পারিবারিক কলহের জেরে কচুয়ায় গৃহবধূর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কচুয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে জান্নাত আক্তার (১৮) নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। ৫ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের দেওয়ান বাড়িতে আত্মহত্যার এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কচুয়া থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

সরেজমিনে গেলে গৃহবধূ জান্নাত আক্তারের বড় বোন মর্জিনা ও জেঠা আলী হোসেন জানান, উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের দেওয়ান বাড়ির মৃত অলি উল্লাহর মেয়ে। ২০২০ সালে জান্নাত আক্তারের সাথে কচুয়া পৌরসভাধীন কড়ইয়া গ্রামের রহিম কমিশনার বাড়ির আবিদ আলীর পুত্র কাউছার হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস অতিবাহিত হতে না হতেই স্বামী,শাশুড়ি ও ননদ যৌতুকের দাবিতে জান্নাতের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় গ্রাম্য সালিস-বৈঠক বসে সমাধান করা হয়। জান্নাতের একটি ৯ মাসের কন্যাসন্তান রয়েছে।

প্রায় মাসখানেক পূর্বে তাকে যৌতুকের দাবিতে বেদম মারধর করা হলে তার ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট কচুয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতেও সালিস-বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়ে দেয়া হয়। এতে জান্নাত আক্তারের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। স্বামী গৃহে লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে গত ৩১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টায় জান্নাত আত্মহত্যার চেষ্টা করে। টের পেয়ে স্বামী কাউছার তাকে উদ্ধার করে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়।

জান্নাত আক্তারের মা জ্যোৎস্না বেগম বলেন, বিয়ের পর বিভিন্ন সময় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জামাই কাউছারকে লক্ষাধিক টাকা দেই। তারপরও জান্নাতের ওপর নির্যাতনের কমতি ছিলো না। ঘটনার দিন সকালে জান্নাত মামার বাড়ি বেড়াতে যায়। সেখান থেকে দুপুর ১টার দিকে বাড়ি ফিরে তার একমাত্র ৯ মাসের কন্যাসন্তানকে আমার কোলে দিয়ে সে ঘরে গিয়ে আত্মহত্যা করে।

পরে খবর পেয়ে কচুয়া থানার ওসি (তদন্ত) ছানোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

জান্নাতের স্বামী কাউছার হোসেনের ব্যবহৃত ০১৮৩৩৭০১৪২৪ নাম্বারে ফোন দিয়ে তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করলে তার ফোনটি ভাবী পরিচয়ে এক নারী রিসিভ করে বলেন, কাউছার বাড়িতে নেই।

এ ব্যাপারে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মহিউদ্দিন জানান, গৃহবধূ জান্নাত আক্তারের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্যে চাঁদপুরের মর্গে প্রেরণ করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *