সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় বোগদাদ ও রিলাক্স বাসের ২ চালক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সড়কে প্রতিবন্ধকতা করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করায় চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ চাঁদপুর থেকে কুমিল্লাগামী যাত্রীবাহী বোগদাদ ও রিলাক্স বাসের দুই চালককে আটক করেছে।

জানা যায়,২১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর থেকে যাত্রীবাহী বোগদাদ ও রিলাক্স বাস দুটি চাঁদপুর পৌর বাস টার্মিনাল থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এ দুটি বাস ২/১ মিনিট আগে স্ব-স্ব স্থান থেকে ছেড়ে গিয়ে ষোলঘর এলাকা থেকে সড়কে প্রতিযোগিতা শুরু করে। তারা বেপরোয়া ড্রাইভিং করে কে কার আগে যাবে এবং যাত্রী বাসে তুলবে এ নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।

এক পর্যায়ে উভয় বাস ওয়্যারলেস বাজার মোড় এলাকায় গিয়ে যাত্রীদের বসিয়ে রেখে দীর্ঘ সময় ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। দুটি বাসের কারণে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় ঝগড়া করায় পুরো সড়কে দীর্ঘ যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

এই সময়ে উক্ত স্থানে মডেল থানার এসআই আওলাদ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ডিউটিতে ছিলেন। বিষয়টি এসআই আওলাদের নজরে এলে তিনি সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স ও ট্রাফিক পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে রিলাক্স বাস ও বোগদাদ বাসের চালককে আটক করেন। বাস দুটিকে সড়ক থেকে সরিয়ে পাশে রেখে যানবাহন চলাচলে সড়কটি খালি করে দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, বাস দুটিতে থাকা যাত্রীদের স্ব-স্ব স্থানে যেতে প্রয়োজনীয় পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়।

এই ঘটনা দেখে স্থানীয় জনগণ ও উপস্থিত জনসাধারণ চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের এসআই আওলাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক এসআই আওলাদ হোসেন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রশিদকে অবহিত করেন।

চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক রিলাক্স বাস ও বোগদাদ বাস কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ঘটনার বিষয়টি অবহিত করেন। একই সাথে তিনি জেলা বাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক সমিতিকে বিষয়টি জানান এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা অবহিত করেন।

এদিকে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও যানবাহন বেপরোয়া পরিচালনার বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কোনো ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর আমরা কত কিছুর ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কিন্তু ঘটনার পূর্বে আমরা কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার বাড়ছে।

প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার বিষয়ে তিনি বলেন,আমার দায়িত্ব জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানো। তাই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাস শ্রমিক ইউনিয়ন,মালিক সমিতি ও স্ব-স্ব পরিবহন কর্তৃপক্ষ পুলিশের সাথে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছে।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *