ফরিদগঞ্জে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে খুন হয় হাবিব, আটক ৫

ফরিদগঞ্জ প্রতিবেদক:
ফরিদগঞ্জে লাশ উদ্ধারের ৪৮ ঘন্টার মাথায় খুন হওয়া যুবক হাবিব হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়া প্রেম সংক্রান্ত বিরোধে খুন হয়েছে হাবিব।১১ আগস্ট বুধবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ প্রেস কনফারেন্সে এ তথ্য জানিয়েছে। খুনের সাথে জড়িত থাকার ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ-ফরিদগঞ্জ সার্কেল) সোহেল মাহমুদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পরকীয়া প্রেম সংক্রান্ত বিরোধে খুন হয়েছে হাবিব।

উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের হর্নিদূর্গাপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী ফারুক হোসেন এর স্ত্রী তানিয়া আক্তার শিউলীর সাথে হাবীব(২৫), রুবেল (৩০) ও সিফাত উল্লা রাসেল(২৬) এর সাথে দীর্ঘদিন পরকীয়া প্রেম চলে আসছিল। প্রেমকে কেন্দ্র করে হাবিবের সাথে রুবেল ও রাসেলের বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং রুবেল তাদের শিউলির জীবন থেকে দূরে সরে যেতে হুমকি দেয়।

এই ঘটনার জের ধরে, ৪ আগস্ট রোববার রাতে গুপ্তের বিল এলাকায় হাবিবকে ফোন করে ডেকে আনে রুবেল। সেখানে পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে ওৎ পেতে থাকে রুবেলের আরো তিন সহযোগী সাইফুল (৩৩), সিফাত উল্লা রাসেল (২৭) ও পারভেজ হোসেন শ্যামল (২৬)।

ঘটনাস্থলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাবিবকে পেছন থেকে গলায় নাইলনের দড়ি পেঁচিয়ে ধরে সাইফুল, রাসেল ও শ্যামল দুই হাত ধরে এবং রুবেল পা ধরে মাটিতে পেলে শ্বাস রোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে তারা। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরে লাশ পাশে গুপ্তের বিলে পেলে দেয়।

অতঃপর হাবিবের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও হত্যার কাজে ব্যবহার করা লাইলনের দড়ি রুবেল পরকীয়া প্রেমিকা তানিয়া আক্তার শিউলীর বাড়ির সামনে খালে পেলে দেয়। রুবেল রাতেই প্রেমিকা তানিয়া আক্তার শিউলীর সাথে দেখা করে হাবিব হত্যার বিষয়ে তাকে অবগত করে আত্মগোনের জন্য ঢাকায় চলে যায়।

এরপর ৮ আগষ্ট রোববার দুপুরে গুপ্তের বিলে স্থানীয় দুইটি শিশু কচুর লতি খুঁজতে গিয়ে অর্ধ গলিত লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে অবহিত করে।

পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে অনুসন্ধানে নামে এবং হাবিবের মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে প্রথমে প্রবাসীর স্ত্রী তানিয়া আক্তার শিউলিকে জিজ্ঞাসা করলে তার দেওয়া তথ্য মতে ঢাকার উত্তরা থেকে আসামি রুবেলকে আটক করে। এরপর রুবেল দেওয়া তথ্যমতে বাকি তিন আসামিদেরকে এলাকা থেকে আটক করা হয়।

আসামিদের আটকের পর তাদের দেওয়া তথ্যমতে ওই খাল থেকে পুলিশ মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে এবং হত্যার কাজে ব্যবহৃত দড়িটি এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।

হত্যার রহস্য উদঘাটনে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদের নেতৃৃত্বে ও দিকনির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যা মামলাটি উদঘাটন করেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসন, তদন্ত (ওসি) বাহার মিয়া, এসআই জামাল হোসেন, রুবেল ফরাজি, নুরুল ইসলাম, এএসআই শিকদার হাসিবুর রহমান।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *