প্রবীণ সাংবাদিক খালেক পিতা-মাতার পাশে চির নিদ্রায় শায়িত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুরের প্রবীণ সাংবাদিক ও শিক্ষক মিয়া মুহম্মদ আবদুল খালেক ইন্তেকাল করেছেন।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী রোডস্থ নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি……. রাজেউন। তিনি ২ ছেলে, ৩ মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম হাসু ২০০৭ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী রোডস্থ নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাদ আছর তার জন্মভূমি বিষ্ণুদী রোডস্থ এলাকায় বিষ্ণুদী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা নামাজের শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে তার পিতা মাতার পাশে ধর্মীয় বিধানমত দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তার জানাজা নামাজে এলাকাবাসী, আত্মীয় স্বজন, ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছাড়া ও উপস্থি ছিলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, শহীদ পাটওয়ারী ও সাবেক সাধারন সম্পাদক এএইচএম আহসানউল্লাহ্ ।

মৃত্যুরপরও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এ সাংবাদিক পাশে অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। তারা এ সাংবাদিক পরিবারের পাশে সব সময় থাকবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

মিয়া মুহম্মদ আব্দুল খালেক ছিলেন স্বাধীনতোত্তর চাঁদপুর মহকুমা থেকে প্রথম প্রকাশিত সাপ্তাহিক চাঁদপুর বার্তার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক। পাশাপাশি তিনি ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। সর্বশেষ তিনি বিষ্ণুদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। এখান থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করতেন এবং বিভিন্ন পত্রিকায় মাঝেমধ্যে লেখালেখি করতেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন এবং লেখালেখি প্রায় ছেড়ে দেন।

মিয়া মুহম্মদ আব্দুল খালেক ১৯৪৩ সালের ১৩ মার্চ জন্মগ্রহণ্রহণ করেন। সাংবাদিকতায় তিনি ছিলেন সাহসী ও প্রতিবাদী চরিত্রের অধিকারী। এজন্য বারবার রোষানলে পড়েন বিভিন্ন মহলের এবং মামলার শিকার হয়ে হুলিয়া মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ান দেশের বিভিন্ন স্থানে। আশির দশকের শেষ দিকে তাঁর পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিল করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক এসএম শামসুল আলম। তাঁর জীবন সায়াহ্নে তাঁর পাশে অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে চাঁদপুর প্রেসক্লাব ও প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ ( পিআইবি)। তাঁকে চাঁদপুরের বিভিন্ন পত্রিকা ও সংগঠন সম্মাননা প্রদান করে।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published.