শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যাচারের প্রতিবাদে চাঁদপুরে আ’লীগের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যাচারের প্রতিবাদে চাঁদপুরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এতে লিখিত পাঠ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. ইউসুফ গাজী।

তিনি বলেন, বিগত ১৩ বছরে ডাঃ দীপু মনি এমপি’র নির্বাচনী এলাকায় বহু সরকারি স্থাপনা নির্মিত হয়েছে এবং এ সকল স্থাপনার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। চাঁদপুরে কোন অধিগ্রহণকৃত জমিতে কোথাও কখনো ডাঃ দীপু মনি বা তার পরিবারের কোন জমি কখনো ছিল না। তার উদ্যোগে চাঁদপুর ও হাইমচরে স্থায়ী বাধ নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে জমি মূল্য শতাংশ প্রতি ৫ হাজার টাকা থেকে কয়েক লক্ষ টাকায় উন্নীত হয়েছে। সরকারের নিকট হতে ক্ষতিপূরণ লাভের আসায় বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে সেখানে ডাঃ দীপু মনি বা তার পরিবারের কোন জমি ক্রয় করেননি।

গত ১৩ বছরে নিয়োগে, টিআর, কাবিখা বিতরণে কোন প্রকল্পের টেন্ডার পক্রিয়া বা অন্য কোন কার্যক্রম ডাঃ দীপু মনি তার পরিবারের অস্বচ্ছতা বা অনিয়ম কোন দিন ছিল না। এ বিষয়ে জেলার সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ জেলার রাজনৈতিক সামাজিক, সাংকৃতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ অবগত আছেন। কি উদ্দেশ্যে হঠাৎ করে ডাঃ দীপু মনিকে অসৎ প্রতিপন্ন ও হেয় করবার চেষ্টা করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন। যে বা যারা কোন কোন গনমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডাঃ দীপু মনি বা তার পরিবারকে জড়িয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করছে তাদের উদ্দেশ্যে উৎঘাটিত হওয়া অতিব জরুরি।

এটি শুধু ডাঃ দীপু মনি’র সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন ও রাজনীতিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার কিংবা শেখ হাসিনা সরকারকে অপদস্থ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা বলেও অনেকেই আশঙ্কা করছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হননি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। তাদের দু’জনকে এই মিথ্যাচারের প্রতিবাদে উপস্থিত হওয়ার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এর বাসায় পাঠানো হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসডু পাটওয়ারী, মুজিব পাটওয়ারী ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ানকে। ৩ দিন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোন সাড়া না দেয়ার কারণে আওয়ামী লীগের একাংশ এই সংবাদ সম্মেলন করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ গাজী বলেন, দলের যুগ্ম সম্পাদকের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের বিষয়ে যার কাছে অভিযোগ করব, তিনি আমাদের জেলা সভাতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। তিনি নিজেই এই মিথ্যাচারে অংশ নিয়ে গনমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। তাই আমরা প্রয়োজনে সময়মত কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করব এবং দলীয়ভাবে বিষয়টি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন করব।
চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়’ এর ভূমি অধিগ্রহন বিষয়ে দুর্নীতির যে প্রসঙ্গ এখন আলোচনার ঝড় বইছে এটিতে ডাঃ দীপু মনি পরিবারের কেউ জড়িত নয়। এই বিষয়টি আমরা লিখিতভাবে সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করেছি। বিশ^বিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জমির মূল্য নির্ধারণ জমির মালিকের করার সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসকই ১৯৩ কোটি ও ৫৫৩ কোটি টাকা প্রাক্কলন তৈরী করেছেন।

প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌসের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, শরীফ চৌধুরী, শহীদ পাটওয়ারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, এএইচএম আহসান উল্যাহ, সাংবাদিক শাহাদাত হোসেন শান্ত, আল-ইমরান শোভন, আলম পলাশ, কাদের পলাশ, মো. ইব্রাহীম রনি, ডালিম, মিজান লিটন ও কে এম মাসুদ প্রমূখ।

আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, অ্যাড. মজিবুর রহমান ভুঁইয়া, চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল ইষলাম নাজিম দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আলী এরশাদ মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী বেপারী, শহর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাধা গোবিন্দ গোপ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাবুল, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, মোহাম্মদ আলী মাঝি, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি অ্যাড. হেলাল হোসাইন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জহির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন খান প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলনে পঠিত লিখিত বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ত্যাগ, ও সংগ্রামের লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে একজন সৎ ও সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশে বিদেশে পরিচিত ডা: দীপু মনিকে কী উদ্দেশ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে তার মত একজন রাজনীতিবিদের সুনাম ও সম্মান নষ্ট করার জন্য অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে তা উদঘাটিত হওয়া প্রয়োজন।

বিগত ১৩ বছরে ডাঃ দীপু মনি এম.পি’র নির্বাচনী এলাকায় বহু সরকারি স্থাপনা নির্মিত হয়েছে এবং এ সকল স্থাপনার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। চাঁদপুরে কোন অধিগ্রহণকৃত জমিতে কোথাও কখনো ডাঃ দীপু মনি বা তার পরিবারের কোন জমি কখনো ছিলো না। তার উদ্যোগে চাঁদপুর হাইমচরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়। সেখানে জমির মূল্য শতাংশ প্রতি ৫ হাজার টাকা থেকে কয়েক লক্ষ টাকায় উন্নীত হয়। সরকারের নিকট হতে ক্ষতিপূরণ লাভের আশায় বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে সেখানেও ডাঃ দীপু মনি বা তার পরিবারের কখনো কোন জমি ক্রয় করেননি।

গত ১৩ বছরে কোন নিয়োগে, কোন টি আর, কাবিখা বিতরণে, কোন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বা অন্য কোন কার্যক্রমে ডাঃ দীপু মনি বা তার পরিবারের কোন ধরনের আর্থিক অস্বচ্ছতা বা অনিয়ম কোন দিন ছিল না; এ বিষয়ে জেলার সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তাসহ জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ সবাই অবগত আছেন। কী উদ্দেশ্যে হঠাৎ করেই আজ ডাঃ দীপু মনিকে অসৎ প্রতিপন্ন করবার, হেয় করবার অপচেষ্টা করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

যে বা যারা কোন কোন গনমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডাঃ দীপু মনি বা তাঁর পরিবারকে জড়িয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করছে তাদের আসল উদ্দেশ্যে উদঘাটিত হওয়া অতীব জরুরী।

এটি শুধু ডাঃ দীপু মনির সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন ও রাজনীতিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার কিংবা শেখ হাসিনা সরকাকে অপদস্থ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা বলেও অনেকেই আশংকা করছেন।

এক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো লক্ষ্যণীয় ঃ

১। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জমির মূল্য নির্ধারণ জমির মালিকের করার সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসনই উভয় প্রাক্কলণ তৈরি করেছে।

২। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭ এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী প্রাক্কলণ প্রস্তুত করা হয়।

৩। উক্ত আইন অনুযায়ী ৪ ধারার নোটিশ জারির পূর্ববর্তী ১২ মাসে সম্পাদিত সকল দলিল বিবেচনায় নিয়ে গড় মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

৪। আইনের বিধান অনুযায়ী প্রথম প্রাক্কলণ দাঁড়ায় ৫৫৩ কোটি টাকা।

৫। জেলা প্রশাসন কর্তৃক দুটি প্রাক্কলণই প্রস্তুত করা হয়। জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রথম প্রাক্কলণকৃত মূল্য ৫৫৩ কোটি টাকা যা জমির মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার কারণে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। একইসাথে বলা হচ্ছে পূর্ববর্তী প্রাক্কলণে বাজার মূল্যের ২০ গুন বেশী দাম ধরা হয়েছিল। ১৯৩ কোটি টাকার ২০ গুন গণিতের কোন নিয়মে ৫৫৩ কোটি টাকা হয় তাও বোধগম্য নয়; এবং ঠিক কি কারণে একই কর্তৃপক্ষ একই জমির জন্য কিছুদিনের ব্যবধানে কেন দুটি প্রাক্কলণ প্রণয়ন করলো এবং যার মধ্যে মূল্যে এত পার্থক্য হলো তাও জানা প্রয়োজন।

৬। ডাঃ দীপু মনি’র চাঁদপুর জেলার কোথাও ক্রয়সূত্রে কোন জমির মালিকানা নেই। অর্থাৎ তিনি কখনোই চাঁদপুরে কোন জমি ক্রয় করেননি। ডাঃ দীপু মনি এম.পি এর পরিবারের কোন সদস্যের কোন জমি উক্ত অধিগ্রহণ এলাকায় নেই। কাজেই জমির মূল্য থেকে তাদের লাভবান হবার বা অনৈতিক কোন সুবিধা গ্রহণেরও কোন প্রশ্ন উঠতে পারে না।

৭। ডাঃ দীপু মনি এম.পি এর বড় ভাই বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ শল্য চিকিৎসক ডাঃ জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে নদীর পাড়ে হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর বহু পূর্ব হতেই অল্প অল্প করে জমি ক্রয় করছিলেন। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে চিন্তা করা ২ টি স্থানের মধ্যে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের স্থানটি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে ডাঃ জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ রেজিস্টার্ড দলিলমূলে ক্রয়কৃত সকল জমি হস্তান্তর করে দেন। কারণ তার ছোটবোন শিক্ষামন্ত্রী এবং তার ক্রয়কৃত জমি অধিগ্রহণ করা হলে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন যা Conflict of interest হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

৮। বাংলাদেশে যেকোন জায়গায় কোন উল্লেখ্যযোগ্য স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণের পূর্বেই বহু মানুষ উক্ত স্থানে বা তার আশেপাশে জমি কিনে থাকেন বা কোন স্থাপনা নির্মাণ করেন। তা কখনো আর্থিকভাবে লাভবান হবার জন্য, কখনো বড় বা ভালো কোন স্থাপনার কাছে থাকবার জন্য। চাঁদপুরের কেউ একইভাবে লক্ষ্মীপুরে জমি কিনে থাকতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধিগ্রহণের নিমিত্ত নির্ধারিত জায়গায় কে বা কারা জমি ক্রয় করেছেন বা করছেন তা ডাঃ দীপু মনি’র জানবার কথা না। তিনি জানেনও না।

৯। শুধুমাত্র তাঁর বড় ভাইয়ের হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম স্থাপনের জন্য ক্রয়কৃত এবং অধিগ্রহণের পূর্বেই হস্তান্তরকৃত (দলিল নং- ৮০৪০, ৬/১২/২০২১) জমির বিষয়ে তিনি অবহিত ছিলেন।

১০। এছাড়াও অভিযোগ করা হচ্ছে যে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নিমিত্তে অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত স্থানটি অনুপযুক্ত এবং ভাঙ্গনের ঝুঁকি রয়েছে। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা নির্ধারণের জন্য যে বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দেয়া হয় তা হলো- বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে বেশি দূরে না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাথে আশেপাশের জেলাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন ভালো থাকে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় যেন কোন হাইওয়ে সড়কের পাশে না হয়, তার অন্যতম কারণ প্রায়শ: দেখা যায় কোন ছাত্র অসন্তোষ দেখা দিলে ছাত্ররা হাইওয়ে অবরোধ করে দেন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটায়। এ সকল দিক বিবেচনা করে লক্ষ্মীপুরের জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয় কারণ লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন শহর থেকে মাত্র ০৩ কিলোমিটার দূরে এবং লক্ষ¥ীপুর ইউনিয়নের সাথে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। নির্ধারিত স্থানটি স্থায়ী বাঁধ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ী বাঁধের ভিতরে অবস্থিত। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পর গত দশ বছরের অধিককালে সেখানে কোন ধরনের ভাঙ্গনের কোন ঘটনা ঘটেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদনেও এখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যায় মর্মে মত দেয়া হয়েছে।

১১। ডাঃ দীপু মনি ও তাঁর বড় ভাইয়ের কেউ কখনো কোন আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির সাথে কোনদিন জড়িত ছিলেন না বা নেই। তার নির্বাচনী এলাকায় গত ১৩ বছরে এম.পি হিসেবে তার সততা ও স্বচ্ছতা সর্বজন বিদিত।

১২। অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমির মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে বৃদ্ধি করার জন্য বেশী মূল্যে জমি হস্তান্তরের ঘটনা যদি ঘটে থাকে তবে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে ডাঃ দীপু মনি মনে করেন।

১৩। জমির যথাযথ মূল্য না পাওয়ার আশংকায় জমির মালিকদের মধ্য থেকে ৩ জন হাইকোর্টে ২ টি রীট মামলা দায়ের করেন যা বর্তমানে আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে।

১৪। উল্লেখ্য যে, আলোচ্য বিষয়টি পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতির অভিযোগের মতো একটি অভিযোগ- যেখানে অর্থ বরাদ্দ বা লেনদেন হয়নি, ক্রয়-বিক্রয় হয়নি সেখানে দুর্নীতি হয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

আরো উল্লেখ্য যে, চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিতকানাডা ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টালে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তাহা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণবশত: বক্তব্য। জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি হিসেবে তিনি এধরনের বক্তব্য দিতে পারে না। বিদেশ থেকে যারা দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো কানাডা ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টালে তার এই বক্তব্য দেশ ও সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের সামিল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সরকারের মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক নগ্ন অপপ্রচারকে উসকে দিয়ে তিনি প্রকৃতপক্ষে সরকার ও দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে আমরা মনে করি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ দল লক্ষ্মীপুর মৌজায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই করে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছেন। সকল ধরনের প্রতিবেদনের আলোকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর মৌজায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণ অনুমোদন করেছেন, অথচ তিনি ঐ স্থানে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা ।

অনলাইন নিউজ পোর্টালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল চিঠিপত্র সম্পর্কে জেলা প্রশাসক সাহেব উনাকে বলেছেন এবং দেখিয়েছেন। তাহলে প্রশ্ন হলো প্রশাসনের গোপনীয় চিঠিপত্র কিভাবে জেলা প্রশাসক সাহেব উনাকে বললেন এবং দেখালেন।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চাঁদপুর-হাইমচর নদী ভাঙ্গন কবলিত এই জনপদের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তথা শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী ডাঃ দীপু মনিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন। ডাঃ দীপু মনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এই জনপদের মানুষের শুধু আশা আকাক্সক্ষা প্রতিফলনই ঘটায় নাই অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত করেছেন। এই জনপদের দীর্ঘ দিনের দুঃখ নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে চাঁদপুরবাসীকে রক্ষা করেছেন।

চাঁদপুর-হাইমচরে মেঘনা নদীর ভাঙ্গন বন্ধে প্রায় ২১ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, ৩৫৮ মেগাওয়াট সম্পন্ন ৩ টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, শতভাগ বিদ্যুৎতায়ন, লাকসাম-চাঁদপুর রেললাইন সংস্কার, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ স্থাপন, ৩৫০ টির অধিক প্রাথমিক ভবন নির্মাণ, ১০০ টির অধিক উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও সুউচ্চ কলেজ ভবন নির্মাণ, ৪০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ, ফিসারীজ ইন্সটিটিউট নির্মাণ, মেরিন একাডেমী নির্মাণ, কোস্টগার্ড ষ্টেশন নির্মাণ, পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ, আধুনিক ২ টি পানি শোধনাগার নির্মাণ, নার্সিং ইন্সটিটিউট নির্মাণ, ৪০ টির অধিক আশ্রায়ণ প্রকল্পে প্রায় ৪০০০ টি ঘর নির্মাণ, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ৪ টি আইসিউ বেড স্থাপন, কোভিড- ১৯ মহমারিতে নিজস্ব অর্থায়নে ভাষাবীর এম.এ ওয়াদুদ আর.টি.পি.সি.আর ল্যাব স্থাপন, করোনা রোগীদের জরুরী সেবায় হাইফ্লো অক্সিজেন সুবিধা এবং তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন, রাস্তা পাকা করণ, সেতু/কালভার্ট নির্মাণসহ আরো ব্যাপক উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে।

কিন্তু গভীর পরিতাপের বিষয়, কিছু কুচক্রী মহল দেশ বিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের নীল নকশার অংশ হিসাবে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নির্লজ্জ, মিথ্যাচার করেই যাচ্ছেন। উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে এই ধরনের মিথ্যাচার আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বি.এন.পি জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা মনে করি।

বিগত পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা নির্বাচন করেছিল তারাই নতুন করে আগামী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published.