শাহরাস্তিতে বাড়ির ছাদে স্বামী খুন: স্ত্রী জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মকতা খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের স্ত্রীকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া গ্রামের(রেল ক্রসিং সংলগ্ন) আমিন মিয়া বাড়ির নূরুল আমিনকে(৬৫) দূর্বৃত্তরা খুন করে। তার স্ত্রী কামরুন নাহারকে আহতাবস্থায় সকালে পুলিশের সহযোগীতায় ঢাকা একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে নাওড়া পাটওয়ারী বাড়ি মসজিদের সভাপতি শামছুল আলমের কাছে নিহতের মেজো মেয়ে কল করে জানান বাবার ফোন বন্ধ রয়েছে। ওই সময় শামছুল আলম বাড়িতে গিয়ে দেখেন প্রধান ফটকে তালা মারা। এ সময় তার সাথে থাকা মাহফুজ আলম নামে এক যুবক ৯৯৯ নম্বরে কল করে জানায়। ঘটনাস্থলে ভবনের জানালা দিয়ে নিহতের স্ত্রীকে আহতাবস্থায় দেখতে পায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মান্নান খবর পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করার কথা বললে তারা পুলিশ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। পুলিশ প্রধান ফটকের তালা ভেঙ্গে আহত কামরুন্নাহারকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করেন। নিহত নূরুল আমিনকে ভবনের ছাদে পাওয়া যায়। ওই সময় তার মুখে পায়ের মৌজা ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। এমনকি তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পোকামাকড় দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানায়, নিহত নূরুল আমিন নাওড়া পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক। প্রায় ৭-৮ বছর পূর্বে বড়ুরা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তার স্ত্রী একই কার্যালয়ে কর্মরত থেকে ৬ মাস পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত হন। তিন মেয়ে ও এক ছেলে পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় বসবাস করে। অবিবাহিত ছোট মেয়ে তার ভাইয়ের বাসায় ছিলেন। এই বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধু শামছুল আলম বলেন, মেজো মেয়ের কল পেয়ে দ্রুত তার বাড়িতে যাই ও পুলিশকে জানাই।

ছোট মেয়ে মিলি জানায়, ২৯ জুন বাবার সাথে কথা হয়। আমার জন্য ব্যাংক থেকে ৩৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি।

শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে কাউকে আটক বা সন্দেহ করা হয়নি। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর পাঠানো হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(শাহরাস্তি সার্কেল) মো. আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, ঘটনাস্থলের সকল আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত খুনীদের সন্ধান পাবো। চাঁদপুর জেলা সহকারী পুলিশ সুপার(অপরাধ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিকভাবে মাথায় আঘাত ও মুখে মৌজা পেয়েছি। ছাদের দরজা খোলা ছিলো।

ঘটনাস্থল পিবিআই, সিআইডি ও ডিবিসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাগণ তদন্ত করেছেন।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *