মতলব উত্তরের লেংটার মেলা বন্ধ থাকায় দর্শণার্থী ঠেকাতে তৎপর পুলিশ

মতলব উত্তর ব্যুরো :

১৭ চৈত্র থেকে ৭দিন ব্যাপি শুরু হতে যাওয়া চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর বেলতলি বদরপুর লেংটার মেলা বন্ধ ঘোষনা করেছে প্রশাসন। তারপর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শণার্থীরা শাহ সোলেমান (র.) মাজার জিযারতের উদ্দেশ্যে ছুটে আসছে। দর্শণার্থী ঠেকাতে তৎপর মতলব উত্তর থানা পুলিশ।

বুধবার দিনভর বদরপুর শাহ সোলেমান (র.) মাজার এলাকার চতুর্দিকের রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশ ডিউটিরত ছিলেন। মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামালের নেতৃত্বে অর্র্ধশত পুলিশ ফোর্স কর্তব্যরত ছিলেন। বিশ্ব ব্যাপি করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করায় মতলব উত্তরতে নিরাপদ রাখতে প্রশাসন এ উদ্যোগ গ্রহণ করে।

বাংলাদেশের সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে করোনা মহামারীর কারণে সরকার ১৮টি নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্যনীয়।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, করোনা মহামারি কারণে সারা বিশ^ আজ বিপর্যস্ত। জেলা প্রশাসন সকল দিক বিবেচনা করে শাহ সোলেমান (র.) এর ওরফ শরীফ করার অনুমতি দেননি। অতএব মাজার এলাকায় কোন বহিরাগত দর্শণার্থী প্রবেশ করতে পারবে না। সরকারের আদেশ মোতাবেক মতলব উত্তর থানা পুলিশ কাজ করছে। এ কাজে জেলা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত ৩০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোলেমান লেংটার বোনের বাড়ী বদরপুরে মাজারটি অবস্থিত। ১৩২৫ বাংলা সনের ১৭ চৈত্র শাহ্ সূফী সোলেমান লেংটা তার বোনের বাড়ি বদরপুর গ্রামে মৃত্যুবরণ করলে সেখানে কবর দিয়ে মাজার স্থাপন করা হয়। প্রতি বছর চৈত্র মাসের ১৭ তারিখে তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ৭দিন ব্যাপী ওরশ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এবং মেলা বসে। ওরশ শুর হওয়ার কয়েক দিন আগে ও পর পর্যন্ত মেলা স্থায়ী হয়।

এছাড়া প্রতি বছর ভাদ্র মাসে ও সপ্তাহের বৃহস্পতিবার মাজারে ভক্তদের আগমণ ঘটে। চৈত্র মাসের ১৭ তারিখের মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থানসহ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রতিদিন ৫-১০ লক্ষাধিক ভক্ত, আশেকান ও সাধারণ জনগণ আসা-যাওয়া করেন। ওরসকে কেন্দ্র করে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে মেলায় বসে রকমারি দোকান ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভক্তদের আস্তানা।

Recommended For You

About the Author: News Room

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *