জেলা পরিষদ নির্বাচন : দলীয় প্রতীকের আশায় প্রার্থীরা ঢাকায়

হাসনা জাহান :

জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর থেকে চাঁদপুরের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁরা দলীয় টিকিটের জন্য যে যার লাইনে জোর তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রথম দিকে প্রায় ডজনখানিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও বর্তমানে ৪জন প্রার্থীর নাম মাঠে-ঘাটে এবং চায়ের টেবিলে বেশি শুনা যাচ্ছে। এরা হলেন আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী, আলহাজ্ব আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, আলহাজ্ব মো: ইউসুফ গাজী, আলহাজ্ব মনজুর আহমেদ মঞ্জু।

এদের মধ্যে আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এখনো তিনি প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। আলহাজ্ব আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক । দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এখনো তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার খায়েশ মেটাতে পারেননি। তার খুব ইচ্ছা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করা। আলহাজ্ব মো. ইউসুফ গাজী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ও প্রার্থী হয়েছিলেন। চাঁদপুর পৌরসভা এবং সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। এই তিনজন প্রার্থীই চাঁদপুর শহরে বসবাস করেন। আলহাজ্ব মনজুর আহমেদ মঞ্জুর বাড়ী মতলব উত্তর উপজেলায়। তিনি ওই উপজেলা পরিষদের সাবেক নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৭ অক্টোবর চাঁদপুর জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্টিত হওয়ার কথা রয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বলেন, “এবার নির্বাচন হবে জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২২ অনুসারে। সংশোধিত এ আইন অনুযায়ী, এবার জেলা পরিষদে নির্বাচিত হবেন ১২ জন; এর মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, আটজন সাধারণ সদস্য এবং তিনজন সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা এক হাজার ২৭৩ জন।

ওচমান গনি পাটওয়ারী, আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, মো. ইউসুফ গাজী, মনজুর আহমেদ মঞ্জু মতফসিল ঘোষণার পর থেকেই চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরগরম হয়ে উঠেছেন।

তবে নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ঘরোনার নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা বিরাজ করলেও, উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বিএনপির মধ্যে। এদিকে আসন্ন চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন দলের বিএনপির জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। আমরা চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য পদে কাউকে মনোনয়ন বা সমর্থন জানাবো না। আমরা এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করবো না।”

তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তের আলোকে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি জানান তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ওচমান গনি বলেন,“জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। এ ব্যাপারে আমার কোনো ত্রæটি ছিল না। অনেক উন্নয়ন কাজ করেছি। ব্যক্তিগতভাবেও অনেক লোকজনকে সহযোগিতা করেছি।“আমি দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে, নির্বাচনের করব।”

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আগ্রহ দেখিয়েছেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। তিনি বলেন, “দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ লোকজনের জন্য দীর্ঘদিন যাবত কাজ করেছি। এখন দল থেকে যদি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।”

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. ইউসুফ গাজী বলেন, “দলের নেত্রীর সিদ্ধান্তের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে। তিনি যদি আমাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেন, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।”

মনজুর আহমেদ মঞ্জু বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল । আর আমি সেই দলেরই কর্মী। অতএব জনগণ যদি আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ দিতে চায়। তাহলে জনগণের দলের কর্মী হিসেবে সে দায়িত্ব অবশ্যই আমি পালন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমি আশাবাদী দল আমাকেই মনোনয়ন দিবেন।

নির্বাচনে মনোয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর, মনোনয়ন পত্র বাছাই ১৮ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ২৬ সেপ্টেম্বর ও ভোটগ্রহণ ১৭ অক্টোবর।

শেয়ার করুন: