মতলব উত্তরে কুকুরের কামড়ে আহত ২০

মতলব উত্তর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু শহ প্রায় ২০ জন মানুষ আহত হয়েছে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, উপজেলার আদুুরভিটি, ছেংগারচর, জীবগাঁও, দেওয়ানজিকান্দি গ্রামে মঙ্গলবার (১৪ জুন) সকালে লাল বর্নের একটি পাগলা কুকুর প্রায় ২০জন মানুষ কে কামড়িয়ে জখম করে। এ খবর শুনে ঐ এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পাগলা কুকুরের কামড়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য এলাকায় যুবসমাজ কুকুরটিকে ধরার জন্য ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে। তাদের কারো হাতে, পায়ে কোমড়ে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়িয়ে মারাত্মক যখম করে। যখমীদের মধ্যে শিশু হইতে বৃদ্ধ পর্যন্ত রয়েছে। যখমীদের অনেকেই মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন এবং অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এর মধ্যে ছেংগারচর গ্রামের টিপু সুলতানের মেয়ে তৃপ্তি (০৬) আশঙ্কাজনক থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে সরজমিনে জানা যায়।

পাগলা কুকুরের কামড়ে জখম হলেন আদুরভিটি গ্রামের মজিবুর রহমানের শিশু কন্যা আয়েশা আক্তার (০৫), একই গ্রামের মজিবুর রহমানের শিশু কন্যা মীম আক্তার (০৫), মোখলেছুর রহমানের ছেলে সাকিব (০৯), আবুল কালামের মেয়ে আহিবা আক্তার (০৭), ওয়াজ উদ্দিনের মেয়ে লামিয়া (১০), লুব হোসেন সরদার (৬০), ফারুক হোসেন (৩২), ছেংগারচর গ্রামের টিপু সুলতানের শিশু কন্যা তৃপ্তি আক্তার (০৬), দেওয়ানজিকান্দি গ্রামের আবু মুছার শিশু কন্যা নাফিজা আক্তার (০৫), জীবগাঁও গ্রামের নুর মোহাম্মদ (৮৫)সহ আরো কয়েকজন পাগলা কুকুর কামড়িয়েছে বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগী নাফিজা আক্তারের মা সুফিয়া বেগম জানান, আমার বাচ্চা মেয়েটা বাড়ির সামনে দাঁড়ানো। হঠাৎ করে একটি কুকুর এসে আমার মেয়ের পায়ের উপরের অংশে কামড় দেয়। আমি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে এসেছি।

আরেক ভুক্তভোগী আয়েশা আক্তারের বাবা মজিবুর রহমান জানান, আামার মেয়ে সকালে আরবি পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় হঠাৎ কুকুর এসে তার পায়ে কামড় দেয়। পরে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে তাকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এক জনের অবস্থা আশঙ্কা থাকায় তাকে ঢাকা রেফার করা হয়েছে। কুকুরের কামড়ে শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ছেংগারচর পৌরসভার প্রশাসক হেদায়েত উল্ল্যাহ জানান, ক্ষিপ্র প্রকৃতির কুকুর পথে-ঘাটে, বাড়ি এলাকায় যাকে পাচ্ছে তাকেই কামড় ও আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুকুর নিধন অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। এসব ক্ষিপ্র প্রকৃতির কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কুকুরকে উত্যক্ত না করে সতর্কভাবে চলাচলের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published.