সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে বললেন মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল

মেঘনা বার্তা ডেস্ক ॥

চাঁদপুরের অক্সিজেন রিফিল সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে বললেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডঃ মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল।

সিলিন্ডার রিফিল নিয়ে লাখ টাকার বাণিজ্য করা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীকে ‘ধান্দাবাজ’ আখ্যায়িত করে পৌর মেয়র বলেন, এভাবে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতারণার শিকার হওয়া সহ্য করা যায় না।
স্বেচ্ছাসেবীরা এমনিতেই জীবন বাজি রেখে সেবা দিচ্ছেন,তার ওপর সিলিন্ডার রিফিল নিয়ে যদি বিপাকে পড়তে হয় তবে তাদের কাজের স্পিড নষ্ট হয়ে যাবে। তাই চাঁদপুরে দ্বিগুণ, তিনগুণ টাকা দিয়ে রিফিল আর নয়।

আমি আমার পৌরসভা থেকে ট্রাকের ব্যবস্থা করছি। সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অক্সিজেন শেষ হলে খালি সিলিন্ডার একটি নির্দিষ্ট স্থানে দিয়ে যাবে। ট্রাক ভর্তি সিলিন্ডারগুলো প্রতি রাতে ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে অক্সিজেন রিফিল করে রাতেই নিয়ে আসবে। সংগঠনগুলো তাদের ট্যাগ করা অক্সিজেন সিলিন্ডার সকালে নিয়ে যাবে। এতে করে জেলার ৬ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি মনে করি।

‘ঢাকা থেকে রিফিল করলে স্বেচ্ছাসেবীদের খরচ কেমন পড়বে’ জানতে চাইলে পৌর মেয়র বলেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো শুধু ঢাকায় রিফিল খরচ যত হয় তত টাকা দিলেই চলবে। ভাড়ার বিষয়টা আমি দেখবো। মানুষকেতো বাঁচাতে হবে। স্বেচ্ছাসেবীরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের পাশেওতো কাউকে দাঁড়াতে হবে। তাই তাদের জন্যে আমি এই সহযোগিতাটুকু করতে চাই।

‘এই সুযোগটি শুধু চাঁদপুর পৌরসভার সংগঠনের জন্য নাকি জেলার সকল সংগঠনের জন্যে’ জানতে চাইলে পৌর মেয়র বলেন, জেলার প্রতিটি সংগঠনই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ না করে সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সব সংগঠন উদ্যোগ নিয়ে একদিন আসুক। কথা বলুক। সবাইকে একই প্লাটফর্মে একটি চেইনের মধ্যে নিয়ে আসা প্রয়োজন। যাতে তারা কিভাবে সেবা দিচ্ছে, অক্সিজেন রিফিল ছাড়া আর কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তা সম্পর্কে জানা যাবে।

চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র আরও বলেন, গ্রামের অনেক সংগঠনই চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছে না বা নিতে চাইলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তারা পাচ্ছে না। এমতাবস্থায় কীভাবে প্রতিটি সংগঠনকে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রণে এনে তাদের সেবার কাজটি সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত করা যায় সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে অভিজ্ঞ ও পুরানো সংগঠনগুলো থেকে নতুন সংগঠনগুলো কাজের অভিজ্ঞতা নিতে পারবে।

এদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমানের উদ্যোগে উপজেলার ২২টি সংগঠন নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ ধরণের উদ্যোগের বাস্তবায়ন ঘটলে একই ছাতার নিচে এসে কাজ করবে জেলার বর্তমান ৭০-এরও বেশি সংগঠন। এতে রোগীরা পাবে ঝুঁকিহীন বিপদকালীন কাক্সিক্ষত সেবা।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *