মতলব উত্তরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাষাবাদ করার অভিযোগ

মতলব উত্তর ব্যুরো

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মধ্য টরকী গ্রামে বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাষাবাদ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সোমবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে টরকী গ্রামের রইস আঃ রব কর্তৃক চাষাবাদ করার জন্য ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা হচ্ছে। ওই জমি নিয়ে মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় বাদী মোঃ গোলাম কিবরিয়া সহ এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, টরকী মৌজার সাবেক ১৫৪০ হাল ১৬৪৬ দাগে ৪২ শতাংশ ও একই মৌজার সাবেক ১৫৪২ হাল ১৬৫১ দাগে ৪০ মোট ৮২ শতাংশ জমির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হয়ে মৃত বজলুর রহমান দেওয়ানজীর ছেলে আবু ছালেহ ইউসুফ, মেয়ে সাজেদা আক্তার, আয়েশা সিদ্দিকা ও খাদিজাতুল কোবরা এবং মৃত গোলাম ইউসুফ দেওয়ানজীর ছেলে ফজলুর রহমান ওরফে ফজলুর হক মালিক হয়ে একই গ্রামের মৃত ডাঃ আঃ রব এর ছেলে রইস আঃ রব এর কাছে বিক্রি করেন। ওয়ারিশান সম্পত্তি অংশীদারের কাছে বিক্রি না করায় মোঃ গোলাম কিবরিয়া ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ চাঁদপুর জেলা জজ আদালতে মাহামেডাম আইনের বিধান মতে হকসুফা (প্রিয়েমশান) মামলা দায়ের করেন।

বাদী মোঃ গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিক্রেতা ব্যক্তিরা আমার চাচাতো ভাই-বোন হন। কিন্তু তারা আমার কাছে বাজার দরে বিক্রি না করেও অন্যত্র বিক্রি করেছেন। জমি বিক্রি করার সময় আমি বাজার দর দিয়ে ক্রয় করার ইচ্ছা পোষন করি। কিন্তু গোপনে তারা বিক্রি করেন। পরে নালিশী ভূমিতে তলব ই ময়াছিবাত এবং তলব ই ঈশাদ কার্য্য বিগত ২৫/০২/২২ইং তারিখে সম্পন্ন করার পর ১নং বিবাদী রইস আঃ রব এর অনুকূলে মূল্যের টাকা গ্রহন করে সাফকবলা দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রি কার্য্য সমাধা করিয়া না দেওয়ায় আামি ২৮/০২/২২ইং তারিখে নালিশী কবলার দুইটি সীলমোহরকৃত নকল সংগ্রহ করে বিজ্ঞ আদালতে প্রিয়েমশান মামলা দায়ের করি। এর প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা না দেওয়া পর্যন্ত ওই ভূমিতে শাস্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে উভয়পক্ষকে কোন কার্য না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু আাদালতের ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১নং বিবাদী রইস আঃ রব ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করার লক্ষ্যে চাষ করছেন। এতে করে আদালতের নির্দেশ অমান্য করছেন তিনি।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা হচ্ছে। এলাকার লোকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, এই জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মামলা চলছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞাও আছে।

মামলার ১নং বিবাদী রইস আঃ রব বলেন, আমি টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। এখন ধান রোপন করার জন্য চাষ করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালত যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তাতে গাছ টাকা ও মাটি কাটার ব্যাপারে নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু আমি ফসল চাষ করছি।

শেয়ার করুন: