সোনার বাংলা গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই…পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

মনিরা আক্তার মনি ॥

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, কোনো শিশু যদি তার অভিভাবকের ভালো বন্ধু না হতে পারে, তবে ওই শিশু বিপথে যেতে পারে। তাই সবার আগে অভিভাবকদের উচিত শিশুদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করে তাদের ভালো বন্ধু হওয়ার। কেননা, অভিভাবকের মতো ভালো বন্ধু অন্য কেউ হতে পারে না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মানসম্মত শিক্ষাই সরকারের প্রত্যাশা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই।
শনিবার (১১ জুন) চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দূর্গাপুর জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে বার্ষিক মিলাদ ও অভিভাবক সমাবেশ ২০২২ এর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. শামসুল আলম উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্কুল-কলেজের পাশাপাশি মাদ্রাসাকেও সমান সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি। যাতে দেশের কোন মানুষ অশিক্ষিত না থাকে। এতে সফলতাও আসছে। ধীরে ধীরে বাড়ছে সাক্ষরতার হার। কমছে নিরক্ষরতা। লেখাপড়া ছাড়া কোন জাতি উন্নতি করতে পারে না। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে ৯ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরে শিক্ষায় ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৭১ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, দেশে খাদ্য পণ্যের দাম একটু বৃদ্ধি হলেও পর্যাপ্ত খাদ্য আছে। দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি এটা বৈশ্বিক সমস্যা। ধৈর্য্যের সাথে মোকাবিলা করতে হবে। কোন হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সরকার কৃষকদের বীজ, সার কৃষি যন্ত্রপাতি ভর্তুকি দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। সুতরাং আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে খাদ্যের সমস্যা হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষ হাতে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন।

প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম আরও বলেন, মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি খুবই দুঃখজনক। এটা নিয়ে আমি ব্যক্তিগত ভাবে খুবই ব্যথিত। এ বিষয়ে দেশের আলেম ও মুসলিম সমাজ প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন। কটুক্তিদের বিচার হোক এটা সবাই চায়। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যাকে প্রতিবাদ ও আন্দোলনের সুযোগে কোন মহল উস্কানীমূলক কিছু করতে না পারে। সেদিকে সকলের নজর রাখতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমানে মোবাইল ফোনের প্রতি ঝুঁকছে ছেলে মেয়েরা। তবে অতিরিক্ত বা অপব্যবহার করা যাবে না। কাজের ক্ষেত্রে যতটুকুু প্রয়োজন ততটুকুই ব্যবহার করতে হবে। আর সকল অভিভাবকরা আপনাদের ছেলে মেয়েদের প্রতি খেয়াল রাখবেন তারা যেন ঠিক মত লেখাপড়া করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকার প্রচুর পরিমাণে উন্নয়ন করছেন। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ভবন করছেন। আমিও মতলব উত্তরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে সহযোগিতা করবেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল।

এমপি নুরুল আমিন রুহুল বলেন, শিক্ষার মান শতভাগ বৃদ্ধির জন্য অভিভাবক সমাবেশের প্রতি জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে প্রতি মাসে করতে না পারলেও কমপক্ষে তিন মাস অন্তর অন্তর এ অভিভাবক সমাবেশ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন জাতি গঠনের আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠায় আমরা সবাই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

দূর্গাপুর জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সিঙ্গাপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল হাসান, এএসপি মতলব সার্কেল ইয়াসির আরাফাত।

উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব অ্যাড. আক্তারুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম লস্কর, মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লার সাবেক পরিদর্শক আ. মোতালেব হোসেন মিয়াজি, দূর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলম প্রধান, দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জামাল হোসেন চৌধুরী, দূর্গাপুর জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য ওবায়েদ উল্লাহ হাওলাদার, কো-অপ সদস্য সুজন খান, প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার সূত্রধর, শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান।

শেয়ার করুন: