মতলব উত্তরে পাড়া মহল্লায় আলো ছড়াচ্ছে তথ্য আপা

মতলব উত্তর ব্যুরো:

মতলব উত্তরের পাড়া মহল্লায় করোনাকালীন সময়েও সেবা ও তথ্য প্রদানের মাধ্যমে নারীদের সচেতন করতে আলো ছড়াচ্ছে তথ্য আপা। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাস্ক বিতরণ, সঠিক উপায়ে মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাসহ নানানভাবে চালানো হচ্ছে কর্মতৎপরতা।

সরকার কর্তৃক গৃহীত রূপকল্প ২০২১ ও সপ্তম পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০ এবং এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রায় নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন দেশের সার্বিক অগ্রগতির অন্যতম শর্ত। নারীর ক্ষমতায়নে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। গ্রামের অসহায়, দরিদ্র, সুবিধা বিঞ্চিত কিংবা কম সুবিধা প্রাপ্ত নারীর তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং তাদের তথ্য প্রযুক্তির সেবা প্রদান নিঃসন্দেহে নারীর ক্ষমতায়নকে তরান্বিত করবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘তথ্য আপা’ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন শীর্ষক প্রকল্পটি গৃহীত হয়।

মতলব উত্তর উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, যৌতুক ও নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, জেন্ডার সমতা, ইন্টারনেটভিত্তিক যেকোন সেবা, চাকরির খবর ও আবেদনসহ যেকোন বিষয়ে সঠিক পরামর্শ পেতে উপজেলা তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে ফ্রি সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। মাত্র কয়েক বছর আগেও প্রত্যন্ত গ্রাম গেলে ইন্টারনেট, কম্পিউটার, ই-মেইল কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মতো সেবাগুলোর সঙ্গে এলাকার যেসব নারীদের পরিচয় ছিল না। তারাই এখন যোগাযোগের এই ডিজিটাল সেবাগুলো গ্রহণ করেছেন।

জেলার মধ্যে সেবা দিয়ে মতলব উত্তর তথ্য সেবা কর্তকর্তা তাসলিমা আক্তার প্রথম স্থানে রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নারীদের পরিচয় করিয়ে প্রযুক্তিকে তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করে তাদের জীবনমান আরও সহজ, সুন্দর, উন্নত ও সমৃদ্ধ করেছে সরকারের এ তথ্য আপা প্রকল্প। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলায একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ তথ্য সেবা কর্মকর্তা ও দু’জন তথ্যসেবা সহকারী কর্মরত রয়েছেন।

তথ্য সেবা কর্মকর্তা তথা তথ্য আপা তাসলিমা আক্তার কেন্দ্রে বসেই নারীদের বিভিন্ন তথ্য সহায়তা দেন। বাকি দু’জন তথ্যসেবা সহকারী ল্যাপটপ নিয়ে বাড়ি-বাড়ি যান। তথ্য আপা প্রকল্পের অন্যতম প্রধান সুবিধা হল আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা, জেন্ডার ও আইন এই ছয়টি বিষয়ে সেবা দেয়া হয়। আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে সেবাগ্রহীতাদের নিয়ে প্রতিমাসে দু’টি করে উঠান বৈঠক করা হয়। এ উঠান বৈঠকে ইউএনও, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, আইটি বিশেষজ্ঞ, সমাজসেবী, সাংবাদিক, নারী উদ্যোক্তা, নারী আইনজ্ঞ, সমাজের নেতৃত্বদানকারী নারী, ইমাম ও চিকিৎসকসহ অনেকেই অংশ নেন।

সচেতনতামূলক এ উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে নারীরা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যপারে অভিজ্ঞ হয়ে উঠছে। এছাড়া কোন সমস্যা কিংবা প্রশ্ন থাকলে তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই তথ্যসেবা দেয়া হয়। তৃণমূলের নারীদের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দেয়াই মূলত ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। দেশের ৪৯০টি উপজেলায় তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে।

শেয়ার করুন: