জেলা পরিসংখ্যান অফিসের অবহিতকরণ সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

সোমবার চাঁদপুরে জেলা পরিসংখ্যান অফিসের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, দেশে এই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুমারি পরিচালনা করা হবে । এতে১শ’ ৩৩ ধরনের তথ্য চাওয়া হবে । ৭দিন পর্যন্ত এ জনশুমারি ও গৃহ গণনার করা হবে । তাই জনপ্রতিনিধি ,সরকারি কর্মকর্তাসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

চাঁদপুর জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ-পরিচালক নাঈমা রহমান প্রজেক্টরের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করে বলেন, আগামী ১৫ থেকে ২১ জুন তারিখে সপ্তাহব্যাপী জনশুমারি ও গৃহগণনার মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুমারি পরিচালনা করবে। জিআইএস (জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম)কে ভিত্তি করে ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবহার করে ডিজিটাল ডিভাইস ট্যাবলেট ব্যবহার করে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

আরো বলেন , ১৫-২১ জুন ২০২২ তারিখকে শুমারি সপ্তাহ হিসেবে এবং ১৪ জুন তারিখ দিবাগত রাত ১২টা শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট বা শূন্য মুহূর্ত ধরে গণনা শুরু হবে। এই সময়ে স্থানীয়ভাবে সাময়িকভাবে নিযুক্ত তথ্যসংগ্রহকারীরা প্রত্যেক গৃহ, খানা ও ব্যক্তির তথ্য ট্যাবলেটের মাধ্যমে সংগ্রহ করবে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লি.এর টায়ার ফোর সিকিউরিটি সমৃদ্ধ ডেটা-সেন্টার ব্যবহার করা হবে। সংগৃহীত তথ্য এনক্রিপটেড হওয়ায় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সুপারভাইজারদের (গড়ে ১২০ জন) কার্যক্রম তদারকির জন্য ০১ (এক) জন জোনাল অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যারা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য দপ্তরের নিয়মিত কর্মচারী। জোনাল অফিসারদের কার্যক্রম তদারকির জন্য উপজেলা শুমারি সমন্বয়কারী, উপজেলা শুমারি সমন্বয়কারীর কার্যক্রম তদারকির জন্য জেলা শুমারি সমন্বয়কারী, জেলা শুমারি সমন্বয়কারীর কার্যক্রম তদারকির জন্য বিভাগীয় শুমারি সমন্বয়কারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সকল পর্যায়ের সমন্বয়কারীগণ বিবিএস-এর সদরদপ্তর ও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা। অর্থাৎ শুমারির গুণগতমান নিশ্চিতকল্পে ০৫ স্তর বিশিষ্ট মনিটরিং কার্যক্রমের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গণনাকারী থেকে বিভাগীয় শুমারি সমন্বয়কারী পর্যন্ত সকলের জন্য সুনির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক এওঝ( এবড়মৎধঢ়যরপ ওহভড়ৎসধঃরড়হ ঝুংঃবস) বেইজড ডিজিটাল ম্যাপ ইতোমধ্যে প্রস্তুত ও সরবরাহ করা হয়েছে।

এছাড়াও প্রথাগতভাবে র‌্যালি, মাইকিং, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া, শুমারির ১ম দিন জাতীয় দৈনিকসমূহে এতদ্বিষয়ক ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য, এই শুমারিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর/দপ্তর/সংস্থা’র পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন (বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন) ও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতকল্পে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গ : প্রতি ১০ বছর পরপর জনসংখ্যার সঠিক হিসাব পেতে এ ধরনের শুমারি করা হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারির হিসাবে দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ২৫ লাখ। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে দেশে আদমশুমারি বা জনশুমারি করার লক্ষ্য থাকলেও করোনা পরিস্থিতি ও ট্যাব কেনা জটিলতায় বারবার পিছিয়ে যায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান , চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আ:স:ম: মাহবুব-উল আলম, এলডিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস হোসেন বিশ্বাস,সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সামসুজ্জোহা,সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক এমদাদুল ইসলাম মিঠুন,আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারি পরিচালক শরিফুল ইসলাম,পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: হান্নান, জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা মোহাম্মদ ফয়সাল, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ চৌধুরী,ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন রুবেল,পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেলারেল ম্যানেজার আতিকুজ্জামান চৌধুরী, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান প্রমুখ।

শেয়ার করুন: