সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা

স্টাফ রিপোর্টার :

দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ’র প্রতিষ্ঠাতা ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বরেণ্য সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে নাজিরপাড়াস্থ দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ কার্যালয়ে এ স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দীন মিলন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বটবৃক্ষ ইকরাম চৌধুরীর অপূরণীয় ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। তবে এই চাঁদপুর দর্পণ পত্রিকাটির কার্যক্রম কোনভাবে যাতে বন্ধ না হয় সে বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ এর প্রতিষ্ঠাতা ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বরেণ্য সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। দর্পণ চাঁদপুরের সরসরি প্রথম দৈনিক পত্রিকা। স্মরণসভায় বলে দিচ্ছে উনি কতটা বরণীয়, স্মরণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও চাঁদপুর কন্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত বলেন, ইকরাম চৌধুরীর চাঁদপুর প্রেসক্লাবের কিছু অচয়লায়তন ভেঙ্গেছেন। নতুনদেরকে তৈরি করেছেন, প্রেসক্লাবে ঢুকিয়েছন। তাঁর মাথার মধ্যে সারাক্ষণ চলত প্রেসক্লাব। টিনসেট থেকে চারতলা ভবন করেছেন তিনি। অনেককেই ধরে তিনি এই কাজ করেছেন। প্রেসক্লাবের ইতিহাস লেখা হয়েছে, সেখানে ইকরাম ভাইয়ের নাম এসেছে। ফরিদগঞ্জ ফাউন্ডেশন তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন। চাঁদপুরের শ্রমিকদের প্রতি শুক্রবার বন্ধ, এটা ইকরাম চৌধুরীর অবদান। উনার সাহস কারও সাথেই তুলনা করা যায় না। ইকরাম চৌধুরী মাঠ পর্যায়ের একজন সাংবাদিক হয়েও বহুমুখী প্রতিভার মানুষ ছিলেন। তিনি সাহসিকতার সাথে নানান বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে সফল হয়েছেন। ইকরাম চৌধুরীর নামে সড়ক নামকরণের ব্যাপারে আমরা কাজ করবো।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস বলেন, মানুষকে ভালোবাসার অপার গুণাবলী ইকরাম চৌধুরীর মাঝে ছিলো। এমন মানুষ হয়তো চাঁদপুর প্রেসক্লাবে আগামী ১০/১৫ বছরে আর কাউকে পাওয়া যাবে না। আমি আজ যা কিছু সব ওনার অবদান। আমি এমন মানবিক নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা বলেন, উনি শুধু সাংবাদিক ছিলেন না উনি ছিলেন সংগঠক। বাংলা ভিশনে সাংবাদিকতা শুরু করেছি ক্যামেরা ছিল না। উনি আমাকে সাংবাদিক শিখিয়েছেন। প্রেসক্লাবের সদস্য করেছেন। জীবিত অবস্থায় আমরা যোগ্য সম্মান দেইনি, আজকে মারা যাওয়ার পরে আমরা সম্মান দেখাচ্ছি। মানুষ জীবিত থাকা অবস্থাই মানুষকে স্মরণ করতে হবে, সম্মান করতে হবে। এই চাঁদপুর দর্পণ পত্রিকাটি টিকে থাকলেই ইকরাম চৌধুরী সবার মাঝে টিকে থাকবে। তাই যে কোন মূল্যে পত্রিকাটিকে টিকিয়ে রাখতে হবে।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী বলেন, আমাকে তৈরি করেছেন উনি। আমার মহাশিক্ষক ছিলেন। আমি সবখানেই সেটা স্বীকার করি। বড় বাঁধ ভেঙ্গে একঝাঁক তরুণ সাংবাদিক নিয়ে দুর্দান্ত এক গতিশীল প্রেসক্লাব তৈরি করেছেন তিনি। ইকরাম চৌধুরী ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তার নামে একটি ট্রাস্ট চালু রয়েছে। সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

চাঁদপুর জেলা ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কে এম মাসুদ বলেন, বাংলাদেশের সেরা দশের একটি চাঁদপুর প্রেসক্লাব। এটি ইকরাম চৌধুরীর অবদান। শহরের একটি সড়কের নাম ইকরাম চৌধুরীর নামে এবং সাংবাদিকদের নামে একটি স্মৃতিফলক করার জন্য দাবী জানাচ্ছি।

পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালিন সহকারি বার্তা সম্পাদক জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেল বলেন, দৈনিক চাঁদপুর দর্পণকে এগিয়ে নিতে হবে। এই পত্রিকার মাঝেই আমরা ইকরাম ভাইকে খুঁজে পাই। আমার সাংবাদিকতার হাতে খড়ি ইকরাম চৌধুরী। ইকরাম চৌধুরীর অবদান ভুলার নয়। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ঐক্যের প্রতিক ছিলেন তিনি। আমি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের বার্তা সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাসের পরিচালনায় এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ এর সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী, সহ সম্পাদক ফনি ভূষণ চন্দ্র, যুগ্ম সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, মফস্বল সম্পাদক এ কে আজাদ, বিজ্ঞাপণ ম্যানেজার ও স্টাফ রিপোর্টার মো. আশরাফুল আলম, স্টাফ রিপোর্টার সুজন চৌধুরী, সাবেক স্টাফ রিপোর্টার এমআর হারুন, স্টাফ রিপোর্টার শেখ শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার মো. এনামুল হক, বিশেষ প্রতিনিধি অমরেশ দত্ত জয়, কচুয়ার অফিস প্রধান আবুল হোসেন, মতলব উত্তরের অফিস প্রধান শামসুজ্জামান ডলার, শাহরাস্তি অফিস প্রধান মাসুদ রানা, ফরিদগঞ্জ অফিস প্রধান আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হাজীগঞ্জ অফিস প্রধান এসএম মিরাজ মুন্সি, স্টাফ রিপোর্টার মহসীন আলম, হাইমচর প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি গাজী মমিন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মরহুম ইকরাম চৌধুরীর সহধর্মিণী আছমা ইকরাম, তার মেয়ে ইয়ানা চৌধুরী, সাপ্তাহিক চাঁদপুর সকাল পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোশাররফ হোসেন লিটন, দৈনিক আদি বাংলার বার্তা সম্পাদক আরিফুল ইসলাম শান্ত, হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান জীবন, ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি মাসুম তালুকদার, হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি মহিউদ্দিন রিপন, সাবেক পত্রিকার পেস্টিং ম্যান নুরুজ্জামান প্রমূখ।

স্মরণ সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন বিজ্ঞাপন ম্যানেজার ও স্টাফ রিপোর্টার আশরাফুল আলম। এছাড়াও মরহুম ইকরাম চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং স্মরণ সভা শেষে নাজিরপাড়ার কলেজ মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত এবং তবারক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন: