ফরিদগঞ্জে স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী আটক

আব্দুল কাদের॥

ফরিদগঞ্জে স্ত্রী সেলিনা বেগম (২৩)কে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে স্বামী জসিম (৩৭)কে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে পারিবারিক কলহের জের ধরে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামের ফকির বাড়িতে গত মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে দুই সন্তানের জননী সেলিনা বেগম।

তাৎক্ষণিক ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি দেখে কমর্রত চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের ইমাজেন্সিতে নিয়ে গেলে ডাক্তার সেলিনাকে মৃত ঘোষনা করেন। সেই সময়ই সেলিনার বোন, বাবা এবং মা হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে তাৎক্ষনিক স্বামী জসিমকে আটক করে ফরিদগঞ্জ থানায় অবগত করে। সেলিনা ও জসিমের ঘরে ৫ বছরের একটি ছেলেও ১৮ মাসের একটি ফুটফুটে মেয়ে রয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার পৌর এলাকার আজিম বাড়ীর আব্দুর রহমানের মেয়ে সেলিনা বেগম(২৩) সাথে গাব্দেরগাঁও ফকির বাড়ীর আলী আহম্মদের ছেলে জসিম(৩৭) এর পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। এর আগে বিগত ৯ বছর পুর্বে জসিম উদ্দিন একই ইউনিয়নের বদিউজ্জামনপুর গ্রামের সেলিনা আক্তার নামের অন্য একটি মেয়েকে বিবাহ করেছিল। প্রবাসে থাকাকালীন প্রথম স্ত্রী সেলিনা আক্তার পারিবারিক অশান্তির কারনে নিজেই জসিমকে তালাক দেয়। জসিম উদ্দিন প্রবাস থেকে ফিরে বর্তমান স্ত্রী সেলিনা বেগমকে বিয়ে করলেও বেকার স্বামী ও শ্বশুর শাশুড়ির সাথে যৌতুক এবং লেনদেন নিয়ে বিবাদ লেগেই থাকতো।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) ঘরে কোন খাবার না থাকায় তা নিয়ে এবং বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার বিষয়ে সেলিনা বেগমকে জসিম মারধর করে। খবর পেয়ে সেলিনার বাবা মা উভয়ে এসে মেয়েকে মানিয়ে চলার পরামর্শ দেন। সেলিনা এক পর্যায়ে মনের ক্ষোভে হয়ে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স, চাঁদপুরে জেনারেল হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের ইমাজেন্সিতে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সেলিনাকে মৃত ঘোষনা করেন।

উল্লেখ্য জসিমের ছোট ভাই নাদিরের স্ত্রী ভাটিরগাঁও গ্রামের আয়শা বেগমও পারিবারিক অশান্তির কারণে ইতিপুর্বে আত্মহত্যা করেছিলো। ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শহিদ হোসেন জানান, আত্মহত্যার প্ররোচনার জন্য জসিমের স্ত্রী সেলিনার বেগমের পিতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। ঢাকা থেকে লাশ এবং আসামী আনার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *