সামাজিক সমস্যার সমাধানে কমিউনিটি পুলিশ বিরাট ভুমিকা রাখে : শিক্ষামন্ত্রী

মাসুদ রানা ॥

“কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মূলমন্ত্র, শান্তি-শৃংঙ্খলা সর্বত্র” এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে কমিউনিটি পুলিশিং ডে- ২০২২ পালিত হয়েছে।

২৯ অক্টোবর সকাল ৯ টায় হাসান হাই স্কুল মাঠে জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশ পুলিশের পতাকা এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের পতাকা উত্তোলণ এবং জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে একটি র‌্যালী বের হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলা একাডেমিতে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে একযোগে কমিউনিটি পুলিশিং ডে পালিত হচ্ছে। এটা অনন্য একটা উদ্যোগ বলে আমি মনে করি। জেলায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে পুলিশের যে জনবল থাকতে হয়, বর্তমানে তার চেয়ে অনেক কম রয়েছে। আমাদের যত রকমের সামাজিক সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক, ইভটিজিং, জঙ্গিবাদ, যৌতুকের মতো সমস্যা এবং কিশোর গ্যাং। এগুলো যদি শুধু মাত্র পুলিশই হস্তক্ষেপ করতো তাহলে কিন্তু এত ভালভাবে করা সম্ভব হতো না। কমিউনিটি পুলিশের সহযোগিতায় তা খুব সুন্দরভাবে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এক সময় সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে যেতে দ্বিধাবোধ করত। সে জায়গায় সাধারণ মানুষ এবং পুলিশের সাথে একটা যোগাযোগ তৈরি করে দিয়েছে কমিউমিটি পুলিশ। এখন যে কোন সমস্যা দ্রুত সমাধান করার সহযোগিতা পাচ্ছি এই কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ঘনত্ব এবং অপরাধ প্রবনতার যে হার সেটা কখনোই শুধুমাত্র একা পুলিশের সেবার মাধ্যমে দেয়া সম্ভব না। এই সমস্যা গুলোর জন্য কমিউনিটি পুলিশ বিরাট ভুমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহমদে, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো: জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি পুলিশিং জেলা সমন্বয় কমিটির সভাপতি ডা: এস এম সহিদুল্যা, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত ডা: সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী,ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন, পৌর কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি রোটা: শেখ মনির হোসেন বাবুল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমিউনিটি পুলিশ সমন্বয় কমিটি সভাপতি সেলিম খান, চাঁদপুর সদর উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি সালেহ মো: জিন্নাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, ডাঃ পিযুষ কান্তি বড়ুয়া।

সভায় বক্তারা বলেন, চাঁদপুর জেলায় কমিউনিটি পুলিশের ২২ হাজার সদস্য বর্তমানে রয়েছে। প্রথমে টহল সদস্য নিয়ে অঞ্চল-১ গঠিত হয়। তৎকালীন পুলিশ সুপার শহিদুল হক কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম চাঁদপুরে তরাম্বিত করেন । এখানে যারা সম্পৃক্ত রয়েছে তারা কিছু পাবার জন্য আসেনি। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে কাজ করছে।

বক্তারা আরো বলেন,জনকল্যাণে আমরা কাজ করছি। এতো কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা সারাদেশের কোথাও আছে কিনা আমরা জানিনা। চাঁদপুর পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে বাঁশি লাঠি আর একটি নিদিষ্ট পোষাক পরে রাতে টহল দিয়ে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখছে কমিউনিটি পুলিশ। তাইতো আমরা বলি “দিনের চাঁদপুরের চেয়ে রাতের চাঁদপুর অনেক নিরাপদ”। উল্লেখ্য চাঁদপুর শহরে ১৫ টি অঞ্চলে ১২০ জন টহল সদস্য জনগনের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে।

জানা গেছে , ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট থেকে চাঁদপুরে কমিউনিটি পুলিশ কার্যক্রম শুরু হয়।পুরো জেলায় পুলিশ সদস্য রয়েছে মাত্র ১ হাজার ২ শ ৯৩ জন, আর পুরো জেলায় কমিউনিটি পুলিশ সদস্য রয়েছে ২২ হাজার।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন অঞ্চল-৬ এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান গাজী, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন অঞ্চল-৮ এর সহ- সভাপতি বিমল চৌধুরী।

শেয়ার করুন: