প্রজম্মকে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে হবে : এমপি সফিক

মাসুদ রানা ॥

চাঁদপুর বিজয় মেলার মঞ্চে ৮ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত দিবস হয়েছে । এই দিবসটি যথাযথভাবে পালন লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও মেলা উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদের সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধা মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন,রবিউল আউয়াল কিরণ বিএলএফ কমান্ডার ছিলেন ছিলেন। তিনি চাঁদপুর মুক্ত দিবসে প্রথম চাঁদপুরে পতাকা উত্তোলন করেন। আমি মমিন খান মাখনের নেতৃত্বে চাঁদপুরে প্রবেশ করি। মহামায়ার কাছে শত্রুদের সাথে কয়েক ঘন্টা আমাদের যুদ্ধ হয়েছে। যার ফলে আমরা ৯ ডিসেম্বর চাঁদপুরে প্রবেশ করি।

তিনি আরো বলেন,চাঁদপুরের প্রথম শহীদ জাবেদকে আমরা চাঁদপুরের দক্ষিণে পাঠিয়েছিলাম। তাকে আমি এগিয়ে দিয়েছিলাম। একদিন পর শুনতে পাই জাবেদ শহীদ হয়েছে। বঙ্গ নেতা জীবনের ১৩টি বছর জেলে কাটিয়েছেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছা তার সন্তানদেরকে খিচুরি খাইয়ে লালন পালন করেছেন। তার কারণ ছিল বঙ্গনেতা কারাগারে থাকা। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট শিশুর রাসেল খুনিদের বলেছিল আমাকে তোমরা ছেড়ে দাও আমি মায়ের কাছে চলে যাব । এ বাড়িতে আর আসব না। সেদিনের খুনিরা শেখ রাসেলকে তার মায়ের কাছে নিয়ে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল। সেপ্টেম্বর মাস এত রাজাকর জন্ম নিল বলা বাহুল্য। শেখ মনির বার্তা পেলাম, আমরা জয়ী হবো।৭ মার্চ আমরা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরলাম। ৯ মাস যুদ্ধ করলাম।

৩০ লাখ শহিদের আত্মদান আর ৫ লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেলাম স্বাধীনতা।আমাদেরকে ভারত প্রথম স্বিকৃতি দেয়। আনন্দে নাসির কোটে এক বাড়িতে ছিলাম, সেখানে গুলি ফাটিয়ে আনন্দ করি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আমাদেরকে সেদিন সহায়তা করে। সেপ্টেম্বর মাসে ইন্দিরা গান্ধী ৩৭ টি দেশ ভ্রমণ করে বলেছিলেন আমার পার্শ্ববর্তী দেশের নারীদের নির্যাতন করা হচ্ছে আমি তাদের পাশে থাকবো। তোমরা আমাকে সহায়তা কর।

তিনি আরো বলেন, আজকে এখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধারা আছেন তারা হয়তো আর কয়েক বছর বেঁচে থাকবেন। তাই এ বিজয় মেলার মাধ্যমে প্রজম্মকে স্বাধীনতার সত্যিকার ইতিহাস জানতে হবে। হায়নার দল এখনো থেমে নেই। মাঝে মাঝে কারা মাথাচারা দিচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধ হলো রাজনৈতিক যুদ্ধ। বিএনপি, জামায়াত,আলসামস অপশক্তি কে আমাদের রুখতে হবে।সেদিন ৩১৩ জন বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা হলো বিশ্বের বিশ্ব নেতা। তিনি একজন দক্ষ নেত্রী। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে না খেয়ে কেউ নেই।আমাদের দেশে সংকট দেখা দিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা সেই সংকট থেকে দেশকে উত্তরন করেছেন। কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। তার জন্য শেখ হাসিনাকে আবারো নির্বাচিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের স্বিকার করতে হবে মুক্তিযুদ্ধাদের এ সরকার সম্মান করছে। তিনি মন থেকে ধারণ করে তা করছেন। কিছু কিছু বিষয় আপোষ করা যাবেনা। আপনি যে দল করেন না কেন,এটা অস্বিকার করতে পারবেন না বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ দেশে স্বাধীনতা এসেছে। তখনকার প্রার্থক্য আর এখনকার প্রার্থক্য এক নয়। প্রধানমন্ত্রী বরেছেন ২০৪১ সালেন মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে দাঁড়াবে। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।

তিনি আরো বলেন, ১১ বছর আগে আমি এ জেলায় জেলা প্রশাসক ছিলাম। আমি নিজেকে এখনো চাঁদপুরের মনে করি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান,পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ,জেলা মুক্তিযুদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল হাফিজ খান,কমিউনিস্ট পার্টি চাঁদপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির হোসেন। সঞ্চালনা করেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার মহাসচিব হারুন আল রশিদ ।

সভার শুরুতে কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন মুক্তিযুদ্ধা ছানা উল্যাহ খান ও গীতা পাঠ করেন মুক্তিযুদ্ধা সাধন সরকার।

রাতে সাংস্কৃতিক পরিষদের ব্যবস্থাপনায় চাঁদপুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পরিবেশনায় মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শেয়ার করুন: