বিষ্ণুপুরে স্ত্রী খুনের ঘটনায় স্বামী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় রুপা বেগম (২৮) নামে নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৯ মে সোমবার বেলা ১১টার দিকে ওই এলাকার দনপর্দ্দি গ্রামের মজিদ প্রদানিয়া বাড়ির দ্বিতলা বিল্ডিং এর নীচতলা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ।

নিহত রুপা বেগম একই ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাবাজার এলাকার প্রধানিয়া বাড়ীর নাছির দেওয়ানের স্ত্রী। তার দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই নারীর স্বামী নাছির দেওয়ান পলাতক রয়েছেন। রুপা বেগম এর পিতার বাড়ী সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে।

নিহতের ছেলে রবিউল ইসলাম জানান, বাবা নাছির উদ্দিন আমার মাকে রাতের কোনো এক সময়ে হত্যা করেছে। সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে রুমে গিয়ে দেখি দরজা খোলা। ভেতরে প্রবেশ করে দেখি, আমার মায়ের গলা কাটা লাশ পরে আছে। এরপর আমি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।

তিনি আরো জানান, বাবা-মাকে প্রায় সময় মারধর করতেন। গত মাসে আমার মা নির্যাতন সইতে না পেরে আগের ভাড়া বাসা থেকে চলে আসে এবং এখানে বাসা ভাড়া নেয়। এভাবেই প্রায় বাবা আমার মাকে নির্যাতন করতো। এখানে বাসা নেয়ার পর খবর পেয়ে গত দুদিন আগে বাবা আবার এখানে চলে আসেন। নিহত রুপা বেগম মুন্সিরহাট বাজারে ছিদ্দিক গাজীর হোটেলে কাজ করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা লিটন হাজরা জানান, নাছির দেওয়ান স্ত্রী সন্তান নিয়ে মজিদ প্রধানিয়ার বাড়ীতে ভাড়া থাকেন। পেশায় রং মিস্ত্রি। রবিবার দিনগত রাতের কোন এক সময় এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা সংবাদ দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। কি কারণে এই ঘটনা কেউই এই মুহুর্তে বলতে পারছে না।

এদিকে, সংবাদ পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পিবিআই ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল জানান, মজিদ প্রধানিয়ার বাড়ীর নীচতলার একটি কক্ষ থেকে নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হবে। আইনী ব্যবস্থাসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসিফ মহিউদ্দিন বলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ধনপর্দ্দি গ্রামের প্রধানিয়া বাড়িতে ভাড়াটিয়া নাসির উদ্দীন দেওয়ান তার স্ত্রী রূপা বেগম কে ধারালো বটি দা দিয়ে গলা জবাই করে হত্যা করা হয়। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্হলে এসে হত্যার কাজে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করেছি। আমাদের সাথে সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

এদিকে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করার সময়ে খুনী নাছিরের মা রহিমা বেগম ও শিল্পী আক্তারকে ঘটনার ক্লু উদঘাটনে থানায় নিয়ে আসে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ধনপদ্দি গ্রামে গলাকেটে গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় সন্দেহ ভাজন হিসেবে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ নিহত গৃহবধূর শাশুড়ী ও ননদকে আটক পর নিজেই আত্নসমর্পণ করেছেন খুনি নাছির।

এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনা উদঘাটনে এবং খুনীকে আটক করতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। এতে খুনী নাছিরের মা ও বোনকে কৌশল অবলম্বন করে নাছিরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে এ ঘটনা থেকে রক্ষা করা হবে এবং পুলিশি হয়রানি করা হবে ও ঘটনার সাথে সে জড়িত না এমনটি পুলিশকে বুজাতে সক্ষম হবে। এমন মর্মে খুনী নাছিরের পরিবারের সদস্যরা তাকে বুজাতে সক্ষম হলে সে ঢাকা থেকে রফ রফ -৭ লঞ্চে উঠে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।
চাঁদপুর ঘাটের কাছাকাছি আসলে পুনরায় তার পরিবারকে জানালে পরিবারের সদস্যরাসহ পুলিশ সদস্যরা সাদা পোশাকে লঞ্চঘাটে অবস্থান করে। পরে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের এস আই মকবুল ও এস আই শাহরিনের নেতৃত্বে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনার পর পরই চাঁদপুর সদর এএসপি সার্কেল আসিফ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেই এ হত্যার কথা স্বীকার করেন।

শেয়ার করুন: