মাদকের টাকা জোগাড় করতে সন্তান বিক্রি ॥ অতপর উদ্ধার

আক্তার হোসেন ॥

লামিয়া আক্তার ও ইমরান হোসেনের দেড় বছরের শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ ও পাঁচ বছরের সামিয়াকে নিয়ে তাদের সংসার। দু’সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিনের মতো ঘুমাতে যায় লামিয়া ও ইমরান। প্রকৃতির ডাকে ভোরের দিকে ঘুম ভেঙ্গে লামিয়া দেখে তার ছেলে সন্তানও নেই, স্বামীও নেই। বাড়ী পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে কোথাও খোঁজে না পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় থানায় অভিযোগ করেন লামিয়া।

এ অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেন। ওই রাতেই ৯টার দিকে বিশ্বস্ত তথ্যে মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের চরলক্ষীপুর গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ীর প্রবাসীর স্ত্রী রুমা আক্তার নামে এক নিঃসন্তান নারীর কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রাতেই সন্তানহারা মা লামিয়ার কাছে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার বাবুরপাড়া প্রধানীয়া বাড়ীর অধিবাসী লামিয়া ও ইমরান দম্পত্তি। হতদরিদ্র মা লামিয়া মানুষের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করে। আবারও কখনও কখনও ভিক্ষাও করে। ইমরান হোসেন পেশায় একজন দিন মজুর। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে সামিয়ার বয়স ৫ বছর ও ছেলে সন্তান আব্দুল্লাহর বয়স দেড় বছর।

বাবুরপাড়া এলাকার স্থানীয়রা জানান, ওরা দু’জনেই ছোট খাটো কাজ করে। টাকা পয়সার অভাব সারা বছরই লেগে আছে। ইমরানের আবার নেশার অভ্যাস রয়েছে। এজন্য স্ত্রীর সাথে প্রায়ই টাকা পয়সা নিয়ে ঝগড়া করে। স্ত্রীকে মারধর করে। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই হয়তো সকলের অগোচরে দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে রবিবার ভোরে বেরিয়ে পড়েছে। পরে তার পূর্ব পরিচিত মতলব উত্তর উপজেলার চরলক্ষীপুর গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ীর রুমা আক্তারের কাছে ২০হাজার টাকায় ছেলে সন্তান আব্দুল্লাহকে বিক্রি করে দেয়।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন বলেন, সন্তানহারা মায়ের অভিযোগ পেয়ে আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করি। গোপন বিশ্বস্ত সূত্রে সোমবার রাত ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে রুমা আক্তারের কাছ থেকে দেড় বছরের ছেলে সন্তান আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করে রাতেই তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেই।

রুমা আক্তারের কাছে জানা যায়, লামিয়ার স্বামী ইমরান তাঁর (রুমা) কাছে ২০হাজার টাকায় ওই শিশুটিকে বিক্রি করেছে।
সন্তান ফিরে পেয়ে লামিয়া আকুতি সুরে বলেন, থানার স্যারগো অনেক ধন্যবাদ। তারা আমার কষ্ট দূর করে সন্তান আমাকে ফেরত দিয়েছে। আমার স্বামী নেশা করে। নেশার টাকা জোগাড় করতেই আমার ছেলেকে বিক্রি করে দিয়েছে।

ওসি মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া জানান, অভিযুক্ত ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। সে আত্মগোপনে আছে। তার ফোনও বন্ধ রয়েছে।

শেয়ার করুন: