বাংলাদেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে:তারেক রহমান

কেএম মাসুদ রানা ॥

চাঁদপুর জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।২৮ রমজান ৩০ এপ্রিল শনিবার বাদ আছর শহরের মুনিরা ভবনে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিমের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাড. বোরহান উদ্দিন।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্যে রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া। আরো বক্তব্যে রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটওয়ারী, আলহাজ্ব এমএ হান্নান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ যাবে কোন পথে ফয়সালা হবে রাজপথে। ১৯৭১ সালে শহীদ জিয়া যেভাবে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে বসে ছিলেন না, স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। রাজপথে নেমে এসেছিলেন। বিএনপি’র সকল নেতাকর্মীদের আন্দোলনের ডাক দিয়ে ঘরে বসে থাকলে চলবে না, রাজপথে নেমে আসতে হবে। রাজপথে নেমেছে আন্দোলন সফল করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলায়, ভোট চুরির প্রতিবাদ করায় এই সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম ও খুন করেছে। বিএনপি’র চল্লিশ লক্ষ নেতাকর্মীর নামে মামলা দিয়েছে।চাঁদপুরের অনেক কর্মিকে জীবন দিতে হয়েছে। বিএনপি’র কোন নেতা কর্মী বাদ নেই যাদের নামে মামলা নেই। কিছুদিন আগে মিথ্যা মামলায় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আপনাদেরই নেতা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

এর মূল কারন নেতৃবৃন্দ এই দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। সে সময়ে ১১ কোটি ভোটারের কেউ ভোট দিতে পারেনি। কারন এরা গণতন্ত্রকে ভয় পায়। যে দেশে অভাবের তারনায় মানুষ আত্মহত্যা করছে, কৃষক, শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষগুলো না খেয়ে মারা যাচ্ছে। ঢাকা নিউ মার্কেট চাঁদা না দেওয়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে দুইজনকে হত্যা করেছে। এই দেশের বিনা ভোটের সরকার বিদেশ থেকে শিল্পী এনে কোটি কোটি টাক খরচ করে নাচ ও গান শোনেন। এভাবে চলতে দেয়া যায়না।
তারা আরও বলেন, আর কোন কোর্টের বারান্দায় ধরনা নয়। এখন সময় এসছে প্রতিরোধ করার। এ দেশের মানুষকে এবং নিজেদের বাঁচতে হলে কঠোর আন্দোলনের কোন বিকল্প নাই।

আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন,দেশকে রক্ষায় সকল স্তরের নেতাকর্মী এবং গণতন্ত্রের পক্ষে যেসব শক্তি আছে তাদের সকল জনগণকে রাজপথে নামার আহবান জানানো হয়।

তারেক রহমান বলেন, আজ সময় এসেছে নেতাকর্মী আপনার এবং দলের স্বার্থে দেশের এবং আপনার পরিবারের সাথে সমগ্র দেশের মানুষের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আসুন আমরা ইফতারের পূর্ব মূহুর্তে প্রতিজ্ঞা করি, শহীদ জিয়া যেভাবে বন্দুক হাতে এই দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। খালেদা জিয়া স্বৈরাচার পতনের ডাক দিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আজ আমাদেরকে রাজপথে নেমে আসতে হবে। বাংলাদেশ যাবে কোন পথে ফয়সালা হবে রাজপথে।

আলোচনা সভায় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপি নেতা মাহবুব আনোয়ার বাবলু, জসীম উদ্দীন খান বাবুল, দেওয়ান সফিকুজ্জামান, মুনীর চৌধুরী, আক্তার হোসেন মাঝি, সেলিমুছ সালাম, খলিলুর রহমান গাজী, এমএ শুক্কুর পাটোয়ারী, শরীর মোহাম্মদ ইউনুস, ফেরদৌস আলম বাবু, অ্যাডঃ জহির উদ্দিন বাবর, অ্যাডঃ হারুনুর রশিদ, শাহজালাল মিশন,অ্যাডঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খান, অ্যাডঃ শামসুল ইসলাম মন্টু, কচুয়ার হুমায়ুন কবির প্রধান, মতলবের তানভীর হুদা, হাজীগঞ্জ আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান খান বাচ্চু,অধ্যক্ষ আলমগীর কবির পাটোয়ারীসহ অন্যান্য উপজেলার নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল,মহিলা দল, শ্রমিকদলের বিভিন্ন পর্যায়ের হাজার হাজার নেতাকর্মী এই আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য শেষে দেশ জাতি এবং মসুলিম উম্মাহর শান্তি ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ অসুস্থ নেতাকর্মীদের রোগ মুক্তি এবং সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

শেয়ার করুন: