দীর্ঘ সাঁকোতে ১শ’৩০ বছর পারাপার

আনোয়ারুল হক ॥

চাঁদপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে বিষ্ণুদী এলাকায় নন্দলাল শীল রাড়ীর প্রাঙ্গন থেকে সরদার বাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২শ’ ফুটেরও বেশি পুকুর ও জমির ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিরা চলাচল করছেন। এর বয়স ১শ’৩০ বছরেরও বেশি । র্দীঘ সময় ধরে স্থানীয় ব্যক্তিরা এখানে একটি রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষদের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তের তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি ও মেঘনা নদীরপাড়সহ বিভিন্ন স্থানে লোকজন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। এই পথে সাঁকো পার হয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিষ্ণুদী রোড বাজার. আনন্দ বাজার, মসজিদ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এই বাঁশের সাঁকোই চলাচলের একমাত্র ভরসা। বর্ষায় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক পথচারীকে এই সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।
জানা গেছে, সরদার বাড়ীর কিছু পরিবার তাদের রাস্তা না থাকায় শহরের বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে।

সরদার বাড়ীর বাসিন্দা মফিজ সরদার বলেন,আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এই (সাঁকো)হাক্কা দিয়ে চলাফেরা করেছে।এটি অনেক বড়। আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছেনা ।স্কুলে যাওয়ার সময় গত কয়েকদিন আগে হাক্কা দিয়ে পাড় হওয়ার সময় এক সিরিয়ালে তিনটি বাচ্চা হাক্কা থেকে পড়ে যায় । পরে অন্য এলাকার কয়েকজন এসে বাচ্চাদেরকে উদ্ধার করে। বাচ্চারা হাক্কা থেকে পড়ে গেলে আমরা দেখতে পাই না । সাঁকোর ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা, ডেলিভাড়ী রোগী, স্ট্রোকের রোগীরা। আমরা খুব কষ্টে আছি । আমরা দিন আনি দিন খাই। আমাদের ওই রকম পরিস্থিতি নাই এখানে একটি রাস্তা নির্মাণ করতে পারব। মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমরা আকুল আবেদন করছি এখানে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হোক।

৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা খাদিজা বেগম জানান, কত মেম্বার চেয়ারম্যান দেখেছি কিন্তু কেউই আমাদের দিকে একটু চোখ ফিরে তাকায় নি। আমরা এখানে একটি রাস্তা চাই।

স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী হাসান, হাদীসহ কয়েকজন শিশুরা বলেন, আমরা স্কুলে যেতে কষ্ট হয় । আমাদের এখানে একটি রাস্তা চাই ।
চাঁদপুর পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান,সাঁকোর দের্ঘ্য ২শ’ ফুঁট হবে । এর বয়স হবে প্রায় ১শ’ ৩০ বছর। সরদার বাড়ির পাশে মেঘনা নদী থাকায় সবসময় পুকুর ও জমিতে পানি থাকে। তবে সাঁকোটির স্থানে রাস্তা তৈরি করার উপযোগি।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর চাঁদ মিয়া মাঝি ও ফরিদা ইলিয়াস জানান, যাদের জমি ও পুকুর রয়েছে তারা রাস্তা করার সুযোগ না দেয়ায়। প্রতি বছর আমরা এখানে পৌরসভার পক্ষ থেকে সাঁকোটি সংস্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে থাকি।

চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুল রহমান জুয়েল জানান, চাঁদপুরের মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভা একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। সাঁকো থাকবে এটা দুঃখজনক। এইখানে অনেকগুলো জায়গায় অনেকগুলো সাঁকো আছে। আমাদের টু থার্ড এরিয়ায় প্রায় নতুন পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত । সেই এলাকাগুলোতে নাগরিক সুবিধা নেই বললেই চলে। আমরা সেখানে পৌরসভার পক্ষ থেকে নাগরিক সুবিধা পৌঁছাতে পারিনি বললেই চলে। আমাদের পৌরসভার জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ যে সেই অনুন্নত জায়গাগুলোতে নাগরিক সুবিধা নিয়ে যাওয়া।পৌর এলাকায় সাঁকো থাকবে । এটা আমাদের কাম্য নয়। নাগরিকদের সুবিধা জন্য পাকা রাস্তায় থাকার কথা। আমি পৌরসভার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এরকম অনেকগুলো জায়গাতে সাঁকো ছিল । সেখানে রাস্তা তৈরি করে দিয়েছি। এটি একটি দীর্ঘতম সাঁকো। এটার জটিলতা হচ্ছে যে আমরা চাচ্ছি স্থানীয়ভাবে যাদের জায়গার উপর দিয়ে রাস্তাটি হবে। সেই ভূমি মালিকদের সাথে এখনো পর্যন্ত আমরা সমঝোতা করতে পারিনি । তাদেরকে নিয়ে আমাদের বসার চিন্তাভাবনা আছে। তারা যদি সম্মতি দেন আমরা পৌরসভার অর্থায়নে এখানে রাস্তা করে দিব । প্রতি বছরই সাঁকোটি মেরামত করতে গিয়ে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয় ।আমরা সেটি চাই না আমরা চাই এটির স্থায়ী সমাধান হোক ।এখানে রাস্তা হোক। সেই উদ্যোগ আমরা নিচ্ছি আশা করছি আমাদের উদ্যোগের সাথে যদি এই রাস্তাটি ব্যবহার করবেন যারা বা ভূমির মালিক ও আশপাশের জনগণ যদি সহযোগিতা করে আগামী বছরই আমরা রাস্তাটি তৈরি করে ফেলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার করুন: