মতলবে হাজারও নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন মায়া চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুরের মতলবে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও জনসাধারণ ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরন করে নেন তাদের মাটি ও মানুষের নেতা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধে ২নং সেক্টরের ক্র্যাক প্লাটুনের কমান্ডার দুই বারের সাবেক সফল মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমকে। চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) নির্বাচনী এলাকার তৃণমূলের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন। মতলবে সংবর্ধিত হলেন তিনি। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য সাধারণ মানুষ রাস্তায় এসে অপেক্ষা করেন। তার আগমনকে ঘিরে মতলব উত্তরের শ্রীরায়ের চর ব্রীজে জনস্রোাতে পরিণত হয়।

১৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেল ৩টার সময় মতলব উত্তর উপজেলার শ্রীরায়েরচর ব্রীজে এসে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মায়া চৌধুরীর গাড়ি বহর এসে পৌছলে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও জনসাধারণ গোলাম ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরন করে নেন।

এসময় মায়া চৌধুরী হাত নেরে নেতাকর্মী ও সর্বসাধারণকে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। তার সাথে মায়া চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপু, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক আশফাক হোসেন চৌধুরী মাহি, মায়া চৌধুরী সহধর্মিনী মতলব উত্তর-দক্ষিণ মহিলা আ’লীগের প্রধান উপদেষ্টা মিসেস পারভিন চৌধুরী, সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপুর সহধর্মিনী মতলব উত্তর-দক্ষিণ মহিলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সূবর্না চৌধুরী বীণা সফরসঙ্গী হিসেবে নিজ এলাকা মতলবে আসেন। মতলবের ভালোবাসার মানুষকে দু’নয়ন ভরে দেখতে পেরে আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলো উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত।

ফুলেল

প্রিয় নেতার আগমন বিকেল ৩টায় ছেংগারচর পৌরসভাসহ প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা ব্যান্ডপার্টি,ব্যানার-ফেস্টুন,প্লেকার্ড নিয়ে বিশাল মোটারসাইকেল শোভাযাত্রা,মাইক্রো,লেগুনা ও পায়ে হেটে মিছিল নিয়ে দুপুর ১২ টার সময়ে উপজেলার শ্রীরায়ের চর ব্রিজে গিয়ে সমবেত হন। এসময় পুরো এলাকা মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে উঠে। মায়া চৌধুরী বিকেল র৩টার সময় গাগিবহর নিয়ে মতলবের শ্রীরায়েরচর ব্রীজে এসে উপস্থিত হলে জনস্রোতে পরিণত হয়।

এসময় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল,জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওছমান পাটোয়ারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক অ্যাড.রুহুল আমিন,সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস,উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক জেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার মিয়া মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার,জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ উদ্দিন খান,আল আমিন ফরাজী প্রিয় নেতা মায়া চৌধুরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।মতলবের ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব রফিকুল আলম জজ, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির খান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান ঢালী,উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য আল মাহমুদ টিটু মোল্লা এদের নেতৃত্বে ছেংগারচর পৌরসভা, উপজেলা যুবলীগের সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ হাসান মোর্শেদ আহার চৌধুরীর নেতৃত্বে শত শত মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা,বেন্ডপার্টি,মাইক্রো,লেগুনাসহ বিভিন্ন গাড়িবহর নিয়ে মায়া চৌধুরীর বরন করেন।

এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য গাজী মুক্তার, মোহনপুর আ’লীগ নেতা বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী মোঃ হাফিজল তপাদার,কলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান আঃ ছোবহান সরকার সুভাসহ ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা ব্যান্ডপার্টি,ব্যানার-ফেস্টুন,প্লেকার্ড নিয়ে বিশাল মোটারসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে প্রিয় নেতাকে সংবর্ধনা করেন।

দীর্ঘদিন পরে জনগণের মাঝে মতলবের মাটি ও মানুষের নেতা মায়া চৌধুরীকে কাছে পেয়ে যেন প্রাণ ফিরে পেল নেতাকর্মীরা। আওয়ামীলীগের নব-নির্বাচিত প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমকে মতলবের শ্রীরায়ের ব্রিজ থেকে স্মরনকালের সর্বসেরা মোটরসাইকেল ,প্রাইভেটকার,মাইক্রো,লেগুনসহশোভাযাত্রাসহকারে তার গ্রামের বাড়ি মোহনপুর আলী ভিলায় পৌছে দেন।

তিনি শ্রীরায়ের চর হইতেকালিবাজার,বেলতলি,কালিপুর,ষাটনল,শিকিরচর,দশানী,মোহনপুর বেরীবাধ হয়ে তার গাড়ি বহর বাড়ি পৌছেন। এসময় রাস্তার দু’পাশ থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও নারী পুরষরা প্রিয় নেতাকে অভিনন্দন জানান। তবে তার বাড়ি যাইতে ৪০ মিনিটের রাস্তা জনস্রোত পেরিয়ে তাকে বাড়ি পৌছতে সময় লেগে যায় ৪ ঘন্টা।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনীত হওয়ার পর নিজ এলাকা চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রমের এটি তার প্রথম সফর। আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়ে নিজ এলাকায় যাওয়ার পথে পথে হাজার হাজার নেতার্কীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন মায়া চৌধুরী।

এসময় নেতাকর্মীরা মায়া চৌধুরীর আগমন শুভেচ্ছায় স্বাগত, মতলবের মাটি শেখ হাসিনার ঘাটি, মতলবের মাটি মায়া চৌধুরীর ঘাটি,মায়া ভাই আসছে রাজপথ কাপছে,মায়া ভাই ভয় নাই,রাজপথ ছাড়ি নাই’’ শ্লোগানে শ্লোগানের মূখরিত করে তোলেন। নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও তাদের ভালোবাসার মর্যাদা দিয়ে গিয়ে তার গন্তব্যস্থলে পৌছতে অনেক সসময় লেগে যায়। এসময় মায়া চৌধুরী তার প্রিয় মাতৃভুমি মতলবের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সর্বসাধারণ তাকে শ্রদ্ধা,ভালোবাসা দিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে বরন করার জন্য সকল নেতাকর্মী ও জনসাধারণকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য মতলবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন। দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।

বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীরা দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন একজন ত্যাগী নেতাকে সর্বোচ্চ মূল্যয়ন করার জন্য। তারা মতলব উত্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, এই উপজেলা, থানা, অসংখ্য স্কুল কলেজ, রাস্তাঘাট,পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করেছেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর মায়া। তাঁর নেতৃত্বেই মতলব উত্তরে সকল উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। মায়া ভাই মতলবের উন্নয়নের রুপকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের যে মূল্যয়ন করেছেন এজন্য আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

ভিন্ন জায়গায় পথসভায় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে স্থান পাওয়া মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের বিশ্বস্ত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের সম্মান দিতে জানেন। এ কাজে তিনি কখনো পিছপা হবো না।’তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করায় জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার মতো একজন রাজপথের কর্মীকে তিনি উচ্চাসন দিয়েছেন।’

মায়া চৌধুরী আরও বলেলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলেন কর্মীদের নেতা। বিশ্বস্ত ও ত্যাগী কর্মীদের যে তিনি সম্মান দেন তার জ্বলন্ত প্রমান আমি। সেজন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আজকে আমার এই জায়গায় আসার পেছনে সকলেরই অনেক অবদান রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে একটানা জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় থাকায় সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ আরো শক্তিশালী হয়েছে।’ আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই দল আরো পরিশুদ্ধ ও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে ইনশাল্লাহ। ‘আগামীতে নৌকার জয়জয়কার থাকবে। নৌকা ছাড়া কোনো কথা থাকবে না।’

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম আরো বলেন, মতলবের আ’লীগের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। যারা দূরর্দিনে দলের জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য কাজ করেছেন আমি তাদের কথা মনে রাখবো।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published.