পিকনিকের উদ্দেশ্যে চাঁদপুরে যাওয়া লঞ্চে অসামাজিক কার্যকলাপে আটক ৯৬

সদরঘাট থেকে চাঁদপুরে পিকনিকের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি লঞ্চে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ৯৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এদের মধ্যে ৪৯ জন নারী ও ৪৭ জন পুরুষ।

১২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পানগাঁও থেকে এমভি রয়েল ক্রুজ-২ নামের লঞ্চটিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক ও লঞ্চটি জব্দ করা হয়। পরে ৮৯ জনের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপ, ১০ জনের বিরুদ্ধে জুয়া খেলা ও ৭ জনের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে র্যাব।

র‌্যাব-১০ এর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার শহীদুজ্জামান বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে গ্রেফতারকৃতদের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়।

র‌্যাব-১০ এর মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে এমভি রয়েল ক্রুজ-২ বিলাসবহুল লঞ্চটিতে পিকনিকের নামে মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হবে। এ সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের কয়েকজন সদস্য যাত্রীবেশে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল হতে এমভি রয়েল ক্রুজ-২ লঞ্চে অবস্থান নেন।

লঞ্চ ছাড়ার পর লঞ্চে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার, জুয়ার আসর ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়টি নিশ্চিত হলে লঞ্চে অবস্থানরত র্যাব সদস্যরা লঞ্চটি থামাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু লঞ্চের ক্রুরা অসহযোগিতা করলে র‌্যাবের আরেকটি দল দুটি ট্রলারযোগে পানগাঁও গুদারাঘাট বরাবর মাঝনদীতে লঞ্চটিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পরে লঞ্চটিতে আভিযান চালিয়ে মাদকের অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেফতার ও তাদের কাছ থেকে ১৩০ পিস ইয়াবা, ১০৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদ, ২ লিটার বিদেশি মদ, ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। ১০ জনকে জুয়া খেলার অপরাধে গ্রেফতার এবং তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলার বোর্ড, ৮৩২ পিস কার্ড (তাস) উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ৪৯ নারী ও ৪০ পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের কাছ থেকে যৌন উত্তেজক সিরাপসহ বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া গেছে।

র‌্যাব জানায়, ঢাকার ক্যাসিনো ক্লাবগুলো বন্ধ থাকায় কিছু অসাধু লোক অভিনব উপায়ে নৌবিহারের আড়ালে বিলাসবহুল লঞ্চে মাদক বিক্রয়, জুয়া খেলা ও অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল।

এদিকে পিকনিকের লঞ্চে এভাবে গণহারে গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রেফতারকৃতদের স্বজনরা। তাদের দাবি, লঞ্চে হাতেগোনা কয়েকজন হয়তো মদ জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে কিন্তু র‌্যাব ঢালাওভাবে সবাইকে অপরাধী বানিয়ে দিয়েছে।

গ্রেফতার মোজাম্মেলের বড়ভাই মজিবর রহমান জানান, তার ভাই সিএনজিচালক। শুক্রবার বন্ধের দিন হওয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে ওই লঞ্চে পিকনিকে যায়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়েছে। এটা মোটেও সঠিক নয়, মোজাম্মেল এরকম মানুষ না।

মাদক মামলায় গ্রেফতার ইলিয়াসের ভাই হাসান জানান, তার ভাই বিড়ি-সিগারেট খায় না। অথচ সে নাকি মাদক গ্রহণ করেছে। তাকে মাদক মামলায় জড়িয়েছে র‌্যাব।

টঙ্গী থেকে আসা সাহিদা বেগম বলেন, ৯৬ জনের মধ্যে তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েও রয়েছে। মেয়ে তার এক বান্ধবীর মাধ্যমে পিকনিকে এসেছিল। পরে জানতে পারি আমার মেয়েসহ লঞ্চে উপস্থিত সব নারীকে অভিযুক্ত করে মামলা দিয়েছে র‌্যাব। আমি এর প্রতিবাদ জানাই।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *