পদ্মা সেতু আমাদের বিজয়ের প্রতীক : শিক্ষামন্ত্রী

আনোয়ারুল হক ॥

আমার টাকায় আমার সেতু, বাংলাদেশের পদ্মা সেতু। জননেত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় অর্জন দেশের বহুল কাঙ্খিত বাংলার উন্নয়নের দৃশ্যমান স্থাপনা, স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী দিনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে সামিল হলেন চাঁদপুর জেলাবাসী। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সেতুর উদ্বোধনী শোভাযাত্রায় সামিল ছিলেন চাঁদপুর ৩ আসনের সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি।

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে উদ্বোধনী দিনে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করেন। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে সকালে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সকাল ৮ টা থেকেই বিভিন্ন বাদ্যবাজনা সহকারে দেশ রত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্মিলিত রঙ্গিন পোষ্টার ফেস্টুন ও পদ্মা সেতুর ব্যানার সম্মিলিত মানুষজন যোগ দিতে থাকেন চাঁদপুর শহরের হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। ক্ষনিকের মধ্যে উৎসবের রুপ নেয় মাঠটি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষজনদের ব্যাপক উপস্থিতিতে স্বল্প সময়ের মধ্যেই মাঠটি কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। মানুষের উপস্থিতি মূল সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি শোভাযাত্রার স্থলে উপস্থিত হলে, সকাল সোয়া ৯ টা শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা।

জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ ,জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব নাছিরউদ্দিন আহমেদ, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব ওসমান গনি পাটওয়ারী, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলনসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সিভিল সার্জন, চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ, বাবুরহাট স্কুল এণ্ড কলেজ, আল আমিন স্কুল এণ্ড কলেজ, হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মাতৃপীঠ বালিকা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের ছাত্র ছাত্রী, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ও সুধীজন পরিবেষ্টিত হয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি মিশন রোড হয়ে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দৃশ্যাবলী দেখার জন্য মাঠের বিশাল অংশ জুড়ে নির্মান করা হয়েছিল প্যান্ডেল। কিন্তু উৎসবমুখর মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগেই উদ্বোধনী পর্ব দেখার জন্য আসা মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে চাঁদপুরের বিশাল স্টেডিয়াম। আনন্দের অতিশর্যায় শেখ হাসিনার সফলতায় মহু মহু শ্লোগানে পরিনত হয় অনুষ্ঠানস্থল। অনুষ্ঠান স্থলে শুধু চাঁদপুর শহরবাসীই উপস্থিত ছিলেন না, ছিলেন জেলার বিভিন্ন উপজেলার সূধী সমাজ ও রাজনিতীক নেতৃবৃন্দ।

তারাও বাদ্য বাজনাসহ খন্ড খন্ড আনন্দ মিছিল নিয়ে চাঁদপুরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। জেলাবাসী উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের অন্যতম স্বপ্নের সেতু পদ্মা সেতুর বাস্তব উদ্বোধন।

পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শিক্ষামন্ত্রী ডা:দীপু মনি এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ আর আজকে তার কন্যা দিলেন পদ্মা সেতু। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়েছিলেন মুক্তির পথ এবং সপ্ন দেখিয়ে গিয়েছিলেন আর সেই সপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, গত ৪১ বছর ধরে ক্রমাগত তিনি সংগ্রাম করেই যাচ্ছেন শেখ হাসিনা এবং সাথে বাংলাদেশকে নতুন করে সপ্ন দেখাচ্ছেন আর সমস্ত সপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য যতকিছু প্রয়োজন সমস্ত কিছু করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা।

তিনি আরো বলেন, আজকের বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ, আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। আর এই বাংলাদেশ কে এই ডিজিটাল বাংলাদেশ কে উদ্ভাবনী বাংলাদেশে রুপান্তর করার জন্য নিরলস কাজ করে শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যেদিন স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এলেন তার পরের থেকে প্রতিটি দিনই চ্যালেঞ্জ এর মধ্য দিয়ে কেটেছে। সেই সাথে শেখ হাসিনার প্রতিটি দিনই চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাটছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সবাই চেয়েছিলেন এই সেতুর নাম শেখ হাসিনা সেতু হোক কিন্তু তিনি এই সেতুর নাম দিলেন পদ্মা সেতু,বাংলাদেশে তার নাম ফুটাতে চাননি তিনি চেয়েছিলেন বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে ফোটাতে যার প্রমাণ দেখলেন আজ পদ্মা সেতুর মাধ্যমে।এই পদ্মা সেতু আমাদের বিজয়ের প্রতীক, এই পদ্মা সেতু আমাদের অপমানের প্রতিশোধ, আমাদের সাফল্যের প্রতীক আর এই বাংলাদেশের সকল উন্নয়ন শেখ হাসিনার হাত দিয়ে হচ্ছে এবং হতেই থাকবে। আজ শেখ হাসিনা মানেই বাংলাদেশ। আপনারা শেখ হাসিনা কে ভোট দিয়েছিলেন বলেই আজকে এই পদ্মা সেতু সুতরাং আগামী নির্বাচনেও শেখ হাসিনা কে ভোটের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে হবে আমরা বাংলাদেশ কে কতটা ভালোবাসি। যারা স্বাধীনতার বিরোধী,গনতন্ত্রের বিরোধী তাদের দিয়ে আমরা যেন আবার আওয়ামীলীগ কে নেতৃত্বে এনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

শেয়ার করুন: