নবান্ন উৎসব বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ: জেলা প্রশাসক

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির আয়োজনে নবান্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ নভেম্বর বুধবার বিকেলে শহরের জোড় পুকুর পাড়স্থ সাহিত্য একাডেমি মিলনায়তনে উৎসব উপলক্ষে বাউল ও লোক গান, কবিতা আবৃত্তি, সাহিত্য আসর ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও সাহিত্য একাডেমীর সভাপতি অঞ্জনা খান মজলিশ। তিনি বলেন, নবান্ন উৎসব বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রজন্মের অনেকেই নবান্ন উৎসব সম্পর্কে জানে না। তারা অন্য দেশের সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী। এটি সমাজের নেতিবাচক পরিবর্তন। আমাদেরকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তাদেরকে বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের সময় দিতে পারছি না। ফলে তারা এখন ইন্টারনেটের জগতে বুঁদ হয়ে থাকে। এর পরিণতি ভালো হবে না। তারা দেশকে ভালোবাসবে না। এ থেকে উত্তোরণের জন্যে আমাদের সন্তানদের সময় দিতে হবে। তাদেরকে মানবিকবোধ সম্পন্ন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সন্তানদের মাটির কাছাকাছি, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলে সমাজে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, সাহিত্য একাডেমি আরো সক্রিয় হোক। লেখকদের পদচারণায় সরব হোক। সাহিত্যের মধ্যে থাকলে প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন হবে। সাহিত্য একাডেমি এমন কাজগুলো নিয়মিত করবে। এমন কার্যক্রমে আমার সহযোগিতা সবসময়ই থাকবে। নবান্ন উৎসবের মাধ্যমে প্রজন্ম আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

একাডেমীর মহাপরিচালক কাজী শাহাদাতের সভাপ্রধানে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের স্বামী, ঢাকা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবুল কাশেম মোঃ জহুরুল হক।

আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ সাইদুজ্জামান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও নবান্ন বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও লেখক ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবান্ন উৎসব উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব ম. নূরে আলম পাটওয়ারী। অনুষ্ঠানে বাউল ও লোকগান পরিবেশন করেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বাহার।

নবান্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন শপথ সম্পাদক, গল্পকার কাদের পলাশ। রবীন্দ্রনাথ ও চাঁদপুর বিষয়ে বক্তব্য রাখেন লেখক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। কবিতা পাঠ করেন কবি ইকবাল পারভেজ, খান-ই-আজম, কবির হোসেন মিজি প্রমুখ । গল্প পাঠ করেন ইয়াছিন দেওয়ান।

উপস্থিত ছিলেন ইনার হুইল ক্লাবের সভাপতি মাহমুদা খানম, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের সভপতি মুক্তা পীযূষ, স্বরলিপি নাট্যদলের সভাপতি এম আর ইসলাম বাবু, সাহিত্য মঞ্চের সভাপতি, অনুবাদক মাইনুল ইসলাম মানিক, সাধারণ সম্পাদক আশিক বিন রহিম, লেখক মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া, চাঁদমুখ-এর প্রতিষ্ঠাতা এইচএম জাকির, শিক্ষক আবু সায়েম, সাইরেন-এর সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আলম প্রমুখ।

আলোচনা সভার পর নবান্ন বিষয়ক কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার তিন গ্রুপের ৯ জন বিজয়ীর মাঝে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কবি-লেখকসহ সবাইকে পিঠা-পুলির মাধ্যমে আপ্যায়িত করা হয়।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *