দাগও মুছবে না। এসময় তিনি সাহিত্যে বঙ্গবন্ধুর মননশীলতা এবং বঙ্গবন্ধু সাহিত্যিক হিসেবে কাজ করেছেন এমন বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা করেন।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি নজরুলকে এদেশে এনে নাগরীকত্ব না দিতেন তবে আমরা নজরুলকে জাতীয় কবি হিসেবে পেতাম না। তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন বলেই আজকে আমাদের ভাষার স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘আমার দেখা নয়াচিন গ্রন্থটি তাঁর অমর সৃষ্টি। বইটিতে সাহিত্যের যে ভাষা ও রস রয়েছে তা অতুলনীয়। তার লেখা কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থটিও একটি অনন্য দলিল। আমাদের মন ও মননে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ ও লালন করতে হবে।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অমর চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানসিক বিকাশে সাহিত্যের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করেছেন। আর সেজন্য তিনি রাজনীতির পাশাপাশি মনমানসিকতার বিকাশে সাহিত্য চর্চা করতেন। তিনি তার জীবনদশায় যখনি সময় পেতেন সাহিত্য নিয়ে সভা সেমিনার করেছেন। তিনি নজরুল এবং রবিন্দ্রনাথসহ নানা লেখকের বই পড়তেন এবং নিজেও লিখতেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা মাতৃভাষায় যে সাহিত্য রচনা করছি, গান কবিতা লিখছি, সে পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তিনি আমাদের একটি স্বাধীন মানচিত্র এনে দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক বিখ্যাত নেতাই এসেছেন। কিন্তু কেউ আমাদের স্বাধীনতা দিতে পারেননি যেটা বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা অনেকেই মুখে মুখে বঙ্গবন্ধুর কথা বলি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করি না। বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগের সাথে অন্য দল ও নেতাদের পার্থক্য হলো, বঙ্গবন্ধু চেয়েছেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ। আর অন্যরা সবসময় বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিনত করতে চেয়েছিলো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল বলেন, খুব বেশি বয়স বঙ্গবন্ধু না বাঁচলেও তিনি যেভাবে এদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলেছেন তা ইতিহাসে বিরল। পাকিস্তানি ভাবধারা লালনকারীরাই এদেশে ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট আর ২১ আগস্টের ঘটনা ঘটিয়ে দেশ ও জাতিকে কলঙ্কিত করেছে। কেননা ঐ সব একই সূত্রে গাঁথা। তাই স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি সম্পর্কে সব সময় সজাগ থাকতে হবে।

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীর এডহক কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী বলেন, বঙ্গবন্ধু নিজেই একটি সাহিত্য। তার সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না। আমি এমন মহামানবের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীর এডহক কমিটির সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন শান্তের সভাপতিত্বে এবং সদস্য আশিক বিন রহিমের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীর এডহক কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান সেলিম, আব্দুল্লাহিল কাফি, দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ক্লাবের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান কিরণ, দৈনিক প্রিয় চাঁদপুরের সম্পাদক ও প্রকাশক বোরহান উদ্দিন ডালিম, বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল আলম মাসুম, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের সভাপতি শামীম আহমেদ, চাঁদপুর নজরুল গবেষণা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, কবিতা পাঠ করেন মুখলেসুর রহমান ভূঁইয়া।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, লেখক ও গংগঠক মুনিরা আক্তার, দৈনিক শপথ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং সাহিত্য একাডেমীর এডহক কমিটির সদস্য কাদের পলাশ, জাহাঙ্গীর হোসেন, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি শওকত আলী, দৈনিক চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কেএম মাসুদ, চাঁদপুর নজরুল গবেষণা পরিষদের সাধাণ সম্পাদক আব্দুল গনি, দৈনিক সংবাদ এর জেলা প্রতিনিধি অমরেশ দত্ত জয়, আনন্দ টিভির প্রতিনিধি শ্যামল সরকার,কবি ও গীতিকার পলাশ দেসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সাহিত্য প্রেমীগণ।

এ সময় জেলার কবি সাহিত্যিক ও সাহিত্য অনুরাগিদের উপস্থিতিতে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি মিলনায়তন কানায় কানায় পরিপূর্ণ দেখা যায়। অনুষ্ঠানে চাঁদপুর বিএম’র সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মাহমুদন নবী মাসুমের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রীর দুটি ছবি সাহিত্য একাডেমীতে প্রদান করা হয়। যা চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীতে টানিয়ে দেন সাহিত্য একাডেমীর এডহক কমিটির সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন শান্ত।

শেয়ার করুন: