যে ইলিশ নিয়ে বিশ্বে আলোচনার ঝড় সেই ইলিশ উৎসব চাঁদপুরে হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

‘জেগে ওঠো মাটির টানে’ এ শ্লোগানকে হৃদয়ে ধারন করে চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে ৫ দিনব্যাপী সিনেবাজ ও পুষ্টি সরিষার তেলের যৌথ স্পন্সরে এ বছর ১৩তম ইলিশ উৎসবের দ্বিতীয় দিন বিকেল ৪টা থেকে কার্যক্রম শুরু করা হয়। দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু করা হয় ছবি আঁকা প্রদর্শনের মাধ্যমে। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার।

পরে প্রীতি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। পক্ষ দলে ছিল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ ও বিপক্ষ দলে ছিল চাঁদপুর সরকারি কলেজ। বিতর্কের বিষয় ছিল চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডিংয়ে ইলিশ উৎসব সহায়ক কিন্তু মুখ্য নয়।

সভাপ্রধান ছিলেন চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল হোসাইন এবং মডারেটর ছিলেন জায়েদুর রহমান নিরব।

শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি ৫ দিনব্যাপী ইলিশ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, উৎসব মানেই আনন্দ। যে ইলিশ নিয়ে সারা বিশ্বে আলোচনার ঝড় সেই ইলিশ উৎসব চাঁদপুরে হচ্ছে। সব বাঙালি ইলিশ উৎসবে আনন্দ করবে সেই দিন বেশি দূরে নয়। পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনো কাজ করা যায় না। সিনেবাজ লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম খান পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানসহ সকল বীরকে। করোনায় আমরা আমাদের অনেক কাছের মানুষদের হারিয়েছি। মাস্ক ব্যবহার করি, ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানছি না। পরিবারের জন্য, নিজের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। আমাদের সচেতন হতে হবে। কেউ মাস্ক ব্যবহার করে থুতনির নিচে, কেউ আবার ব্যবহার করে না। সবাই এখন মনে করে করোনা চলে গেছে। আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবো। নদীর পারের এলাকাই যাই জেলেদের উদ্বুদ্ধ করার জন্যে। সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কোন সময় মা ইলিশ কে রক্ষা করা যাবে। জাটকা রক্ষা পাবে। জেলারা সচেতন হয়েছে বলেই আমাদের দেশে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম স্হান অর্জন করেছে।শেখ হাসিনা বলেছে পহেলা বৈশাখে কোনো ইলিশ নয়। এটা কোনো বাঙালিয়ান নয়। একদিন আমরা ঘরে ও ইলিশ রাখবো না, খাবোও না। ইলিশ সাগর কন্যা মেঘনায় আসে ডিম ছাড়ার সময় তাহলে ইলিশ হলো আমাদের মেয়ে, জাটকা হলো নাতি। ইলিশ উৎসব লোকজ উৎসব, এখন এটি ৫ দিনব্যাপী করা হয়। ইলিশ নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রেসিপি, বিতর্ক করা হয়। ইলিশ নিয়ে কবি, সাহিত্য প্রতিযোগিতা করা হয়। ইলিশ উৎসবে নানা রকম আয়োজন করা হয়। বাঙালির রসনা বিলাস ইলিশ। ইলিশকে যতো বেশি ভালোবাসবো উৎপাদন ও বাড়বে। জেলে ভাইয়েরা সচেতন হবে। চাঁদপুর ইলিশ নিয়ে পর্যটন করার কাজ চলছে। শেখ হাসিনা ইলিশের বাড়ি হিসেবে চাঁদপুরকে স্বীকৃতি দিয়েছে সেজন্যে তাঁকে জানাই ধন্যবাদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। তিনি বলেন, ধন্যবাদ জানাই চতুরঙ্গকে ইলিশ উৎসব করার জন্য। রাত থেকেই অভিযান শুরু করবে টাস্কফোর্স। নিবন্ধিত জেলেরা ২০ কেজি করে চাল পাবে। অভিযানের সময় নদীতে ড্রেজিং বন্ধ থাকবে। ডাবল ইঞ্জিন চালিত নৌযান নদীতে চলাচল করা যাবে না। এগুলো রিকোজিং করে আটকে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২২ দিন কোস্টগার্ডের জাহাজ আনা হয়েছে। তারা নদীতে টহল দিবে। আমাদের জনমত সৃষ্টি করতে হবে। সেজন্যে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সাংবাদিকরা যদি তাদের পত্রিকায় আমাদের লিফলেট প্রচার করবেন। এ প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি হবে। জেলে প্রতিনিধিরা জেলেদের বলবেন যাতে ঘরে থাকে। সরকার মাছ না ধরার জন্য তাদের চাল দিচ্ছে। আমরা আরো পদক্ষেপ নিয়েছি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা ২২ দিনের যে পদক্ষেপ নিয়েছি তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার) বলেন, ইলিশ উৎসব কি এটা আমার জানার খুব ইচ্ছা। তাই কাজী শাহাদাতের কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি। আজ রাত থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ হচ্ছে ২২ দিনের জন্য আমরা আজকে ভার্চ্যুয়াল সভায় মিলিত হয়েছিলাম। আমি সবাইকে বলবো এই ২২ দিন আমরা ইলিশ ধরা, বিপণন, পরিবহন সব কিছু বন্ধ রাখি, তবেই ইলিশ উৎসবের স্বার্থকতা।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, টাইটেল স্পন্সর জিকে গ্রুপের মার্কেটিং ম্যানেজার মোফাসের হক, অ্যাডঃ সাইফুদ্দিন বাবু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা মোঃ আলমগীর বাহার, শুভেচ্ছা জানান, সংগঠনের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ বিনয় ভূষণ মজুমদার। সকল অতিথিকে উত্তরীয় ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সভাপ্রধান ছিলেন ইলিশ উৎসবের আহ্বায়ক কাজী শাহাদাত। সঞ্চালনায় ছিলেন চতুরঙ্গের মহাসচিব হারুন আল রশীদ। আলোচনা সভার মাঝেই চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডঃ জিল্লুর রহমান জুয়েলকে সংবর্ধিত করা হয়।

পরে গোল টেবিল বৈঠক। রাতে স্বপ্নকুঁড়ি সাংস্কৃতিক সংগঠনের নৃত্যানুষ্ঠা এবং সবশেষে চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠনের অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।

শেয়ার করুন: