ফরিদগঞ্জে সম্পত্তি দ্বন্ধে কাজ বন্ধ

আবদুল কাদির ॥

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৪নং দক্ষিন ইউনিয়নের মদিনা বাজারে জোরপূর্বক এমনকি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান ঘর নির্মাণ করার অভিযোগে আদালতে মানলা করেছেন ভুক্তভোগী মোস্তফা গাজী।অপরদিকে বায়না চুপ্টি ও দলিল অনুযায়ী সম্পত্তি বুঝিয়ে নাদেওয়ায় থানায় অভিযোগ করেছেন নুরুল ইসলাম।

তথ্যমতে,মোস্তফা গাজী বাদী হয়ে চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নূরুল ইসলাম এবং আনিছ মজুমদারকে বিবাদী করে ন্যায় বিচার ও নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ৮৬৮/২২ একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারিক আদালত ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে,উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের হর্নিদূর্গাপুর মদিনা বাজারে হর্নি মৌজার,বিএস (চুড়ান্ত) ৮৯২নং খতিয়ানের ৮৫৩০ নং দাগে .২৭৪ একর জায়গা পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত হন মোস্তফা গাজী।

অপরদিকে একই খতিয়ানে ক্রয়সূত্রে .০১১০ এক শতক দশ পয়ন্ট জমি প্রাপ্ত হন প্রতিপক্ষ বিবাদী নূরুল ইসলামের ছেলে সোহেল রানা ও আনিছ মজুমদারের ভাই আরিফ মজুমদার। পরে সড়কের পাশের মুল্যবান ওই জায়গাতে সঠিকভাবে নানিয়ে বেশী সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। অপরদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যান বিবাদী প্রতিপক্ষ নূরুল ইসলাম ও আনিছ মজুমদার।

বাসিন্দা মাসুদ আলম জানান,আমরা চাই উভয়পক্ষ নিজেরা মিমাংসা করে ফেলুক। যিনি বিক্রি করেছেন তিনি বুঝিয়ে দিবে, যিনি কিনেছেন তিনি বুঝে নিবেন এখানে সমস্যার কিছু দেখিনা।

বাজার ব্যাবসায়ী মহিউদ্দিন বলেন, মূলত সমস্যা রাস্তার যায়গা নিয়ে। বিক্রেতার দাবী রাস্তা থেকে পেচনে ২৪ ফুট,আর ক্রেতার দাবী পূর্বের স্থাপনা( দোকান ঘর) থেকে ২৪ফুট। মূলত এনিয়ে উভয়ের মাঝে ঝগড়া।

মোস্তফা গাজী বলেন, আমার বিশেষ প্রয়োজনে ২৪ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ফুট প্রস্থ্য উল্লেখ করে দুটি পৃথক দলীলের মাধ্যমে এক শতক দশ পয়েন্ট ভূমি বিক্রি করি। উভয় দলিলে স্পষ্ট করে চৌহদ্দি দেওয়া আছে পশ্চিমে রাস্তা এবং পূর্বে আমার দখলিত ভূমি। অথচ তারা গায়ের জোরে প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার পাশের অংশ বাদ দিয়ে পিচনের অংশে আমার দখলিত(অবিক্রিত) ভূমি দখলের চেষ্টায় স্থাপনা নির্মান করতে যায়। তারা আমার বাধা উপেক্ষা করে নির্মান কাজ চালিয়ে গেলে উপায়-আন্তর নাপেয়ে আমি আদালতের শরণাপন্ন হই।

এ বিষয়ে নূরুল ইসলাম ও আনিছ মজুমদার বলেন, আমরা খরিদ সূত্রে উল্লেখিত সম্পত্তির মালিক হই। আমরা আমাদের সম্পত্তিতে দোকান ঘর নির্মাণ করতে গেলে মোস্তফা গাজী বাঁধা দিয়ে আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করে আমাদের চলমান কাজ বন্ধ করে দেয়।

তারা আরো বলেন, আমরা দোকানের সামনে রাস্তার যায়না কিনি নাই, আমরা স্থপনা( দোকান ঘরের জায়গা) কিনেছি। আমরা টাকা দিয়ে রাস্তার যায়গা কিনব কেন। উল্টো মোস্তফা গাজী টাকা নিয়ে এখন আমাদের হয়রানির করছে। নুরুল ইসলাম আরো বলেন,মোস্তফা গাজীর সাথে সাথে আমার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। অথচ এখন সে যেভাবে বিক্রি করেছে সেভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেনা। আমরা দোকান ঘরের জায়গা কিনেছি এবং দলিলে স্পষ্ট করে স্থাপনার কথাটি উল্লেখ করা আছে। আমরা যতটুকু কিনেছি তা নেওয়ার পর, যতটুকু থাকার কথা ততটুকু তার দখলে ঠিকই আছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এ.এসআই ইকবাল হোসেন জানান,উল্লেখিত সম্পত্তির বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞার আলোকে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং উভয় পক্ষকে আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ছি।

শেয়ার করুন: