হাজীগঞ্জে একই দিনে ২ তরুণীর মরদেহ উদ্ধার

হাজীগঞ্জে একইদিনে ২ তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রুনা আক্তার (২২) ও মঙ্গলবার সকালে বাবার বাড়ি থেকে খাদিজা আক্তার বিথি (১৯) নামের দুই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উভয় মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। উভয় মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্যে চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রুনা আক্তার উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বেলঘর গ্রামের মোঃ ইউসুফ আলীর স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি কচুয়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামে এবং খাদিজা আক্তার বিথি কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে স্বামীর বাড়িতে ১টার দিকে রুনা আক্তার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে তার শ^শুর ও শাশুড়ি। এ সময় কর্মরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করে।

খবর পেয়ে রুনা আক্তারের বাবার বাড়ির লোকজন হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে রুনাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ আনেন। পরে থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ আল-আমিন নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

অপরদিকে মঙ্গলবার সকাল উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে বাবার বাড়ির নিজ বসতঘরের আঁড়ার সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে খাদিজা আক্তার বিথি। এরপর পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ মহসিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহতের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

বিথির বাবা জানান, এক প্রবাসীর সাথে গত বছর মেয়ের বিবাহের কথা সম্পন্ন হয়েছে। ওই ছেলে আগামী ১০ তারিখ দেশে আসার কথা। আমরা সবাই (পরিবারের লোকজন) বিবাহের আনুষঙ্গিক কেনাকাটা শুরু করেছি। আজ সকালে আমি হাজীগঞ্জ বাজারে আসার পর তার (মেয়ে) মারা যাওয়ার খবর জানতে পারি।

তিনি বলেন, জানামতে মেয়ের কোনো সমস্যা ছিলনা। সব কিছু ঠিক চলছিলো। তারপরও কেনো সে ফাঁস দিলো বুঝে উঠতে পারছি না।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, দুই তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত শেষে স্ব স্ব পরিবারের নিকট হস্তান্তর এবং পৃথক অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শেয়ার করুন: